Vaibhav Sooryavanshi

বৈভবের অভিষেকে দেরি করে নিজেদের পায়েই কুড়ুল মারলেন গম্ভীরেরা! বেরিয়ে পড়ল ভারতীয় ব্যাটিংয়ের কঙ্কাল

আইপিএলের পারফরম্যান্সের জেরে ভারতের বড়দের দলে সুযোগ পেয়েছিল বৈভব সূর্যবংশী। কিন্তু প্রথম একাদশে জায়গা হল না তার। এই সিদ্ধান্ত কি ভুল হল গৌতম গম্ভীরদের?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ১৫:১৩
cricket

বৈভব সূর্যবংশী। —ফাইল চিত্র।

তরুণ প্রতিভাকে আগলে রাখার কৌশল অনেক সময়ই মাস্টারস্ট্রোক হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ভারতের সেই সিদ্ধান্ত কি ভুল হল? আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে বৈভব সূর্যবংশীকে আগলে রাখতে গিয়ে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের কঙ্কাল সকলের সামনে বেরিয়ে পড়ল। এতে শুধু এক প্রতিভার অভিষেকে দেরি হল না, ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটিংয়ে কতটা ফাঁক রয়েছে তা গোটা বিশ্বের সামনে চলে এল। সিদ্ধান্ত নিতে কি ভুল করলেন গৌতম গম্ভীরেরা?

Advertisement

বাধ্য হয়েই দলে নিতে হয়েছে বৈভবকে

এই প্রশ্ন উঠছে। আইপিএলে ৭৭৬ রান করে সকলকে ছাপিয়ে কমলা টুপি জিতেছে বৈভব। ক্রিস গেলের রেকর্ড ভেঙে এক মরসুমে ৭২ ছক্কা মেরেছে সে। একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছে ১৫ বছরের ক্রিকেটার। সেই কারণে কি বাধ্য হয়ে বৈভবকে বড়দের দলে নিতে হয়েছিল অজিত আগরকরকে? নইলে নির্বাচক প্রধানের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠে যেত। যদি বৈভবের পারফরম্যান্সের জন্য তাকে নেওয়া হল, তা হলে কেন খেলার সুযোগ দেওয়া হল না?

সবুজ উইকেটে বৈভবকে আগলে রাখার কৌশল

ভারতীয় ম্যানেজমেন্ট বলতেই পারে, আয়ারল্যান্ডের সবুজ উইকেটে শুরুতেই বৈভবকে ঠেলে দিতে চায়নি তারা। কারণ, এই ধরনের উইকেটে সুইং অনেক বেশি থাকে। পেসারেরা অতিরিক্ত বাউন্স পান। বৈভব ভারতের পাটা উইকেটে ঝড় তুলেছে। তাই এই ধরনের উইকেটে ১৫ বছরের এক ব্যাটারকে নামিয়ে দিলে তার আত্মবিশ্বাস ধাক্কা খেতে পারত।

ভারতীয় দলের কথা থেকে সেটাই স্পষ্ট। অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার বলেছেন, “বৈভব দুর্দান্ত ক্রিকেটার। কিন্তু এই দলে এমন অনেক ক্রিকেটার রয়েছে যারা দীর্ঘদিন ধরে ভাল খেলছে। তাদের বসিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। বৈভব ঠিক সময়ে সুযোগ পাবে।”

সিরিজ়ে চুনকাম হয়ে হারের পরেও তাঁদের সিদ্ধান্তে যে কোনও ভুল ছিল না সেই দাবি করেছেন দলের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে। তিনি বলেছেন, “বৈভব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে তৈরি। এতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু সঞ্জু স্যামসনও তো তিন মাস আগে আমাদের বিশ্বকাপ জিতিয়েছে। আইপিএলেও ভাল খেলেছে। ওকেও তো ভরসা দিতে হবে। আমরা সকলেই চাই বৈভব খেলুক। কিন্তু একটা পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে ওর অভিষেক হবে।”

ভারতের টপ অর্ডারের কঙ্কাল সকলের সামনে

কিন্তু যে যুক্তিতে বৈভবকে আয়ারল্যান্ডের সবুজ উইকেটে ঠেলে দেওয়া হয়নি, সেই যুক্তি তো খাটল ভারতের টপ অর্ডারের বেলাতেও। সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিশন। আইপিএলে পাটা, স্পিন সহায়ক উইকেটে যাদের থামানো যাচ্ছিল না, তাঁরাই আয়ারল্যান্ডে লেজেগোবরে হলেন।

ভারতের টপ অর্ডারকে বুঝতে হবে, আইপিএলের মারকাটারি ব্যাটিং সব পিচে, সব পরিবেশে করা যায় না। বিশেষ করে যেখানে হাওয়া ও পিচ, দু’জায়গাতেই বল সুইং করে। সেখানে দরকার টেকনিক। দরকার ধৈর্য। দরকার বোলারকে সম্মান দেওয়ার মানসিকতা।

কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটে টপ অর্ডারের ব্যাটারেরা চার-ছক্কা ছাড়া কিছু বোঝেন না। তাঁরা মনে করেন, আক্রমণই রক্ষণের সবচেয়ে ভাল উপায়। কিন্তু তাঁরা ভুলে যান, যেখানে পেসারেরা দু’দিকে বল সুইং করাচ্ছেন, সেখানে শুধু গায়ের জোর চলে না। দরকার পড়ে নিয়ন্ত্রণ।

বৈভবকে খেলালে এর থেকে খারাপ কী হত? হয়তো সেও আউট হয়ে যেত। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ তো পেত। বুঝতে পারত, কী ভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট করতে হয়। যদি আয়ারল্যান্ডে বৈভব সফল হত, তা হলে তো ভারতীয় ক্রিকেটেরই ভাল হত। গম্ভীরদের হাতে চলে আসত আরও একটি অস্ত্র। কিন্তু সেই অস্ত্র পরীক্ষার সুযোগটাই তো হারালেন গম্ভীরেরা।

ইংল্যান্ডে শুরু থেকে বৈভবকে চান গাওস্কর

আয়ারল্যান্ডে বৈভবকে না খেলানোয় অবাক হয়েছেন সুনীল গাওস্কর। তাঁর মতে, দু’টি ম্যাচেই খেলানো উচিত ছিল ১৫ বছরের ব্যাটারকে। গাওস্কর বলেছেন, “একটা ম্যাচে অভিষেক ও একটা ম্যাচে সঞ্জুর সঙ্গে বৈভবকে ওপেন করানো উচিত ছিল। সেটা হল না। আমি বলছি না বৈভব ম্যাচ জিতিয়ে দিত। ও ১০-১৫ রান করেও আউট হতে পারত। কিন্তু তরুণ প্রতিভাদের দেখে নেওয়ার এর থেকে ভাল সুযোগ ভারত পেত না।”

গাওস্করের মতে, এখনও খুব বেশি সময় নষ্ট হয়নি। ইংল্যান্ডে বৈভবকে দেখতে চান তিনি। গাওস্কর বলেছেন, “ইংল্যান্ডে প্রথম ম্যাচে বৈভবকে খেলানো উচিত। এটাই শেষ কথা। দরকার পড়লে ওর জন্য ফর্মে থাকা ব্যাটারকে বেঞ্চে বসাতে হবে। ওকে ওপেন করানো হোক, বা তিন নম্বরে নামানো হোক, বৈভবকে ইংল্যান্ডে প্রথম ম্যাচ থেকে দরকার।”

‘বৈভবকে সুযোগ তো দাও’

ভারতের আর এক প্রাক্তন ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিনও মনে করেন, বৈভবকে সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। তিনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বলেছেন, “সকলকে একটু বুঝতে হবে। সঞ্জু ও অভিষেক বিশ্বকাপেও একসঙ্গে ব্যাট করেছে। ওদের মধ্যে কাউকে এ ভাবে বসিয়ে দেওয়া কঠিন। কিন্তু বৈভবকে আমরা সকলে খেলতে দেখতে চাই। ওর খেলা আমাদের আনন্দ দেয়।”

বেঞ্চে বসেও অনেক কিছু শেখা যায়। কিন্তু তার জন্য বৈভবকে অতিরিক্ত ক্রিকেটারের তালিকাতেও তো ভারত রাখতে পারত বলে মনে করেন অশ্বিন। তিনি বলেছেন, “ওকে সুযোগ তো দাও। ফিল্ডিং করুক। মাঠে জল নিয়ে যাক। মাঠের অভিজ্ঞতা তো পাবে। একজন ক্রিকেটার তো রাতারাতি তারকা হয় না। আমি মনে করি, বৈভবকে এক বার সুযোগ দিলে আর বাদ দেওয়া যাবে না। যেমন সচিন তেন্ডুলকরকে যায়নি। সেই সুযোগটা তো ওকে দেওয়া হোক।”

ইংল্যান্ডে কিন্তু আরও বড় সমস্যা। সেখানেও পেসারেরা দাপট দেখাবেন। আয়ারল্যান্ডের থেকে ইংল্যান্ডের দল আরও শক্তিশালী। সেখানেও কি বৈভবকে আগলে রাখবেন গম্ভীরেরা? না ভারতীয় ক্রিকেটের সামনে আয়ারল্যান্ড যে ভাবে আয়না ধরেছে, তাতে নিজেদের দুর্বলতা দেখে সিদ্ধান্ত বদলাবেন গম্ভীর? সেই সিদ্ধান্ত কিন্তু তাড়াতাড়ি নিতে হবে ম্যানেজমেন্টকে।

Advertisement
আরও পড়ুন