Rakul Preet Suffering from Slip Disk

মেয়েদের ভারী ওজন নিয়ে ব্যায়াম করা কি ভাল? ৮০ কেজি তুলতে গিয়ে স্লিপ ডিস্কে আক্রান্ত হন রকুল প্রীত

জিমে গিয়ে ভারী ওজন তুলে ব্যায়াম মেয়েরাও করেন। ইদানীং তারকাদের দেখাদেখি ‘ডেডলিফ্‌ট’ নামক ব্যায়াম করার চল হয়েছে নানা জিমে। মেয়েদের জন্য এই ধরনের ব্যায়াম কি নিরাপদ? ডেডলিফ্‌টে ৮০ কেজি ওজন তুলতে গিয়ে স্লিপ ডিস্কে আক্রান্ত হন অভিনেত্রী রকুল প্রীত সিংহ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ১২:৩২
Rakul Preet Singh opened up about a painful slip disc injury caused by an 80 kg deadlift workout

বিপজ্জনক হতে পারে ‘ডেডলিফ্‌ট’, কী ভাবে স্লিপ ডিস্কে আক্রান্ত হলেন রকুল? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

চরিত্রের প্রয়োজনে পেশির জোর বৃদ্ধি করতে হত। সুঠাম বাহুর জন্য ‘ডেডলিফ্‌ট’ ব্যায়াম করতে গিয়ে বিপদে পড়েন বলিউড অভিনেত্রী রকুল প্রীত সিংহ। ঘাড়ে ও পিঠে মারাত্মক আঘাত পান তিনি। আক্রান্ত হন স্লিপ ডিস্ক নামক অসুখে। এর পর টানা ৪০ দিন শয্যাশায়ী থাকতে হয়েছিল তাঁকে।

Advertisement

মেয়েদের জন্য ‘ডেডলিফ্‌ট’ কি ভাল?

ভারী ওজন দুই কাঁধে তুলে এমন ব্যায়াম করতে হয়। বডিবিল্ডার, পাওয়ার লিফটার বা খেলায়াড়েরা পেশির জোর বৃদ্ধি করার জন্য এমন ব্যায়াম করেন। ফিটনেস প্রশিক্ষকেরা বলছেন, ডেডলিফ্‌ট করতে হলে আগে শরীরকে সে ভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। যাঁদের পেশি খুব দুর্বল, শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি কম এবং আগে থেকেই কোমর ও পিঠে ব্যথা রয়েছে, তাঁদের জন্য এত বেশি ওজন তোলা বিপজ্জনক হতে পারে। সামান্য ভুলেই বেঁকে যেতে পারে মেরুদণ্ড।

ডেডলিফ্‌ট করার নিয়ম আছে। খুব বেশি ওজন তুলতে হলে কাঁধে ও পিঠে ‘সেফটি বেল্ট’ পরে নিতে হয়, যাতে আঘাত না লাগে। রকুল জানিয়েছেন, এই সুরক্ষা ব্যবস্থাটি তিনি নেননি। ফলে পুরো ওজনই তাঁর কাঁধে ও পিঠের পেশিতে এমন চাপ দেয়, যাতে সেই এলাকার লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। এই একটি ভুলে মেরুদণ্ডেও চিড় ধরে। তিনি স্লিপ ডিস্কে আক্রান্ত হন।

কী হয় স্লিপ ডিস্ক হলে?

মেরুদণ্ড ২৬টি ছোট্ট ছোট্ট হাড়ের টুকরো দিয়ে তৈরি। দু’টি হাড়ের টুকরোর ঘর্ষণ প্রতিরোধ করতে মাঝখানে থাকে কুশনের মত ডিস্ক। নরম জেলি দিয়ে ভরা এই ডিস্ক হাড়ের ঘর্ষণজনিত ক্ষয় প্রতিরোধ করে। কিন্তু শরীর যতটা সইতে পারে তার চেয়ে বেশি ওজন তুললে বা মেরুদণ্ডের সংলগ্ন পেশি দুর্বল থাকলে বা দূর্ঘটনায় চোট লাগলে এই ডিস্ক স্থানচ্যুত হয়। ফলে সেই এলাকার হাড়ে চিড় ধরে এবং আশপাশের স্নায়ুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রচণ্ড যন্ত্রণা শুরু হয়। কিছু ক্ষেত্রে পিঠের নীচ থেকে কোমর এবং পা অবধি অসাড় হয়ে যায়। এরই নাম স্লিপ ডিস্ক বা ডিস্ক হার্নিয়েশন। অনেক সময় বিশেষ কিছু স্নায়ুতে চাপ পড়ার কারণে মলমূত্র ত্যাগেও অসুবিধা হতে পারে।

জিমে ভারী ওজন তুলতে গিয়ে স্লিপ ডিস্কে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা আগেও ঘটেছে। বিশেষ করে মেয়েদের ঝুঁকি বেশি। তাই শরীর তেমন শক্তপোক্ত না হলে বা আগে থেকে ওজন তোলার অভ্যাস না থাকলে, ডেডলিফ্‌টের মতো ব্যায়াম না করাই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

Advertisement
আরও পড়ুন