Risk Of Low Sodium Level in Body

কোন কোন কারণে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যায়? গরমে কোন বিষয়ে সতর্ক না হলেই বিপদ বাড়বে?

শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত কমে গেলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। দেহকোষের বাইরে থাকে সোডিয়াম। তাই শরীরে সোডিয়ামের ঘাটতি হলে কোষগুলি ফুলে যায়, তখনই বিপত্তি ঘটে। কী ভাবে সতর্ক হবেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ১৩:৪২
শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে কী কী বিপদ হতে পারে?

শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে কী কী বিপদ হতে পারে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অনেক সময় শরীরে নুন কমে যাওয়ার কারণে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার মতো পরিস্থিতি হয়। নুন মানে সোডিয়াম। সোডিয়াম থাকে দেহকোষের বাইরে অর্থাৎ প্লাজ়মার মধ্যে। প্লাজ়মা বেড়ে গেলে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যায়। হার্ট ফেলিয়োর, কিডনি ফেলিয়োর আর লিভার ফেলিয়োরের সময় শরীরে প্লাজ়মার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এই সময়ে শরীরে জলের মাত্রা বেড়ে গিয়ে শরীর ফুলে যায়। এ ছাড়া ডায়েরিয়া হলে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে য়েতে পারে। কোনও কারণে দিনে একাধিক বার বমি হলেও শরীরে সোডিয়াম কমে যেতে পারে। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেলেও শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আবার থাইরয়েডের সমস্যা, কর্টিসল হরমোনের সমস্যা বা শরীরে এডিএইচ হরমোন ওঠানামা করলেও সোডিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে।

Advertisement

শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা হওয়া উচিত ১৩৫-১৪৫ মিলিইকিউভ্যালেন্টস/ লিটার। শরীরে সোডিয়াম কমে যাওয়াকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। মাইল্ড (১৩০-১৩৫ মিলিইকিউভ্যালেন্টস/ লিটার), মডারেট (১২০-১৩০ মিলিইকিউভ্যালেন্টস/ লিটার) আর ১২০ মিলিইকিউভ্যালেন্টস/ লিটারের নীচে যদি যদি সোডিয়াম চলে যায়, তাকে বলা হয় ক্রনিক সমস্যা।

মাইল্ডের ক্ষেত্রে রোগীকে নিয়ে তেমন চিন্তার কারণ নেই। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবারে নুনের মাত্রা সামান্য বাড়িয়ে দিলেই সমস্যা কমে যায়। তবে মডারেটের ক্ষেত্রে কিন্তু রোগীর খাওয়াদাওয়ার ইচ্ছে কমে যায়, সারা দিন দুর্বল লাগে, এ ছাড়াও রোগীর স্নায়ুতন্ত্রের উপর চাপ পড়ে। রোগীর ভাবনাচিন্তায় বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। সোডিয়ামের মাত্রা ১২০-র তলায় নেমে গেলে এই সব উপসর্গ ছাড়াও রোগীর শরীরে খিঁচুনি শুরু হতে পারে, অনেক সময় অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন রোগী। এমন রোগীকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করানো জরুরি।

শরীরে সোডিয়াম কমার মাত্রাকে দু’ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। অ্যাকিউট আর ক্রনিক। অ্যাকিউটের ক্ষেত্রে দু’তিন দিনের মাথায় শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা অনেকটা কমে যায়। আর ক্রনিকের ক্ষেত্রে প্রায় ছ’মাস ধরে রোগীর শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা অল্প অল্প করে কমতে থাকে।

সোডিয়াম কমার সঙ্গে সঙ্গে আবার অনেক সময় শরীরে জলও কমে যেতে থাকে, মূলত ডিহাইড্রেশনের কারণেই এমনটা হয়। গরমের সময় এই সমস্যা আরও বেশি হয়। তাই গ্রীষ্মের সময় কিন্তু এই বিষয় সতর্ক থাকা জরুরি। অনেকে পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া ডায়েট শুরু করেন। সে ক্ষেত্রে নুন খাওয়ার পরিমাণ একেবারেই কমিয়ে দেন। এতেও কিন্তু বিপদ বাড়তে পারে। কোনও কিছু বেশি খাওয়া যেমন ‌ভাল নয়, তেমনই খুব কম খাওয়াও চলবে না। শরীরে নুন আর জলের ভারসাম্য সঠিক থাকলে তবেই শরীর ভাল ভাবে কাজ করবে।

Advertisement
আরও পড়ুন