পঁয়তাল্লিশেও স্বাভাবিক ভাবে মা হতে পারেন, এগোতে হবে সঠিক পথে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
মেয়েরা কুড়িতেই বুড়ি, এ ধারণা এখন সেকেলে। একটা সময়ে মনে করা হত কুড়ির কোঠাই মাতৃত্বের জন্য সেরা সময়। ধীরে ধীরে সে পরিধি বড় হয়েছে। ত্রিশ বা পঁয়ত্রিশে পৌঁছেও মা হওয়া যায় তা মহিলারা বিলক্ষণ বুঝেছেন। কারণ চিকিৎসা অনেক আছে, উপায়ও আছে বিস্তর, তাই বেশি বয়সে মা হওয়াটা যে আর অস্বাভাবিক বা অসম্ভব নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে বয়স যদি হয় চল্লিশ বা পঁয়তাল্লিশ? এই বয়সেও কি মা হওয়া যায়?
উদাহরণ আছে অনেক। সঙ্গে প্রশ্নচিহ্নও। বলিউড অভিনেত্রী করিনা কপূর চল্লিশে মা হয়েছেন, ক্যাটরিনা কইফ বিয়াল্লিশ বছর বয়সে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন বলে আর পাঁচজন মহিলাও কি তা পারবেন, প্রশ্ন সেখানেই। তবে ভাববেন না, যে ওঁরা সকলে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢেলে তবে এই বয়সে সন্তানের মুখ দেখেছেন। এমন ধারণা করা ভুল। মাতৃগর্ভ জানে না যে, কে বিখ্যাত আর কে নয়! কাজেই বয়স পঁয়তাল্লিশ তো কী হয়েছে! মা হতে পারেন স্বাভাবিক ভাবেই। চল্লিশ পেরিয়ে আরও এক বার ভেবে দেখতে পারেন মা হওয়ার কথা।
খলনায়ক বয়স নয়, জরায়ুই আসল হোতা
মধ্য-চল্লিশে সন্তান! ভাবনাটাই অবাস্তব মনে হত এতদিন। আসলে একটি মেয়ের শরীর কিন্তু সে ভাবেই প্রস্তুত থাকে। রজোনিবৃত্তি যত দিন না আসছে, এবং জরায়ুর কার্যক্ষমতা ও ডিম্বাণুর সংখ্যা ঠিক থাকছে, তত দিন অবধি একজন মহিলা স্বাভাবিক ভাবেই মাতৃত্বের স্বাদ পেতে পারেন। তা সে চল্লিশে হোক বা পঞ্চাশে। বয়স সেখানে শুধু একটা সংখ্যামাত্র, এমনটাই জানালেন কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালের স্ত্রীরোগ চিকিৎসক ও রিজেনারেটিভ মেডিসিন নিয়ে কর্মরত মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘‘বিদেশে ষাটের পরেও মা হয়েছেন, এমন উদাহরণ আছে। আমার চেম্বারে এমন অনেকেই এসেছেন, যাঁরা ৪২ বছর বা ৪৩ বছরেও মা হয়েছেন আইভিএফ পদ্ধতির সাহায্য ছাড়াই। আসলে সবটাই হরমোনের খেলা। এএমএইচ (অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন) নামে এক বিশেষ হরমোন আড়াল থেকে ডিম্বাণুকে সাহায্য করে যায়। সেই হরমোনের মাত্রা যত দিন ঠিক থাকবে, বুঝতে হবে মা হওয়া অসম্ভব নয়। কাজেই, বয়স বেড়ে যাচ্ছে ভেবে ভয় পেয়ে হা-হুতাশ করার কিছু হয়নি।’’
চল্লিশ পেরিয়ও মা হওয়া যায়। ফাইল চিত্র।
৪৫ বছরে রজোনিবৃত্তি চলে আসবে, এ ধারণাও ভুল। অনেকের ৫৬ বা ৫৭ বছর বয়সেও তা আসে। শারীরিক গঠন ও সক্ষমতার উপর সবটাই নির্ভর করবে। এ বার মনে হতে পারে, শরীর কতটা সক্ষম? তা জানতে জরায়ুর মতিগতি ও হরমোনের ওঠাপড়া বুঝে নিতে হবে। অঙ্কটা জটিল। কষতে পারলেই লাভ।
জরায়ু + হরমোন= মাতৃত্ব
এএমএইচ (অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন) আসলে এক প্রকার প্রোটিন, যা ডিম্বাশয় থেকে ক্ষরিত হয়। ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা কতটা, তাতে কী পরিমাণে ডিম্বাণু মজুত রয়েছে, তা বোঝা যায় এই হরমোনের মাত্রা দেখে। এএমএইচ হরমোনের মাত্রা যদি ২ ন্যানোগ্রাম প্রতি মিলিলিটারে হয়, তা হলে স্বাভাবিক ভাবে মা হতে কোনও সমস্যাই নেই। সাধারণত চল্লিশের পরে এই হরমোনের মাত্রা কমতে থাকে, তবে তা সকলের জন্য নয়। অনেকের ক্ষেত্রে মধ্য-চল্লিশে পৌঁছেও এই হরমোনটির মাত্রা স্বাভাবিক থাকে।
