ইউরিক অ্যাসিড থাকলে কি মাছ খাওয়া বন্ধ করতে হবে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
গাঁটে যন্ত্রণা, গোড়ালিতে কিংবা নানা অস্থিসন্ধি ফুলে গিয়ে ব্যথা— এই সব শারীরিক অসুবিধা অনেকের কাছেই নতুন নয়। কর্মব্যস্ত জীবন এবং খাওয়াদাওয়ায় ব্যাপক অনিয়ম যে সব অসুখ ডেকে আনছে, তার মধ্যে অন্যতম হল রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। খাবার হজমের পর শরীরে এই অ্যাসিড তৈরি হয়। মাত্রাতিরিক্ত প্রোটিন খেলে বা ওজন বেড়ে গেলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড শরীরের অস্থিসন্ধি ও মূত্রনালিতে জমা হতে শুরু করে। জমতে থাকা ইউরিক অ্যাসিড ক্রিস্টালের আকার নেয়। এটি গাঁটে ব্যথা ও প্রস্রাবের সংক্রমণ ডেকে আনে। ইউরিক অ্যাসিড থাকলে খাওয়াদাওয়া নিয়েও নানা রকম বিধিনিষেধ মানতে হয়। অনেক রোগীই বুঝতে পারেন না, কী খাওয়া উচিত আর কোনটি খাওয়া যাবে না।
সাধারণত যে সব খাবারে পিউরিনের মাত্রা বেশি থাকে, যেগুলির মধ্যে নাইট্রোজেন যুক্ত যৌগ থাকে, যা ভেঙে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়— ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে সেগুলি এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। বাঙালির রোজের ডায়েট মাছ ছাড়া অচল। মাছের মধ্যে আবার অনেক বাড়িতেই রুই, কাতলা মাছ বেশি রান্না করা হয়। তবে মাছেও কিন্তু পিউরিন থাকে। তবে কি ইউরিক অ্যাসিড থাকলে মাছ খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে?
যে সব খাবারে প্রতি ১০০ গ্রামের মধ্যে ১০০ মিলিগ্রামের নীচে পিউরিন থাকে, সেগুলির ক্ষেত্রে বলা হয় পিউরিনের মাত্রা কম। ১০০ মিলিগ্রামের বেশি হয়ে গেলেই ধরে নেওয়া হয় সেগুলিতে উচ্চ মাত্রায় পিউরিন রয়েছে। পুষ্টিবিদ শ্বেতা চক্রবর্তীর বলেন, ‘‘মদ্যপান করলে, অতিরিক্ত তেল-মশলাদার খাবার খেলে, মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এবং অতিরিক্ত রেড মিট খেলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কিংবা জিনগত কারণেও ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়তে পারে। ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমাতে হলে রোগীদের সাধারণত ‘লো পিউরিন ডায়েট’-এ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। মাছ খুবই উপাদেয় খাবার, ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আর প্রোটিনের ভাল উৎস। মাছে অবশ্যই পিউরিন থাকে। তবে রুই বা কাতলা মাছে পিউরিনের মাত্রা অনেকটাই কম থাকে। তাই ইউরিক অ্যাসিড থাকলেও রোজের ডায়েটে রুই, কাতলার মতো কম পিউরিন আছে এমন মাছ রাখা যেতেই পারে। তবে সেই মাছ তেল-মশলা দিয়ে কষিয়ে রান্না করলে হবে না। আর মাছের পরিমাণের দিকেও নজর রাখতে হবে। খুব বড় মাছের টুকরো না খেয়ে মাঝারি মাপের ১ পিস মাছ রোজের ডায়েটে রাখলে ক্ষতি হবে না।’’
১০০ গ্রামের রুই, কাতলা মাছে সাধারণত ৫০-৭০ মিলিগ্রাম পিউরিন থাকে। তাই এই মাছ খেলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি কম। এ ছাড়া ভেটকি, পুঁটি, মৌরলা, ইলিশ মাছেও কম মাত্রায় পিউরিন থাকে। অন্য দিকে পমফ্রেট, চিংড়ির মতো মাছে উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন থাকে। সেগুলি এড়িয়ে চলাই ভাল।