মুখোমুখি প্রতিবাদী-পুলিশ। ছবি: রয়টার্স।
বিশ্বকাপের সঙ্গেই শুরু অশান্তি। মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের সময় প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে এস্তাদিয়ো আজ়টেকার বাইরের রাস্তা। সংঘর্ষ বাধে প্রতিবাদী জনতা এবং পুলিশের মধ্যে। অন্য দিকে, গ্যালারি ভরল না দক্ষিণ কোরিয়া-চেকিয়া ম্যাচে।
প্রতিবাদে অংশ নেন শিক্ষক, পড়ুয়া, সমাজকর্মী-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। তাঁদের অভিযোগ বিশ্বকাপকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে দেশের মানুষকে নানা সমস্যায় ফেলা হচ্ছে। মেক্সিকো প্রথম গোল করার পরই প্রতিবাদীরা নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে পুলিশের মুখোমুখি হন। বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালান তাঁরা। তাঁদের একাংশ বিশ্বকাপের ফ্যান জ়োন জ়োকালো স্কোয়ারে খেলা সম্প্রচারের ব্যবস্থা নষ্ট করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। কয়েক হাজার প্রতিবাদী ঢুকে পড়েন জ়োকালো স্কোয়ারে। নিরাপত্তাকর্মীরা কোনও রকমে পরিস্থিতি সামাল দেন। বিক্ষোভের জেরে চাপে পড়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম।
সামাজিক অস্থিরতা, শিক্ষক ধর্মঘট এবং মাদক বিরোধী আন্দোলনের আঁচ বিশ্বকাপের গায়ে লাগায় অস্বস্তি বেড়ে মেক্সিকো প্রশাসনের। এক নিরাপত্তা আধিকারিক জানিয়েছেন, খেলা শুরুর আগে প্রায় ২০০ জন প্রতিবাদী মুখোশ পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে প্রতিবাদীর সংখ্যা আরও বাড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়েছে। ২৮ বছরের এক মহিলাকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। গত কয়েক মাস ধরে শিক্ষকদের সংগঠনের সরকার বিরোধী আন্দোলন চলছে মেক্সিকোয়। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আরও কিছু সংগঠন। বিশ্বকাপের জন্য শিক্ষাবর্ষ কাটছাঁট করা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
অন্য দিকে, বিশ্বকাপের টিকিটের চড়া মূল্য নিয়ে প্রথম থেকেই ক্ষোভ রয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের। টিকিটের দামের প্রভাব পড়ল দক্ষিণ কোরিয়া-চেকিয়া ম্যাচে। গ্যালারির অনেক আসন ফাঁকা ছিল। যদিও বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিনই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দাবি করেছিলেন, টিকিটের অভূতপূর্ব চাহিদা রয়েছে। তাঁর দাবির সঙ্গে যে বাস্তবের মিল নেই, তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই।
ফিফা অবশ্য দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া-চেকিয়া ম্যাচ দেখতে উপস্থিত ছিলেন ৪৪,৯৮৫ জন। স্টেডিয়ামের দর্শকাসন ৪৫, ৬৬৪টি। বাস্তব চিত্রের সঙ্গে ফিফার দাবি মেলেনি।