মাধুরীর ‘স্পেশ্যাল’ চিঁড়ের পোলাওয়ের রেসিপি। ছবি: সংগৃহীত।
মাধুরী দীক্ষিতের বয়স ষাট ছুঁইছুঁই। তাঁকে দেখে অবশ্য তা বোঝার উপায় নেই। আশির দশকে পর্দায় ঝড় তুলতেন মাধুরী! ৫৯-এ এসেও তিনি যেন একই রকম রয়েছেন। পেলব মসৃণ ত্বকে বয়সের তেমন ছাপ পড়েনি। শুধু সৌন্দর্য নয়, মাধুরীর ফিটনেসও অনেকের অনুপ্রেরণা। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে মাঝেমাঝেই ফিটনেস রুটিন ভাগ করে নেন তিনি। ফিটনেস ধরে রাখতে খাওয়াদাওয়ায় বিশেষ নজর দেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, পছন্দের খাবারের সঙ্গে আপস করে নয়, বরং পছন্দের খাবারকে কী ভাবে স্বাস্থ্যকর করে তোলা যায়, সেটাই ভাবতে হবে।
মাধুরী চিঁড়ের পোলাও খেতে বেশ পছন্দ করেন। তবে চিঁড়ের পোলাওকেই কী ভাবে প্রোটিনে ভরপুর করে তোলা যায়, সেই হদিস দিয়েছেন মাধুরী। চিঁড়ের পোলাও বানানোর সময়ে মাধুরী এক বিশেষ উপকরণ মেশান। জেনে নিন মাধুরীর প্রোটিন-সমৃদ্ধ চিঁড়ের পোলাওয়ের গোপন রেসিপি।
চিঁড়ের পোলাওতে আলু পছন্দ করেন না মাধুরী। পেঁয়াজ দিয়ে তৈরি চিড়ের পোলাওই তাঁর প্রিয়। মাধুরী বলেন, ‘‘আমার নরম নরম চিঁড়ের পোলাও খেতে ভাল লাগে। চিঁড়ের পোলাওতে একটু ক্রাঞ্চ থাকতেই হবে। আমি চিঁড়ের পোলাও বানানোর সময়ে তাতে অঙ্কুরিত মুগ মিশিয়ে দিই। এতে পোলাওয়ের স্বাদও বাড়ে আর কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিনও যোগ হয়।’’
অঙ্কুরিত মুগ কেন উপকারী?
যাঁরা ওজন কমানোর জন্য ডায়েট মেনে খাবার খান, তাঁরা রোজ অঙ্কুরিত মুগ খেতে পারেন। মুগের মধ্যে ফাইবারের পরিমাণ বেশি। তাই অঙ্কুরিত মুগডাল খেলে অনেক ক্ষণ পর্যন্ত পেট ভর্তি থাকে। তা ছাড়া অঙ্কুরিত মুগডালের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপাদান, যা উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং কার্ডিয়োভাসকুলার রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। অঙ্কুরিত ছোলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। এই খাবারে ফাইবারের পরিমাণ অনেকটাই বেশ, তাই ডায়াবেটিকদের জন্যও ভাল।
মাধুরীর মতো করে চিঁড়ের পোলাও বানাবেন কী করে?
কড়াইতে তেল গরম করে সর্ষে আর কারিপাতা ফোড়ন দিন। এ বার তাতে কুচি করে রাখা পেঁয়াজ আর কাঁচালঙ্কা দিয়ে ভেজে নিন। স্বাদমতো নুন, হলুদ দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। এ বার ভাজা বাদাম আর অঙ্কুরিত মুগডাল দিয়ে দিন। ধুয়ে রাখা চিঁড়ে দিয়ে ভাল করে মেশান। শেষে উপর থেকে লেবুর রস, ধনেপাতাকুচি ছড়িয়ে নাড়াচাড়া করতেই তৈরি হয়ে যাবে মাধুরীর ‘স্পেশাল’ চিঁড়ের পোলাও।