sleeping disorder

রোজ রাতে ঘুম ভাঙছে? জীবনধারায় ৩টি ভুলের কারণেই বাড়ছে সমস্যা

ঘুম না ভাঙলে ঠিক আছে। কিন্তু এক বার উঠলে আর ঘুম আসতে চাইছে না। দিন দিন কেন বাড়ছে ঘুমের সমস্যা?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১০
দিন দিন কেন বাড়ছে ঘুমের সমস্যা?

দিন দিন কেন বাড়ছে ঘুমের সমস্যা? ছবি: সংগৃহীত।

রাতে ঘুমের মাঝে এমনিতে ওঠেন না। কিন্তু এক বার প্রস্রাব করতে উঠলে আর ঘুম আসতে চায় না। ঠায় ঘরের ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় বেশ কিছু ক্ষণ। এই সমস্যায় এক বারও পড়েননি এমন মানুষ বোধ হয় কমই আছেন। কিন্তু এমনটা হওয়ার কারণ কী?

Advertisement

‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ’-এর গবেষণা বলছে, রাত ২টো থেকে ৩টের মধ্যে ঘুম ভেঙে যাওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। অনেকেরই এমন হয়। তবে লাগাতার যদি এমন হতে থাকে তখন সেটি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ওই সময়ে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে অনেকের। তা ছাড়া নানা রকম হরমোনের ক্ষরণ শুরু হয় রাত ২টো থেকে ৩টের মধ্যেই। বিশেষ করে ‘স্ট্রেস হরমোন’ কর্টিসোলের ক্ষরণ বাড়ে ওই সময়টাতেই। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, কর্টিসোলের মাত্রা সারা দিন কম থাকে, মধ্যরাতের পর থেকে ধীরে ধীরে তার ক্ষরণ বাড়ে। যাঁরা খুব বেশি মানসিক চাপে থাকেন অথবা উদ্বেগে ভোগেন, তাঁদের এই হরমোন ক্ষরণের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই ওই সময়টাতেই ‘স্লিপ সাইকেল’-এ বদল আসে। ফলে ঘুম ভেঙে যায়।

অনেকের আবার বার বার প্রস্রাবের ঠেলায় রাতের ঘুমের বারোটা বাজে। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে না, তাই সারা দিন থাকছে ক্লান্তি। সারা ক্ষণ মেজাজ বিগড়ে থাকছে। চিকিৎসার পরিভাষায় একে বলে ‘নকচুরিয়া’। অর্থাৎ একাধিক বার প্রস্রাবে যাওয়ার জন্য রাতে ঘুম নষ্ট। এর পিছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। চল্লিশের কোঠায় অনেক পুরুষই এই সমস্যার সম্মুখীন হন। পঞ্চাশের পর থেকে এই সমস্যা আরও বাড়ে। চা, কফি কিংবা অ্যালকোহল বেশি খেলেও রাতে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়তে পারে। কর্মসূত্রে অনেককেই রাত জেগে কাজ করতে হয়। বডি ক্লক পরিবর্তন হলেও নকচুরিয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়।

রাতে শোয়ার আগে বেশি ভাজাভুজি বা তেলমশলা দেওয়া খাবার খেলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স হতে পারে। সে কারণেও ঘুম ভাঙতে পারে। তা ছাড়া যদি কেউ শুয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল দেখেন বা অন্ধকার ঘরে মোবাইল বা ল্যাপটপে সিনেমা দেখেন, তা হলে বৈদ্যুতিন ডিভাইস থেকে বেরোনো নীল আলো রেটিনার যেমন ক্ষতি করবে, তেমনই ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণেও তারতম্য হবে। ফলে ঘুম ভেঙে যাবে বার বার।

সে কারণেই রাতে শোয়ার আগে মেডিটেশন বা ধ্যান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেটি নিয়মিত করলে উদ্বেগ কমবে, ঘুমও ভাল হবে। অন্তত ১৫ মিনিট ধ্যান অভ্যাস করতে পারলে ভাল হয়। আর শুতে যাওয়ার অন্তত ঘণ্টা দুয়েক আগে রাতের খাবার খেয়ে নিতে হবে। এতে হজমে গোলমাল হবে না, ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটবে না।

Advertisement
আরও পড়ুন