কিডনির রোগীরাও কি কিনোয়া খেতে পারেন? ছবি: সংগৃহীত।
ভাত-রুটির বিকল্প হিসাবে এখন কিনোয়ার চাহিদা বেড়েছে বাজারে। কিনোয়া হল এক ধরনের ফুলগাছের বীজ। গ্লুটেন ফ্রি হোল গ্রেন কার্বোহাইড্রেট। 'বন্ধু কার্বোহাইড্রেট' বললেও ভুল হবে না। শুধুই কার্ব নয়, প্রোটিনেও ভরপুর। বাজারে সাদা, লাল ও কালো— মূলত এই তিন ধরনের কিনোয়া পাওয়া যায়। সাদা কিনোয়া সহজপ্রাপ্য। স্যালাডের জন্য অনেকেই লাল কিনোয়া ব্যবহার করেন। লাল, সাদার তুলনায় কালো কিনোয়া বেশি মিষ্টি হয়। পাওয়া যায় কিনোয়া ফ্লেক্স ও কিনোয়া ফ্লাওয়ারও।
কেন এত উপকারী?
ভিটামিন বি ও ফাইবারে ভরপুর কিনোয়া রোজের ডায়েটে রাখলে পুষ্টি বজায় থাকবে, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, হাড় মজবুত হবে, পেট পরিষ্কার থাকবে এবং হৃদ্যন্ত্রও সুস্থ থাকবে। কিনোয়ায় আছে আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ই ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এতে পাওয়া যায় নয় ধরনের এসেনশিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড, যা খুব কম খাবারেই লভ্য। অন্য দিকে, কিনোয়ার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় ডায়াবেটিক ডায়েটেও তা রাখা যেতে পারে।
কিডনির রোগীরা কি খেতে পারেন?
কিনোয়াতে বেশি মাত্রায় পটাশিয়াম আর ফসফরাস থাকে। কিডনির রোগীদের ডায়েটে এই দুই উপাদান যত কম রাখা যায়, ততই ভাল। পুষ্টিবিদ শ্রেয়া চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিংবা ডায়াবেটিকরা ভাত-রুটির বিকল্প হিসাবে ডায়েটে নিয়মিত কিনোয়া রাখেন। তবে সুপারফুডটি কিন্তু সবার শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। বিশেষ করে, কিডনির রোগীরা এই খাবারটি রোজের ডায়েটে রাখলে তাঁদের শরীরে ফসফরাস আর পটাশিয়ামের মাত্রা অনেকটা বেড়ে গিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এই সুপারফুড থেকে কিডনির রোগীদের দূরে থাকাই ভাল। কিডনির রোগী হয়েও যদি শরীরে ফসফরাস আর পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, সে ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।’’