এএমএইচ-এর স্বাভাবিক মাত্রা ১.০ ন্যানোগ্রাম/ মিলিলিটার, এটি সুস্থ ও স্বাভাবিক প্রজননক্ষমতাকে বোঝায়।
এএমএইচ-এর মাত্রা যদি ৩.০ ন্যানোগ্রাম/ মিলিলিটার হয়ে যায়, তা হলে সেটি পিসিওএস (পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম)-এর লক্ষণ।
বেশি বয়সে মা হওয়া যাবে কি না, তা বোঝা যেতে পারে এএমএইচের মাত্রা দেখে। ছবি: ফ্রিপিক।
আবার এএমএইচ-এর মাত্রা যদি ১-২ এর মধ্যে থাকে, তা হলে স্বাভাবিক ভাবে সন্তান আসার সম্ভাবনা কম, সে ক্ষেত্রে ওষুধ খেতে হয়।
হরমোন যদি ১ এর নীচে নেমে যায়, তখনই তা সমস্যার। সে সময়ে ডিম্বাশয়ের অবস্থা ও ডিম্বাণুর পরিমাণ দেখে আইভিএফ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পঁয়তাল্লিশে মা হতে পারবেন কি না, তা বুঝতে তাই এএমএইচ টেস্টটি আগে করিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন কল্যাণীর কলেজ অফ মেডিসিন অ্যান্ড জেএনএম মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও চিকিৎসক মৃগাঙ্কমৌলি সাহা। তিনি জানান, এএমএইচ-এর মাত্রা দেখেই বলা সম্ভব, একজন মহিলা পঁয়তাল্লিশে পৌঁছেও মা হতে পারবেন কি না। যদি হরমোনের মাত্রা কমেও যায়, তা হলেও ওষুধ আছে। বেশ কিছু পরীক্ষাও আছে। চিন্তার কারণ নেই।
অসম্ভব কিছুই নয়
সবচেয়ে আগে দু’রকম টেস্ট করিয়ে নেওয়া খুব দরকার।
১) আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা, যাতে বোঝা যাবে জরায়ু ঠিক কেমন পর্যায়ে রয়েছে এবং ডিম্বাণুর গুণগত মান কেমন।
২) এএমএইচ টেস্ট, এই পরীক্ষা করালে বোঝা যাবে জরায়ুতে কতগুলি ডিম অবশিষ্ট আছে, মা হওয়া সম্ভব কি না।
কোন কোন টেস্ট জরুরি? ফাইল চিত্র।
এর পরে ‘ফলিকিউলোমেট্রি’ পরীক্ষাটি করে দেখতে হবে, ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু ধারণকারী থলি বা ‘ফলিকল’-এর বৃদ্ধি কতটা হয়েছে। যদি দেখা যায় ডিম্বাশয়ে একটি বা একাধিক ফলিকল (ডিম্বথলি) পর্যাপ্ত আকারে পরিপক্ব হয়ে উঠেছে ও তা ১৮ মিলিমিটারের বেশি, তখন ডিম্বাণুগুলি দ্রুত বার করে আনার জন্য এইচসিজি (হিউম্যান কোরিয়োনিক গোনাডোট্রপিন) ইঞ্জেকশন দেওয়া হবে। এই ইঞ্জেকশন দেওয়ার ৩৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা পরে ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশন হবে এবং ডিম্বথলি থেকে ডিম্বাণুগুলি বার হতে থাকবে, যা সন্তানধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করবে। বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসাতেও এই পদ্ধতির প্রয়োগ হয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক মৃগাঙ্কমৌলি।
