Risk Factor for Kidney

কোমরের নীচ থেকে যন্ত্রণা হচ্ছে? পেশির ব্যথা না কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত, বুঝবেন কী করে

পেশির ব্যথা আর কিডনির সমস্যার লক্ষণ অনেক সময় একই রকম হয়। কোমরের ব্যথাকে আমল না দিলেও হতে পারে বিপদ। কখন সতর্ক হবেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৫০
কোমরের ব্যথা কি কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে, বুঝবেন কী ভাবে?

কোমরের ব্যথা কি কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে, বুঝবেন কী ভাবে? ছবি: সংগৃহীত।

তীব্র না হলে কোমরের যন্ত্রণাকে আমল দেন না অনেকেই। তা ছাড়া, অনেকেই ভেবে নেন বসার দোষে নয়তো কোনও চোট থেকে এমন ব্যথা হচ্ছে। বিশেষত দীর্ঘ সময় টানা চেয়ারে বসে কাজের ফলে পিঠে-কোমরে ব্যথা হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু কোমরের যে ব্যথাকে অবহেলা করছেন, তা আসলে পেশির ব্যথা বুঝবেন কী করে?

Advertisement

হায়দরাবাদের কিডনির চিকিৎসক রতন ঝা জানাচ্ছেন, কোমরের ব্যথাকে পেশির ব্যথা ভেবে ভুল করে বসেন অনেকেই। আসলে কিন্তু তা হতেও পারে কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত। কিডনি মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যঙ্গ। রক্ত থেকে দূষিত পদার্থ ছেঁকে বার করে দেওয়ার কাজটি করে কিডনি। সেই কাজ থমকে গেলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

কিন্তু কিডনির সমস্যার লক্ষণগুলি অনেক সময়েই নিঃশব্দ হয়। কিছু উপসর্গ ধরাই যায় না। তারই মধ্যে একটি হল কিডনির সমস্যা। অনেক সময়েই কোন ব্যথা পেশির আর কোনটি কিডনির সমস্যার ইঙ্গিতবাহী তা চট করে ধরা যায় না। অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরাও কখনও কখনও বিভ্রান্ত হয়ে যান, কারণ দু’টি ব্যথার ধরন অনেকটাই এক।

ক্রমাগত একই জায়গায় ব্যথা, খুব বেশি নয় অথচ হালকা অস্বস্তি, পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, কখনও কখনও স্থানটি খানিক গরম হয়ে যাওয়া পেশির ব্যথার ইঙ্গিতবাহী। সময়ে চিকিৎসা না হলে সাধারণ পেশির ব্যথাও খুব বেশি ভোগাতে পারে। তবে কিডনির ব্যথার ধরনের কিছুটা তফাত থাকে।

চিকিৎসক হিমা দীপ্তি আলা জানাচ্ছেন, কিডনির সমস্যা ব্যথা যেমন তীব্র হতে পারে তেমনই, হালকাও হতে পারে। কিডনির সমস্যা থাকলে যন্ত্রণা ক্রমাগত হতে থাকবে। কমলেও, ফিরে আসবে। কোমরের নিম্নাংশের দিকে যন্ত্রণা হতে পারে, আবার সেই যন্ত্রণা সরতে পারে কোমর থেকে পেটের দিকে একপাশ বরাবর।

কোমরের নিম্নাংশের যন্ত্রণা দীর্ঘক্ষণ টানা বসে কাজের জন্য হতেই পারে। তবে আরও কয়েকটি উপসর্গের দিকে খেয়াল রাখতে বলছেন চিকিৎসকেরা। খেয়াল রাখতে হবে ক্রমাগত ক্লান্ত লাগছে কি না। লক্ষ্য রাখতে হবে প্রস্রাবে। প্রস্রাবের সময় যদি হালকা অস্বস্তিও হয় সচেতন হওয়া জরুরি। প্রস্রাবের রঙে বদল এলে, ঈষৎ লালচে দেখালে, ফেনা হলে বা অন্য রকম গন্ধ বার হলে সতর্ক হতে হবে। তা ছাড়া প্রস্রাবের সময় জ্বালা, ব্যথা হলেও সতর্কতা দরকার।

প্রসাবের রঙে বদল এবং একই সঙ্গে কোমরে যন্ত্রণা হলে একেবারেই দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার। প্রস্রাব পরীক্ষা এবং রক্তপরীক্ষার পাশাপাশি আলট্রা সনোগ্রাফি বা আরও কিছু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিতে পারেন চিকিৎসক। ফলাফলের উপরেই নির্ভর করবে চিকিৎসা।

কিডনির সমস্যায় অনেক সময়েই কোনও উপসর্গ থাকে না। জ্বর বা প্রস্রাবে জ্বালাও থাকে না। আচমকাই কোমরে বা কোমর-পেটের মাঝের অংশে ব্যথা হতে পারে। তা হতে পারে কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ। চিকিৎসকেরা বলছেন, কিডনি এক দিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ভুলেই একটু একটু করে কিডনির ক্ষতি হয়। সেই কারণে কিডনি ভাল রাখা জরুরি। তার জন্য পর্যাপ্ত জল খাওয়া প্রাথমিক শর্ত। একই সঙ্গে কমানো দরকার নুন বা সোডিয়ামের মাত্রা কমানো। টাটকা শাক, সব্জি ফলও কিডনি ভাল রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে মদ্যপান, ধূমপানে কিডনির ক্ষতি হয়। এড়ানো দরকার প্রক্রিয়াজাত খাবার।

Advertisement
আরও পড়ুন