ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। —ফাইল চিত্র।
ইরানের উপর আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলি হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানে বিক্ষোভ ঠেকাতে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের সরকার। এ বার পাক সেনা সর্বাধিনায়ক ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সরাসরি হুমকি দিলেন ইরানপন্থী শিয়া ধর্মগুরুদের। তাঁর মন্তব্য, ‘‘যাঁদের ইরানের প্রতি এত দরদ, তাঁরা যেন সে দেশেই চলে যান।’’
সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানে শিয়াদের উপর নিপীড়নের অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। শিয়া পড়শি-রাষ্ট্র ইরানের সঙ্গেও তাদের টানাপড়েনের ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কোনও পাক সেনাকর্তাকে এ ভাবে খোলাখুলি শিয়া ধর্মগুরুদের হুমকি দিতে শোনা যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর আমেরিকা-ইজ়রায়েলের হামলা এবং শিয়াদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ একাধিক প্রথম সারির নেতা-সেনাকর্তার মৃত্যুর জেরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পাকিস্তানে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই এমন হুমকি দিয়েছেন ফিল্ড মার্শাল মুনির।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে পাকিস্তানের শিয়া ধর্মগুরুদের একাংশ খোলাখুলি ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার ডাক দিয়েছিলেন। তাঁদের উদ্দেশে মুনিরের সতর্কবার্তা— “অন্য কোনও দেশের কোনও ঘটনার ভিত্তিতে পাকিস্তানে হিংসা সহ্য করা হবে না।’’ পাক সেনা সর্বধিনায়কের ওই মন্তব্যের জবাবে শিয়া ধর্মগুরু মহম্মদ শিফা নাজাফি বলেন, ‘‘কিছু ঘটনার জন্য সব শিয়াকে দায়ী মনে করবেন না। সকলকে একই দলে ফেলা ঠিক নয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতেও অনেক শিয়া রয়েছেন। এই দেশটির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কায়েদ-ই-আজম (মহম্মদ আলি জিন্না)। যিনি নিজেও একজন শিয়া ছিলেন।’’
প্রসঙ্গত, সুন্নি গরিষ্ঠ পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ শিয়া। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে তাঁদের বড় অংশই মার্কিন বিরোধী বিক্ষোভে নেমেছিলেন। করাচিতে বিক্ষোভকারীরা কনসুলেটে হামলা চালালে সেখানে মোতায়েন মার্কিন মেরিন বাহিনী গুলি চালায়। এতে অন্তত ১০ জন নিহত হন। শিয়া ধর্মগুরু ও পড়ুয়াদের মিছিল ইসলামাবাদের কূটনৈতিক এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করা জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানো গ্যাস ব্যবহার করেছিল। গিলগিট-বালটিস্তানের স্কার্দুতে বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি দফতরে আগুন ধরিয়ে দেন। সেখানে পুলিশের গুলিতে কয়েক জনের মৃত্যু হয়। পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কিছু এলাকাতেও হিংসাত্মক হয়ে উঠেছিল আমেরিকা বিরোধী বিক্ষোভ।