ফলিকিউলোমেট্রি পরীক্ষার পর স্বাভাবিক ওভুলেশন ঘটিয়ে ডিম্বাণু বার করার প্রক্রিয়া শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই সন্তানধারণের প্রক্রিয়া শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয় ইচ্ছুক দম্পতিকে। বয়স চল্লিশের কম হলে টানা ৬ পর্বে এই চেষ্টা চলে। বয়স চল্লিশের বেশি হলে তিন পর্ব অবধি দেখেন চিকিৎসকেরা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাতেই সাফল্য আসে। তবে এর পরেও যদি স্বাভাবিক ভাবে সন্তান না আসে, তখন আইভিএফ করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবু জটিলতা থাকেই
জরায়ুতে যে ডিম্বাণু তৈরি হয়, তা প্রতি মাসেই নষ্ট হয়ে যায়। বয়স যত বাড়বে ততই এই ডিমগুলির গুণ নষ্ট হতে থাকবে। চাইলেন আর মা হয়ে গেলেন, ব্যাপারটা কিন্তু অত সহজ নয়। কারণ বয়স যত বাড়বে, ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণমানও কমতে থাকবে। আবার ডিম্বাণুর গুণমান ভাল না হলে সন্তানের মধ্যে অস্বাভাবিকত্ব দেখা দিতে পারে। বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে মায়ের স্বাস্থ্যও। চল্লিশ পার হলে তা ‘হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সি’।
জরায়ুর বয়স বাড়ে খুব তাড়াতাড়ি। ছবি: ফ্রিপিক।
জরায়ুর বয়স বাড়ে খুব তাড়াতাড়ি। একে চিকিৎসার পরিভাষায় বলা হয় ‘ওভারিয়ান এজিং’। বাইরে থেকে বোঝা যায় না। শরীরের বয়স যে হারে বাড়ে, তার থেকে অনেক দ্রুত হারে বাড়ে জরায়ুর বয়স। তা ছাড়া, এখনকার আবহাওয়ার পরিস্থিতি, দূষণ, খাবারে ভেজাল, স্থূলত্ব ও জীবনযাপনে অসংযমের কারণে জরায়ুর কর্মক্ষমতা দ্রুত কমে যাচ্ছে। তাই সন্তান যদি বেশি বয়সে নিতে হয়, তা হলে শরীরের দিকেও নজর দিতে হবে। চল্লিশের পরে ওজন দ্রুত বাড়তে থাকে, হরমোনের গতিপ্রকৃতি বদলে যায়। স্থূলত্ব আসে। কাজেই মধ্য-চল্লিশে স্বাভাবিক ভাবে সন্তানধারণের ইচ্ছা থাকলে ওজন কমাতে হবে, নেশার মাত্রা একেবারে কমিয়ে দিতে হবে, নিয়মিত অল্প করে হলেও শরীরচর্চার মধ্যে থাকা জরুরি।
ভ্রান্ত ধারণা আইভিএফ নিয়েও?
মা হওয়া দু’টি বিষয়ের উপর নির্ভর করে— ১) ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা বা ওভারিয়ান ফাংশন এবং ২) এএমএইচ। দুইয়ের মাত্রাই যদি কম থাকে, তা হলে মা হতে সমস্যা হবে।
ডিম্বাণুর আবার দুই বৈশিষ্ট্য— ১) গুণ বা কোয়ালিটি এবং ২) সংখ্যা ও কোয়ান্টিটি। ডিম্বাণুর সংখ্যা তলানিতে মানে সন্তানধারণ সম্ভব নয়, আর গুণগত মান কম মানে গর্ভপাতের আশঙ্কা প্রবল। কাজেই সব ক’টি বিষয় যদি প্রতিকূলে যায়, তখন আইভিএফ করিয়েও লাভ হয় না। মল্লিনাথের বক্তব্য, ‘‘অনেক আইভিএফ ক্লিনিক মুনাফা অর্জনের জন্য বিভ্রান্ত করে। এএমএইচ-এর মাত্রা ১-এর কম, ডিম্বাণুর সংখ্যা খুবই কম ও গুণগত মানও খারাপ, এই সব থাকা সত্ত্বেও বার কয়েক আইভিএফ করানোর পরামর্শ দেয় তারা। আর প্রতি বারই তা ব্যর্থ হয়। এতে যেমন আর্থিক ক্ষতি হয়, তার চেয়েও বেশি হয় শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা।’’ তাই নিজের শরীর নিয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। বেশি বয়সে মা হওয়া অসম্ভব নয়, শুধু শরীর সে ভাবে প্রস্তুত আছে কি না, সেটুকু জেনে নেওয়াটা জরুরি।
ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান বিবেচনা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। ফাইল চিত্র।
