Pickles for weight loss

জাপানি আচার খেয়ে রোগা হওয়া যায়! বাড়িতে কী ভাবে বানিয়ে ওজন কমাবেন, জেনে নিন

বয়ামে রাখা শখের আচার খেয়ে রসনাতৃপ্তি হচ্ছে ঠিকই, তবে তাতে ওজন কমবে না। কিন্তু এমন আচার যদি থাকে যা মন ভরাবে, আবার ওজনও কমাবে, তা হলে কেমন হয়!

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:২২
Japanese pickle recipes which are helpful to reduce body fat

এমন আচার খেলে ওজন কমবে, কী ভাবে বানাবেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

দুপুরের রোদে বারান্দায় সার দিয়ে আচারের বয়াম সাজিয়েছেন। আম, লেবু বা কুলের আচারের গন্ধে চারদিক ম-ম করছে। রুটি, পরোটা হোক বা ভাতের পাতে একটু আচার থাকলে খাওয়া জমে যায়। এক সময়ে মা-ঠাকুরমাদের হাতের আচারের স্বাদ হত অনবদ্য। অবশ্য এখন তেমনই রেসিপিতে নানা রকম আচার বিক্রি হয় বাজারেও। তবে সে সব কেবলই রসনাতৃপ্তির জন্য। ধরুন, এমন আচার যদি থাকে যা খেলে মনও ভরবে আবার ওজনও কমবে, তা হলে কেমন হয়? জাপানিরা তৈরি করেন এমন আচার।

Advertisement

জাপানে আচারকে বলে ‘সুকোনোমোনো’, যা কেবল স্বাদের জন্য নয়, হজমশক্তিও বৃদ্ধি করে। জাপানি আচারে সাধারণত তেল ব্যবহার করা হয় না, বরং ভিনিগার, নুন ও সয়া সস ব্যবহার করা হয়। কম ক্যালোরির প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ এমন আচার খেলে ওজন কমতে বাধ্য।

সুনোমোনো

এটি এক ধরনের শসার আচার। জাপানে এই আচার ডায়েটের জন্য খাওয়া হয়। এটি হজমশক্তি বৃদ্ধি করে, পেটের সমস্যা দূর করে। আচারটি তৈরি করা হয় শসা, সাদা ভিনিগার ও মধু দিয়ে। শসা পাতলা আর গোল টুকরো করে কেটে নেওয়া হয়। এ বার নুন মাখিয়ে মিনিট দশেক রেখে জল চিপে বার করে দেওয়া হয়। একটি বয়ামে শসার টুকরোগুলি রেখে তাতে ভিনিগার, আদা কুচি ও মধু মিশিয়ে ঢাকনা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই আচার খাবারের সঙ্গে খেলে অতিরিক্ত ক্যালোরি দূর হবে এবং ওজনও কমবে।

গারি বা বেনি শোগা

কচি আদা পাতলা করে কেটে তাতে ভিনিগার, নুন ও মধু মিশিয়ে টক-মিষ্টি এক রকম আচার তৈরি হয় জাপানে। গোলাপি রঙের সেই মিষ্টি আচার সুশির সঙ্গে খাওয়া হয়। একে জাপানিরা বলেন গারি। অনেকে আদার টুকরোগুলি হালকা ভাপিয়ে নিয়ে জল ঝরিয়ে তাতে ভিনিগার ও মধু মিশিয়ে বয়ামে রেখে দেন। দিন কয়েক পরে আচারের রং গোলাপি হলে, তখন খাওয়া শুরু করেন।

বেনি শোগাও আদা দিয়ে তৈরি করা হয়, তবে এর সঙ্গে উমেজু বা লাল রঙের ভিনিগার মেশানো হয়। এই আচারের রং হয় লাল। এটিও হজমে সহায়ক।

উমেবোশি

জাপানে এই আচার বেশ জনপ্রিয়। এটি খেলে নাকি শরীর থেকে অতিরিক্ত চর্বি, টক্সিন বেরিয়ে যায়। কচি কুল বা আলুবোখরা দিয়ে এই আচার তৈরি হয়। ফলগুলি ভাল করে ধুয়ে নিয়ে তাতে সৈন্ধব লবণ মিশিয়ে বড় বয়ামে পাথর চাপা দিয়ে রাখা হয়। কয়েক সপ্তাহ পর ফল থেকে রস বার হলে তাতে এক রকম পাতা মিশিয়ে কড়া রোদে রেখে দেওয়া হয়। এটি খেতে টক-নোনতা হয়। এই আচারের গুণ অনেক। ওজন কমায়, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে, হজমশক্তিও বৃদ্ধি করে।

নামাসু

সাদা মুলো বা গাজর দিয়ে তৈরি করা হয় এমন আচার। মুলো বা গাজর পাতলা ও লম্বা করে কেটে নেওয়া হয়। টুকরোগুলি ধুয়ে নিয়ে তাতে নুন মাখিয়ে মিনিট পনেরো রাখা হয়। জল বেরিয়ে গেলে টুকরোগুলি ভিনিগারে ভিজিয়ে ফ্রিজে রেখে দেওয়া হয়। অন্তত ঘণ্টা দুয়েক পরে সেটি খাওয়ার যোগ্য হয়। এমন আচার প্রোবায়োটিকে সমৃদ্ধ, ওজন কমাতেই এটি খাওয়া হয়।

Advertisement
আরও পড়ুন