দাঁতের যত্ন নেবে ‘কৃত্রিম লালা’! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
দাঁত নিয়ে ভোগেননি এমন মানুষ কমই আছেন। কথায় আছে, দাঁত থাকতে তার মর্ম বোঝা যায় না। সত্যিই তাই। জ্বর, পেটের সমস্যা বা ব্যথাবেদনা হলেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হয়। তবে দাঁত শিরশির করলে ক’জনই বা চিকিৎসকের কাছে ছোটেন! যত দিন না সমস্যা আরও যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠছে, দাঁতে শিরশিরানি, মাড়িতে ঘা অথবা ক্যাভিটি হলে তখন টনক নড়ে। দাঁত ও মাড়ি সংক্রান্ত সমস্যার অনেকটাই নির্ভর করে রোজের খাওয়াদাওয়া ও কিছু অভ্যাসের উপরে। আবার মুখ ও গলার ক্যানসারে নিয়মিত রেডিয়োথেরাপি নিতে হয় যাঁদের, তাঁদেরও দাঁতের ক্ষয় ঘটতে থাকে। সে ক্ষেত্রে কেবল মাউথওয়াশ বা ওষুধে কাজ হয় না। ব্রাজিলের বিজ্ঞানীরা এমন প্রোটিনের খোঁজ পেয়েছেন, যা দিয়ে মানুষের লালার মতোই কৃত্রিম লালা তৈরি করা যায়। সেই লালা দাঁতের ক্ষয় তো রোধ করবেই, মাড়িতে সংক্রমণ বা মুখগহ্বরের ক্যানসার থেকেও বাঁচাবে।
আখের রস থেকে কৃত্রিম লালা!
উদ্ভিজ্জ প্রোটিন থেকেই এমন লালা তৈরি করেছেন ব্রাজিলের গবেষকেরা। তাঁরা জানিয়েছেন, আখের রসে এক বিশেষ ধরনের প্রোটিন থাকে যার নাম ‘কেনসিপিআই-৫’। এই প্রোটিনের এমন গুণ আছে, যা যে কোনও সংক্রমণ রোধ করতে পারে। এই প্রোটিন দিয়ে তৈরি স্প্রে বা মাউথওয়াশ মুখে দিলে তা লালার মতোই কাজ করবে এবং দাঁত ও মাড়ির উপরে একটি আস্তরণ তৈরি করবে।
গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, দাঁতের সুরক্ষাস্তর এনামেলের মতোই ওই প্রোটিন আরও একটি আবরণী তৈরি করে ফেলে দাঁত ও মাড়ির উপরে। এতে দাঁত থেকে ক্যালশিয়াম ও ফসফেট বেরিয়ে যেতে পারে না। ফলে দাঁতের ক্ষয়ও হয় না। জিভে কোনও রকম ঘা থাকলে, সেটিও সেরে যেতে পারে। মুখগহ্বরের যে কোনও সংক্রমণ, কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন রুখতে পারে এই প্রোটিন। দীর্ঘ সময় রেডিয়েশন নেওয়ার কারণে যে ক্যানসার রোগীদের মুখগহ্বরের লালার পরিমাণ কমে যায়, তাঁদের জন্যও এটি কৃত্রিম লালা হিসেবে কাজ করবে।
এই প্রোটিনকে আরও কিছু ভিটামিনের সঙ্গে যোগ করার কথা ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। এটি এমন ভাবে বাজারে আনা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই তা ব্যবহার করতে পারেন।