চল্লিশের পরে মা হতে হলে যা যা খেয়াল রাখতে হবে
শুরু থেকে চিকিৎসকের কাছে গেলে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা হয়, যাতে মা ও শিশু সুস্থ থাকে। মা শারীরিক ধকল কতটা নিতে পারবেন, সে দিকটাও দেখা জরুরি। এ বিষয়ে অ্যাডভান্সড ল্যাপ্রোস্কোপিক সার্জন অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি স্পেশ্যালিস্ট অভিনিবেশ চট্টোপাধ্যায়ের পরামর্শ, আগে সন্তান এসেছে কি না বা অসুখবিসুখের কোনও পূর্ব ইতিহাস আছে কি না, সেটি এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, রক্তচাপের ওঠাপড়া হতে পারে, তাই কয়েকটি বিষয় দেখে নিতে হবে। যেমন, মায়ের ভেনাস থ্রম্বোসিস (রক্ত জমাট বাঁধা), জেস্টেশনাল ডায়াবিটিস, হাইপারটেনশন ইত্যাদি রয়েছে কি না দেখতে হবে। এই সমস্যাগুলি থাকলে সদ্যোজাতের ক্ষেত্রে প্রিম্যাচিয়োর বার্থ বা সময়ের আগেই প্রসব, ডাউন সিনড্রোম, লো বার্থ ওয়েট ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।
থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া দরকার। মা ও বাবা দু’জনেই যদি বাহক হন, তা হলে ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে শিশুরও থ্যালাসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।
মা ও সন্তানের সুস্থতার জন্য যা যা খেয়াল রাখতে হবে। ছবি: ফ্রিপিক।
এখন এন্ডোমেট্রিয়োসিস, পলিসিস্টিক ওভারির মতো সমস্যা ঘরে ঘরে। তাই মা হওয়ার কথা ভাবলে আগে থেকে এ সবের চিকিৎসা করিয়ে নেওয়া ভাল।
বয়স ৪০ পার করে গেলেই রক্তের ‘এনআইপিটি টেস্ট’ করে নেওয়া হয়। তাতেই ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে বলে দেওয়া যায়, শিশুর ডাউন সিন্ড্রোম হতে পারে কি না।
একান্তই যদি ‘প্রেগন্যান্সি’ না আসে?
নিজের শরীরের ডিম্বাণুর মান খুবই কম থাকলে বা আইভিএফ পদ্ধতি বার বার ব্যর্থ হলে, আরও একটি উপায় আছে। তা হল ডোনার বা দাতার ডিম্বাণু নিয়ে কৃত্রিম পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া। সে ক্ষেত্রে কমবয়সি কোনও মহিলার ডিম্বাণু নেওয়া যেতে পারে। এগ ডোনেশন কঠিন নয়। এতে কিডনি বা লিভার প্রতিস্থাপনের মতো কোনও জটিলতা আসে না। কাজেই দাতার থেকে নেওয়া ডিম্বাণুর সঙ্গে বাবার শুক্রাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ গর্ভে রোপণ করা হয়। এতে মায়ের গর্ভেই বড় হয় সন্তান। কাজেই স্বামী ও স্ত্রী দু’জনের ভূমিকাই থাকে। এতে গর্ভপাত হওয়া বা জন্মগত কোনও ত্রুটি নিয়ে সন্তান জন্মের আশঙ্কা থাকে না। বেশি বয়সে মা হলে যে সব সমস্যা হতে পারে, তার অনেকগুলিরই সমাধান হতে পারে।
এর পরেও যদি নিজের গর্ভে সন্তানধারণে সমস্যা হয়, তা হলে সারোগেসির সাহায্য নেওয়া যেতে পরে। তবে সেখানে অনেক আইনি সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
৪২, ৪৩ বা ৪৪ বছরে মাতৃত্ব এখন আর অসম্ভব কিছু নয়। ইচ্ছা থাকলে এগোনোই যায়। সমস্যা এলেও তা সমাধানের উপায় আছে। হবু মা তাঁর স্বাভাবিক কাজকর্ম, অফিসে যাতায়াত, দৈনন্দিন সব কাজই করতে পারেন। শরীর বুঝে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তাই চল্লিশ পেরোলে ভয় নয়, বরং মাতৃত্বকে সাদরেই গ্রহণ করা যায়।