Childhood diabetes

শৈশবে হবে ডায়াবিটিসের পরীক্ষা, ছোটদের মধুমেহ নিয়ন্ত্রণে কী কী জরুরি জানাল স্বাস্থ্য মন্ত্রক

শিশু ও কিশোরদের টাইপ-১ ডায়াবিটিস চিকিৎসায় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ছোটদের ডায়াবিটিস হলে তা কী ভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে, কেমন হবে তার চিকিৎসা, সে সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ১২:৫১
India Rolls Out First National Guidelines for Childhood Diabetes Care

শিশুদের ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে নয়া নির্দেশিকা স্বাস্থ্য মন্ত্রকের। ফাইল চিত্র।

ভিত যদি মজবুত না হয়, অচিরেই সে বাড়িতে ফাটল ধরবে! মানুষের শরীরস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এর অন্যথা ঘটে না। অনেক সময়ে দেখা যায়, জন্মের পরে শিশু একটু বড় হতেই তার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। কারও শরীরের যথাযথ বৃদ্ধি হচ্ছে না, কারও আবার অস্বাভাবিক স্থূলতা, ওজন বাড়ছে মাত্রাছাড়া ভাবে। আর সবচেয়ে ভয়াবহ হল ডায়াবিটিস। অনেক শিশু ছোট থেকেই ডায়বিটিসের শিকার হয়। কেউ জন্মগত ভাবে জুভেনাইল ডায়াবিটিসে ভোগে আবার কেউ পরবর্তী সময়ে টাইপ ১ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত হয়। শিশুর ডায়াবিটিস এখন বিশ্ব জুড়েই চিন্তার বিষয়। তাই এই সমস্যাটির সমাধানে নতুন পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ছোটদের ডায়াবিটিস হলে তা কী ভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে, কখন পরীক্ষা করাতে হবে, চিকিৎসাই বা কেমন হবে, এই সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি হয়েছে।

Advertisement

শিশুর ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে নির্দেশিকা

শিশুর ডায়াবিটিস শনাক্তকরণে অনেকটাই দেরি হত আগে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুটি জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরে হয়তো জানা যেত, সে ডায়াবিটিসে আক্রান্ত। এই পরিস্থিতিরই বদল হতে পারে এ বার। ‘রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রম ২.০’-এর অধীনে নতুন রূপরেখায় নবজাতক থেকে ১৮ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের স্ক্রিনিং বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে।

রোগটি যাতে একেবারে গোড়াতেই ধরা পড়ে সে জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের সচেতন করতে মূল ৪টি লক্ষণে নজর দিতে বলা হয়েছে— ১) শিশু ঘন ঘন প্রস্রাব করছে কি না, ২) শিশু স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি জল পান করছে কি না বা বারে বারেই তার জল পিপাসা পাচ্ছে কি না, ৩) ক্লান্তি বেড়েছে কি না এবং ৪) কোনও কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাচ্ছে কি না। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে এই চার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করেই রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে।

ডায়াবিটিস রোগ মূলত দুই ধরনের হয়, টাইপ-১ ও টাইপ-২। টাইপ ১ ডায়াবিটিস মূলত জিনগত সমস্যার কারণে হয়ে থাকে এবং ছোটদেরই বেশি হয়। একে অটোইমিউন রোগ বলা হয়। অগ্ন্যাশয়ে অবস্থিত ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাওয়ার ফলে, ইনসুলিনের উৎপাদন একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। সে অবস্থাকে বলা হয় টাইপ-১ ডায়াবিটিস। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শিশুর টাইপ ১ ডায়াবিটিস ধরা পড়লে তার চিকিৎসার বিষয়ে বেশি জোর দেওয়া হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে ইনসুলিন ও ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা হবে।

জেলা হাসপাতাল এবং সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে শিশুর ডায়াবিটিসের চিকিৎসায় বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। সারা দেশের স্কুল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে নিয়মিত স্ক্রিনিং ক্যাম্প করা হবে।

আশা কর্মী এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যাতে তাঁরা এলাকাভিত্তিক সমীক্ষা করতে পারেন। কোন এলাকায় শিশুরা বেশি আক্রান্ত, তার রিপোর্ট তৈরি হবে। প্রতিটি শিশুর জন্য ডিজিটাল হেল্‌থ কার্ড থাকবে, যাতে দেখা যাবে শিশুটি কোন বয়সে কী ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়েছিল ও তার চিকিৎসা কী কী হয়েছে।

‘রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রম’-এ আগে জন্মগত ত্রুটি, অপুষ্টি এবং বিকাশজনিত সমস্যার উপর জোর দেওয়া হত। এখন তার পরিধি আরও প্রসারিত করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। জীবনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত রোগ, যেমন ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপকেও এখন এর আওতায় আনা হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন