Cancer Treatment

ক্যানসার গবেষণায় নয়া মোড়, এ বার মানুষকে বাঁচানোর পথ দেখাবে বিড়াল! রহস্যের জট খুলছেন বিজ্ঞানীরা

বিড়ালের জিনেই লুকিয়ে ক্যানসার মুক্তির চাবিকাঠি! মারণরোগের সঙ্গে লড়াইয়ে মানুষকে বাঁচানোর পথ দেখাতে পারে বিড়াল। নতুন গবেষণার পথে কেম্ব্রিজ বিজ্ঞানীরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২৮
New study analysed Cats DNA may hold clues for human cancer treatment

ক্যানসার থেকে মুক্তির দিশা দেখাচ্ছে বিড়াল! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইঁদুর নয়, গবেষকদের তুরুপের তাস হতে চলেছে বিড়াল। ক্যানসার জয়ের চাবিকাঠি নাকি তারই হাতে। ভাবুন তো, আপনার কোলে খেলে বেড়াচ্ছে যে আদরের পোষ্যটি, তার আপনার জিনের যে কত মিল, তা ভেবেছিলেন কখনও। এ তথ্য এত দিন বিজ্ঞানীদের কাছেও ছিল অজানা। কেম্ব্রিজের বিজ্ঞানীরা এ রহস্যের জট খুলছেন।

Advertisement

১৩ রকম প্রজাতির প্রায় ৫০০ বিড়ালের জিন নিয়ে তার খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, মানুষের শরীরের মারণব্যাধি ক্যানসারের জন্য দায়ী যে জিনগত পরিবর্তন বা মিউটেশন, তার সঙ্গে বিড়ালের জিনের রয়েছে এক আশ্চর্য মিল। বিড়ালের জিনের তথ্য পড়ে ফেলতে পারলেই হয়তো মানুষের শরীরে ক্যানসার নিরাময়ের নতুন পথ পাওয়া সম্ভব হবে।

কেম্ব্রিজের ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা বিড়াল ও ক্যানসারের সংযোগ নিয়ে এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বিড়ালের দেহকোষের সঙ্গে মানুষের দেহকোষের ও জিনের সঙ্গে জিনের মিলটা সত্যিই আশ্চর্যজনক। কোষে-কোষে বা জিনে-জিনে মিলটা কিন্তু কাকতালীয় নয়। নানা রকম প্রজাতির বিড়াল নিয়ে পরীক্ষা করে একই মিল পাওয়া গিয়েছে। এর থেকেই বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে এসেছে যে, বিড়ালের যখন রোগ হয়, তখন তার শরীরে কোষে বা জিনে যে বদল ঘটে, একই রকম বদল ঘটে মানুষের শরীরেও। আরও বিশদ জানতে জিনগত বিশ্লেষণ শুরু করে দেন বিজ্ঞনীরা। তাতেও কিছু অজানা তথ্য হাতে আসে।

জানা যায়, মানুষের শরীরের প্রায় ১৩ ধরনের ক্যানসার জিনের সঙ্গে বিড়ালের শরীরে থাকা কিছু জিনের মিল রয়েছে। ক্যানসার বিড়ালেরও হয়। সে ক্ষেত্রে বিড়ালের শরীরে থাকা জিনে যে ধরনের রাসায়নিক বদল ঘটে, অবিকল তেমনটা ঘটে মানুষের শরীরেও। স্তন ক্যানসার নিয়ে প্রাথমিক ভাবে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। দেখা গিয়েছে, স্তনের ক্যানসারের জন্য দায়ী ১০০ রকম জিনের মধ্যে ১৫টির সঙ্গে মিল রয়েছে বিড়ালের শরীরে থাকা কিছু জিনের। যেমন, ‘এফবিএক্সডব্লিউ৭’ জিনটি স্তনে গজিয়ে ওঠা টিউমারে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গিয়েছে। এই জিনটি বিড়ালের শরীরেও রয়েছে। আবার ক্যানসার রোগীদের শরীরে সবচেয়ে বেশি পাওয়া জিনটি হল ‘টিপি৫৩’। এই জিনের সঙ্গে মিল রয়েছে বিড়ালের জিনেরও। বিড়ালের যখন ক্যানসার হয়, তখন এই জিনগুলিতে সবচেয়ে আগে বদল আসে। জিনে-জিনে এই মিলই ক্যানসার নিরাময়ের পথ প্রশস্ত করবে বলেই ধারণা বিজ্ঞানীদের।

ক্যানসার গবেষণায় এতদিন ইঁদুরের উপর গবেষণা করে যা জানা যাচ্ছিল বিড়ালের উপর পরীক্ষা করে তার চেয়ে অনেক বেশির জানা যাবে বলেই মত বিজ্ঞানীদের। কারণ ইঁদুরের শরীরে কৃত্রিম ভাবে ক্যানসার তৈরি করে তার পর ওষুধের প্রয়োগ করে দেখা হত। কিন্তু বিড়ালের শরীরে প্রাকৃতিক ভাবেই ক্যানসারের জিনগুলি রয়েছে। কাজেই সেই জিনগুলির নমুনা নিয়ে তার বিশ্লেষণ করলেই জানা যাবে, যে ঠিক কী ভাবে জিনের বদল রুখে দেওয়া সম্ভব। এতে ক্যানসার প্রতিরোধের উপায়ও হাতে আসবে বলেই আশা রাখছেন বিজ্ঞানীরা।

Advertisement
আরও পড়ুন