Lead in Vegetables

বেগুন, লাউয়ের মতো কাঁচা আনাজে সিসা! রং-রাসায়নিকে সব্জিও বিষ, সতর্ক করলেন বেঙ্গালুরুর গবেষকেরা

সবচেয়ে বেশি বেগুনে, তার পরেই লাউ। কাঁচা সব্জিতে এমন পরিমাণে সিসা মিশছে, যা দেখে চমকে গিয়েছেন বেঙ্গালুরুর গবেষকেরা। রোজের আর কোন কোন সব্জিতে মিশেছে এই ধাতু?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬ ১৬:৩৫
Lead found in everyday vegetables, Bengaluru study raises food safety concerns

রোজের কোন কোন সব্জিতে মিশেছে সিসা? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

বাজার থেকে টাটকা দেখে আনাজ কিনে আনলেন। কিন্তু বুঝতেই পারলেন না, কী পরিমাণে রাসায়নিক ও ভারী ধাতু মিশে রয়েছে সেই সব সব্জিতে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক থেকে কাঁচা আনাজেও মিশছে ধাতু ও রাসায়নিক। রোজের যে সব সব্জি প্রায় সকলের বাড়িতেই আসে, সেগুলিও ক্রমে হয়ে উঠছে বিষাক্ত। এমনই দাবি করেছেন বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের গবেষকেরা।

Advertisement

কোন কোন সব্জিতে মিশছে বিষ?

৭২ রকম কাঁচা আনাজ বাজার থেকে নিয়ে তা পরীক্ষা করে দেখেছেন গবেষকেরা। এর মধ্যে ১৯টিতে কেবল লেড বা সিসার মতো বিষাক্ত ধাতু পাওয়া গিয়েছে। এই রিপোর্ট জমা পড়েছে জাতীয় পরিবেশ আদালতে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাজারে যে সব সব্জি বিকোচ্ছে, সেগুলি পরীক্ষা করে অন্তত ১১ রকম ভারী ধাতু ও ২৩০ রকম বিষাক্ত কীটনাশক খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। যে সব্জিগুলিতে সিসা মিশছে, তার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে বেগুন। এতে সিসার মাত্রা মারাত্মক রকম বেশি। তার পরেই রয়েছে লাউ, বিন, বিট, বাঁধাকপি, ক্যাপসিকাম, কাঁচালঙ্কা, শসা, স্কোয়াশ, পালংশাক, লালশাক ইত্যাদি।

চাষের সময় ব্যবহার করা কীটনাশকের যেটুকু খাদ্যপণ্যে থেকে গেলে শরীরের ক্ষতি হয় না, সেই সর্বোচ্চ সীমা মেনে চলা নিয়ে কঠোর নিয়ম আছে কেন্দ্রের। যে কোনও খাদ্যেই বেশি পরিমাণ কীটনাশকের অবশেষ আছে কি না, তা পরখ করে দেখে খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএসএসএআই (ফুড সেফটি অ্যান্ট স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া)। কিন্তু এর পরেও ফাঁক থেকে যাচ্ছে বলেই দাবি করা হয়েছে। এফএসএসএআই জানিয়েছে, সব্জি চাষে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার হচ্ছে। অজান্তেই এই সব রাসায়নিক ঢুকে যাচ্ছে শরীরে।

সব্জিতে সিসা মিশছে কী ভাবে?

শহরতলির কৃষিজমিতে অনেক সময় কলকারখানার বর্জ্য মিশ্রিত জল বা ড্রেনের জল এসে মেশে। সেই জলে প্রচুর পরিমাণে সিসা থাকে। তা ছাড়া রাস্তার ধারের জমিতে চাষ করলে যানবাহনের ধোঁয়া থেকে নির্গত সিসা মাটিতে মেশে, যা উদ্ভিদ শোষণ করে নেয়।

নিম্নমানের ফসফেট সার এবং কিছু নির্দিষ্ট কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে মাটিতে সিসার পরিমাণ বেড়ে যায়। সব্জির ফলন বৃদ্ধি করতেও এমন কিছু রাসায়নিক মেশানো হয়, যাতে সিসার মতো ভারী ধাতু থাকে।

সিসা এক বার শরীরে ঢুকলে রক্ত ও হাড়ে জমা হতে থাকে। এর প্রভাবে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে। নষ্ট হতে থাকে লিভার, বিকল হতে পারে কিডনি। সিসা শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে বাধা দেয়, ফলে রক্তাল্পতার সমস্যাও বাড়তে পারে। শিশুদের শরীরে দিনের পর দিন সিসা জমা হতে থাকলে তা মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা দেয়। বড়দের ক্ষেত্রে তা প্রজননঘটিত সমস্যা তৈরি করতে পারে।

সিসা মেশানো সব্জি চেনার তেমন কোনও উপায় নেই। জল দিয়ে ভাল করে ধুলেও সিসা যায় না অনেক সময়েই। তাই কাঁচা আনাজ কিনে আনার পরে তা অন্তত ২০-৩০ মিনিট নুন বা ভিনিগার মেশানো জলে ভিজিয়ে রেখে বার বার ধুয়ে নিতে হবে। এতে কিছুটা হলেও সিসা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

Advertisement
আরও পড়ুন