সলমন খান। ছবি: সংগৃহীত।
বলিউড তারকাদের অত্যন্ত পছন্দের জায়গা সলমন খানের খামারবাড়ি। এই খামারবাড়ি নিয়ে তাঁর অনুরাগীদেরও কৌতূহলের শেষ নেই। প্রায়ই সেখানে গিয়ে থাকেন, পার্টি করেন জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ়, ইউলিয়া ভন্তুর-সহ আরও অনেকেই। মুম্বইয়ের পনবেল এলাকায় এই খামারবাড়ি নিয়েই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনেন সলমনের প্রতিবেশী কেতন কক্কড়। সলমনের বিরুদ্ধে শিশুপাচার ও মৃতদেহ কবর দেওয়ারও অভিযোগ এনেছিলেন তিনি, প্রকাশ্যেই। এ বার সলমনের পক্ষে নির্দেশ দিল মুম্বই হাই কোর্ট।
সলমনের পনবেলের খামারবাড়ির পাশে জমি আছে কেতনের। তাঁর এ হেন অভিযোগের পরে ২০২২ সালে প্রতিবেশীর নামে মানহানির মামলা করেন সলমন। সেই মামলায় দিন যত এগিয়েছে, একে অপরের দিকে কাদা ছোড়াছুড়িও বেড়েছে। সলমন তাঁর আইনজীবী মারফত আদালতে জানান, ধর্ম নিয়েও তাঁকে আক্রমণ করেছেন তাঁর প্রতিবেশী। তাঁর মা হিন্দু, বাবা মুসলিম। ছোট থেকেই সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নিয়েই তিনি বড় হয়েছেন। সলমনের দাবি, কেতনের এমন অভিযোগে অত্যন্ত অপমানিত বোধ করেছেন অভিনেতা। সলমনের অভিযোগ, একটি ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সলমনের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর মন্তব্য ধর্মীয় হানাহানিতে উস্কানি দিতে পারে বলেও অভিযোগ অভিনেতার। শুধু তা-ই নয়, সলমনের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমেও সরব হয়েছেন অভিনেতার প্রতিবেশী।
এই মামলা বিচারপতি শর্মিলা দেশমুখের বেঞ্চে বিচারাধীন। ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই আইনি বিবাদে জড়িত পক্ষদের সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ এড়িয়ে চলা উচিত। বরং তার পরিবর্তে উপযুক্ত আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রতিকার চাওয়া উচিত। শুনানির সময়ে কেতন কক্কড়কে বিচারপতি দেশমুখ পরামর্শ দেন, তিনি যেন বিবাদ সম্পর্কিত টুইট, ভিডিয়ো এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সমাজমাধ্যম বা অনলাইন থেকে সরিয়ে ফেলেন।
অভিনেতার প্রতিবেশীকে সলমনের বিরুদ্ধে করা পোস্টগুলি মুছে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন বিচারপতি। এ-ও বলা হয়েছে যে, এই বিষয়ে কোনও ‘কন্টেন্ট’ যদি তৃতীয় পক্ষ দ্বারা সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়ে থাকে, তবে মধ্যস্থতাকারীদের অবশ্যই তা সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা নিতে হবে। কেতন অভিযোগ করেছেন, সলমন পরিবেশগত নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন ও তাঁর সম্পত্তিতে প্রবেশে বাধা দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। আগামী ৬ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।