গৌরব গগৈ। —ফাইল চিত্র।
অসম বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধীদের ভরাডুবির পরেই শুরু হল পারস্পরিক দোষারোপ। কার্যত ভেঙেই গেল বিরোধী ঐক্য। সেই সঙ্গে গৌরব গগৈয়ের উপরেও রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়ারচাপ বাড়ছে।
সরকার গড়ার লড়াইয়ে নেমে মাত্র ১৯ আসনে থেমে গিয়েছে কংগ্রেসের দৌড়। খোদ রাজ্য সভাপতি গৌরব গগৈ যোরহাটে ভোটে হেরেছেন। নির্বাচনের ফলাফলকে “অত্যন্ত হতাশাজনক” বলে বর্ণনা করে পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন সাংসদ তথা লোকসভায় বিরোধী উপ-দলনেতা গৌরব। দলীয় নেতা ও কর্মীদের উদ্দেশে বক্তৃতায় তিনি জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে। এখন সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে যা সিদ্ধান্ত হাইকমান্ড নেবে। তিনি আরও জানান, শোচনীয় ফলাফলের কারণ খুঁজতে ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। প্রাক্তন বিধায়ক, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থী, নবনির্বাচিত বিধায়ক, জেলা স্তরের নেতা ও জ্যেষ্ঠ দলীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালানো হচ্ছে। এক মাসের মধ্যে প্রকৃত কারণ খুঁজে বার করার চেষ্টা হবে।
এ দিকে দলীয় বৈঠকে প্রদেশ মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী মীরা বরঠাকুর বলেন, বিজেপি কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাহুল গান্ধীর ভাবমূর্তি লঘু করতে কাজ করেছে এবং সফল হয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করেন, “হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেছেন, কংগ্রেসের ১৯ বিধায়কের মধ্যে ৬ জন তাঁর বন্ধু। কাজের জন্য হিমন্তর কাছে গেলে বা মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকার কাছে গেলে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু ১৯ বিধায়কের মধ্যে কেউ হিমন্ত বা পীযূষের সঙ্গে গোপন স্বার্থে দেখা করার কথা জানতে পারলেই কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হবে।” তিনি দলে ‘হিমন্ত ঘনিষ্ঠ দালাল’দের চিহ্নিত করার ডাক দেন।
এ দিকে জ্যেষ্ঠ কংগ্ৰেস নেতা রিপুন বরা বরসলায় পরাজয়ের পরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘‘১০ মে সাংগঠনিক পর্যালোচনার পরে অসমে নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে হাইকমান্ড। যদি তারা মনে করে গৌরবকে অপসারণের প্রয়োজন নেই, তবে তিনিই রাজ্য সভাপতি থাকবেন। তবে আমি যখন সভাপতি ছিলাম, কংগ্রেস ৫১ আসন পেয়েও সরকার না গড়তে পারায় তার নৈতিক দায় নিয়ে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলাম হাইকমান্ডের কাছে। গৌরব গগৈ কী করবেন, সেটা তাঁর বিবেচনা।”
বিরোধী জোটে থাকা অসম জাতীয় পরিষদেরও কেউ জেতেনি। সভাপতি লুরিণজ্যোতি গগৈ পরাজয়ের দায় স্বীকার করে বলেন, ‘‘আমরা জনসাধারণের আস্থা লাভ করতে পারিনি। বিরোধী জোট সময় মতো বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে নাপারা ও সাংগঠনিক দুর্বলতারকারণেই হেরেছি।
অপর জোট শরিক, রাইজর দল শিবসাগর ও ধিঙে জিতেছে। তাদের সভাপতি ও শিবসাগরের দুই বারের বিধায়ক অখিল গগৈ বলেন, “কংগ্রেসের কেরামতিতেই বরবাদ হলাম আমরা।”
ভোটে বিরোধীদের মন্দ ফল হওয়ার পর থেকেই অখিল কংগ্রেসের সমালোচনায় সরব। এ বিষয়ে গৌরব পাল্টা বলেছেন, “অখিলের মনেরাখা উচিত, কংগ্রেসের ভোটপেয়েছে বলেই শিবাসগর ও ধিংয়ে রাইজর দলের দুই প্রার্থী জিতেছেন। সকলের নিজের সীমার মধ্যে থেকে মন্তব্য করা ও আত্মসমালোচনাকরা দরকার।”
এ দিকে, এক ষষ্ঠাংশ বিধায়ক থাকলে তবেই কোনও দল প্রধান বিরোধী দল হয় ও তাঁদের কোনও বিধায়ক বিরোধী দলনেতা হন। অসমে এ বার কেউ ২১টি আসন পায়নি। তবে সূত্রের খবর, গণতন্ত্রের স্বার্থে লোকসভার প্রথম স্পিকার গণেশ বাসুদেব মবলঙ্করের প্রস্তুত করা নিয়ম এ বার অসমে ব্যবহার হতে পারে। সেখানে বলা হয়েছিল, বিধানসভায় ১৩ জনের বেশি বিধায়ক থাকা দল থেকে বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়া যেতে পারে। তেমন হলে কংগ্রেসের ১৯ জনের মধ্যে কেউ বিরোধী দলনেতা হতে পারবেন।