Prostate Cancer Treatment

প্রস্টেট ক্যানসার কি নির্মূল হবে? নতুন চিকিৎসা এল দেশে, খুঁজে খুঁজে ধ্বংস করবে টিউমার কোষ

প্রস্টেট ক্যানসার নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। বিশ্ব জুড়ে প্রায় ৬ শতাংশ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হন। ভারতে গড়ে প্রতি ১ লক্ষ পুরুষের মধ্যে ১০ জন এতে আক্রান্ত হন। ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লে তার নিরাময়ের সম্ভাবনাও খুব কম।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ১২:৩৮
প্রস্টেট ক্যানসারের উন্নত চিকিৎসা এল দেশে, বাঁচার আশা আরও বাড়বে রোগীদের

প্রস্টেট ক্যানসারের উন্নত চিকিৎসা এল দেশে, বাঁচার আশা আরও বাড়বে রোগীদের গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

প্রস্টেটের সাধারণ সমস্যা আর ক্যানসার এক নয়। পুরুষদের বয়সকালে প্রস্টেটের নানা সমস্যা হয়েই থাকে। যেমন, প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি, প্রস্টেটাইটিস। এগুলি নিয়ে তেমন চিন্তার কারণ নেই। যা নিয়ে চিন্তা বেশি, তা হল প্রস্টেটের ক্যানসার। বয়স ৫০-এর কোঠা পেরোলে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। এ দেশের পুরুষদের মধ্যে প্রস্টেট ক্যানসারের হার কম নয়। তাই উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ আছে। প্রস্টেট ক্যানসার খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এই ক্যানসারকে রোখা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। ক্যানসার প্রতিরোধ করতে নানা রকম চিকিৎসা আছে দেশে। তবে সম্প্রতি নতুন এক চিকিৎসা এসেছে যার নাম ‘রেডিয়োলিগ্যান্ড থেরাপি’। চিকিৎসকেরা যাকে বলছেন ‘স্মার্ট রেডিয়েশন’।

Advertisement

কী এই রেডিয়োলিগ্যান্ড থেরাপি?

এমন এক ধরনের চিকিৎসা, যেখানে রোগীকে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে বিশেষ এক প্রকার ওষুধ দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে তেজস্ক্রিয় উপাদানও ঢোকানো হবে শরীরে। ওষুধটি হবে অ্যান্টিবডি বা পেপটাইড, যা ক্যানসার কোষের সঙ্গে আটকে যাবে এবং তেজস্ক্রিয় উপাদানটি ক্যানসার কোষকে ছড়িয়ে পড়তে বাধা দেবে। এই বিশেষ ধরনের থেরাপির নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্লুভিক্টো’। সুইৎজ়ারল্যান্ডের বায়োটেকনোলজি সংস্থা নোভার্টিস এই থেরাপিটি ভারতে নিয়ে এসেছে।

সাধারণত প্রস্টেট ক্যানসার ধরা পড়তে অনেক দেরি হয়। কিন্তু তা অন্যান্য ক্যানসারের চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, যে সব রোগীদের ক্যানসার প্রস্টেট ছাড়িয়ে অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়েছে এবং কেবল কেমোথেরাপিতে কাজ হচ্ছে না, তাঁদের ক্ষেত্রে এই থেরাপির প্রয়োগ হতে পারে। প্লুভিক্টো একধরনের ‘স্মার্ট রেডিয়েশন’, যা কেবল খুঁজে খুঁজে ক্যানসার কোষগুলিকেই ধ্বংস করবে। আশপাশে থাকা সুস্থ কোষে আঁচও পড়বে না।

১) টার্গেটিং মলিকিউল: প্রস্টেট ক্যানসার কোষের উপরিভাগে একটি বিশেষ প্রোটিন থাকে, যার নাম ‘পিএসএমএ’ (প্রস্টেট-স্পেশিফিক মেমব্রেন অ্যান্টিজেন)। প্লুভিক্টো ওষুধের মধ্যে থাকা বিশেষ ওষুধটি (অ্যান্টিবডি) রক্তে মেশার পর সারা শরীরে ঘুরে কেবল ওই প্রোটিনযুক্ত ক্যানসার কোষগুলিকে খুঁজে বার করে তাদের সঙ্গে আটকে যাবে।

২) তেজস্ক্রিয় উপাদান: ওই ওষুধের সঙ্গেই মেশানো থাকবে এক বিশেষ তেজস্ক্রিয় উপাদান। ওষুধটি যখন ক্যানসার কোষের গায়ে আটকে যাবে, তখন তেজস্ক্রিয় উপাদান থেকে তীব্র বিকিরণ শুরু হবে, যা ক্যানসার কোষটিকে ধ্বংস করে দেবে। এই রেডিয়েশন আশপাশের কোষে পৌঁছবে না।

প্লুভিক্টো থেরাপি ইউরোপ, আমেরিকায় জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ভারতে এই থেরাপিটি খুব দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে শুরু করার ব্যবস্থা করছে নোভার্টিস।

Advertisement
আরও পড়ুন