Pancreatic Cancer Vaccine

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারেও বেশি দিন বাঁচবেন রোগী, আশার আলো দেখাচ্ছে নতুন ‘এমআরএনএ’ টিকা

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার হলে রোগীর বেঁচে থাকার সময়কাল ৫ থেকে ৬ বছরে এসে ঠেকে। তবে ক্যানসার চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে গেলে বিপদ আরও বাড়ে। নতুন প্রতিষেধক ক্যানসার নিয়েও রোগীর বেঁচে থাকার সময়টা আরও বাড়িয়ে দিতে পারবে বলেই দাবি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩৮
New mRNA vaccines for pancreatic cancer shows long-term survival promise

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের টিকা আসছে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার নির্মূল করার উপায় কি তবে পাওয়া গেল? ক্যানসার যদিও বা না সারে, তা হলেও মারণ রোগ শরীরে নিয়ে বহু বছর বেঁচে থাকতে পারবেন রোগী। নতুন টিকা ক্যানসারের বাড়বাড়ন্ত ঠেকিয়ে রোগীর যন্ত্রণাও কমিয়ে দিতে পারবে বলে দাবি। অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের নতুন টিকা তৈরি করে ফেলেছে জার্মানির বায়োএনটেক ও আমেরিকার জেনেনটেক নামক দুই ওষুধ নির্মাতা সংস্থা। টিকাটি তৈরি হয়েছে মেসেঞ্জার আরএনএ বা ‘এমআরএনএ’ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে।

Advertisement

অতিমারি-পর্বে ‘বিশল্যকরণীর’ মতো কাজ করেছিল ‘এমআরএনএ’ বা ‘মেসেঞ্জার আরএনএ’ প্রযুক্তি। রেকর্ড গতিতে তৈরি হয়েছিল কোভিডের টিকা। সেই একই প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এ বারে ক্যানসারের প্রতিষেধক তৈরি করছেন বিজ্ঞানীরা। এটি এক প্রকার ‘থেরাপিউটিক ভ্যাকসিন’, যা দেওয়া হবে রোগীকে। প্রতিষেধক বলতে বোঝায় রোগ প্রতিরোধকারী ব্যবস্থা। কোনও রোগ হওয়ার আগেই ওষুধটি প্রয়োগ করে সংক্রমণ ঠেকানো। অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের এই টিকা অবশ্য ভিন্ন ধরনের। রোগীর ক্যানসার ধরা পড়ার পরে এটি দেওয়া হবে। কাজ সে অন্য প্রতিষেধকের মতোই করবে। অর্থাৎ, শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সজাগ করবে ওই টিকা। তার পর ক্যানসার কোষ খুঁজে বার করে তাকে ধ্বংস করবে।

মেসেঞ্জার আরএনএ-র কাজ হল শরীরের কোন কোষে অস্বাভাবিক কী ঘটছে, তার খবর এনে দেওয়া। শরীরের কোনও অংশে যদি কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিভাজন শুরু হয় এবং তা টিউমারের চেহারা নিতে শুরু করে, তা হলে এই টিকার ডোজ়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধী টি-কোষ (ইমিউন কোষ) সক্রিয় হয়ে উঠবে। টি-কোষকে বলা হয় ‘ঘাতক কোষ’, যা ক্যানসারের প্রোটিন দেখলেই তাকে ধ্বংস করতে সচেষ্ট হবে।

অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ হল ‘প্যানক্রিয়াটিক ডাক্টাল অ্যাডিনোকার্সিনোমা’। এই ক্যানসার ছড়াতে শুরু করলে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা প্রায় অসম্ভব। এই ধরনের ক্যানসার তাড়াতাড়ি ধরাও পড়ে না। তলে তলে শরীরে বাড়তে থাকে। এই ধরনের ক্যানসার হলে রোগী বেশি দিন বাঁচেনও না। নতুন টিকাটি ক্যানসার কোষের বিভাজন থামিয়ে রোগের তীব্রতা অনেক কমিয়ে দেবে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে টিকাটি ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে নিরাময়ের চেষ্টা করবে। তবে যদি তৃতীয় বা চতুর্থ পর্বে ক্যানসার ধরা পড়ে, তা হলে ক্যানসার কোষের বিভাজন থামিয়ে রোগের তীব্রতা অনেটাই কমিয়ে দিতে পারবে। এতে রোগীর যন্ত্রণা কমবে। বেশি দিন বাঁচতেও পারবেন।

Advertisement
আরও পড়ুন