হাঁটতে গেলে পায়ে যন্ত্রণা, গোড়ালিতে ব্যথা কমবে সহজ যোগাসনে। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
পায়ের ব্যথায় ভুগছেন কমবেশি সকলেই। কারও দীর্ঘ সময়ে বসে থেকে পা ফুলে যায়, কারও আবার হিলজুতো পরে গোড়ালিতে ব্যথা হয়। বাত থাকলে তো কথাই নেই, উঠতে-বসতে গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা ভোগায়। পায়ের ব্যথা যে কেবল বয়সকালে ভোগাবে তা নয়। ইদানীং কমবয়সিরাই বেশি ভুগছেন। অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক ভাবে চেয়ারে বসে থাকা, তার উপর হাঁটাহাঁটির অভ্যাসও বিশেষ নেই, দিনভর পা ঝুলিয়ে বসার পরে হাঁটতে গেলেই পায়ের পাতা যেন টনটনিয়ে ওঠে। রাতে শোয়ার পর বোঝা যায় যন্ত্রণা ক্রমেই বাড়ছে। ফুলে উঠেছে গোড়ালি। সকালে ঘুম থেকে উঠেও রেশ থাকে তার। বিছানা ছেড়ে মাটিতে পা ফেলতে গেলেই যেন বিদ্যুতের শক লাগে। আর সিঁড়ি ভাঙতে গেলে তো কথাই নেই। মনে হয়, গোটা পা-ই যেন অসাড় হয়ে যায়। পায়ের ব্যথা কমতে পারে যোগাসনে। তবে নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি অভ্যাস করতে হবে।
কী কী আসন অভ্যাস করবেন?
অধোমুখ শবাসন
অধোমুখ শবাসনকে বলা হয় ‘ডাউনওয়ার্ড-ফেসিং ডগ পোজ়’। এই আসন অভ্যাসে হাত, পা, পেট, কোমর ও নিতম্বের পেশির ব্যায়াম হয়। প্রথমে হাত ও হাঁটুতে ভর করে হামাগুড়ি দেওয়ার মতো করে বসুন। এ বার কোমর ও পিঠ সোজা করে তুলুন। হাতের তালু মাটিতে থাকবে, পিঠ উপরের দিকে তুলতে হবে, পায়ের পাতা মাটি স্পর্শ করে থাকবে। দেখতে লাগবে অনেকটা ইংরেজি ‘ভি’ অক্ষরের মতো। মাথা যতটা সম্ভব মাটির দিকে ঝুঁকিয়ে গভীর ভাবে শ্বাস টানতে ও ছাড়তে হবে। এই ভঙ্গিমায় ২০ সেকেন্ড থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
তাড়াসন
প্রথমে ম্যাটের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ান। পায়ের পাতার মধ্যে দুই ইঞ্চি দূরত্ব রাখুন। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন। হাত দু’টি দু’পাশ থেকে তুলে, কনুই ভাঁজ করে নিয়ে যান মাথার পিছন দিকে। এ বার দু’হাতের আঙুল একত্রিত করুন। হাতের তালু রাখুন মাথার পিছন দিকে। · এ বার শ্বাস নিতে নিতে হাত দু’টি মাথার উপর দিয়ে প্রসারিত করুন। হিল জুতো পরার মতো পায়ের গোড়ালি মাটি থেকে উপর দিকে তুলুন। মাটির সঙ্গে শুধুমাত্র আঙুলের অংশ স্পর্শ করে থাকবে। এই অবস্থায় গোটা শরীরেই টান অনুভব করবেন। ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড এই অবস্থানে থাকুন।
সুপ্ত বীরাসন
প্রথমে ম্যাটের উপর দু’পা সামনের দিকে টানটান করে বসুন। বাঁ হাঁটু ভেঙে গোড়ালির অংশ নিতম্বের নীচে রাখুন। একই ভাবে ডান হাঁটু ভেঙে গোড়ালির অংশ নিতম্বের নীচে রাখুন। মেরুদণ্ড একেবারে সোজা রেখে পিঠের পেশিগুলিকে টান টান করুন। এ বার দুই হাত দু’পাশে রেখে ধীরে ধীরে পিঠ পিছনের দিকে হেলিয়ে দিন। যতটা সম্ভব পিঠ পিছনের দিকে হেলাতে হবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। ২০ সেকেন্ড ওই ভঙ্গিতে থেকে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসুন।