আলিয়াকে কোন পাঠ দিলেন শাহিদ? ছবি: সংগৃহীত।
কিছু দিন আগে কঙ্গনা রনৌত এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “জীবনে যত সাফল্য আসবে, ততই শত্রু বাড়বে।” সম্প্রতি, সাফল্যের বিড়ম্বনাতেই যেন পড়েছেন অভিনেত্রী আলিয়া ভট্ট। শোনা গিয়েছে, কান চলচ্চিত্র উৎসবে আলিয়ার উপস্থিতির বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে নেতিবাচক প্রচার করা হয়েছিল।
এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বিপুল আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি, এই বিষয়ে অভিনেতা শাহিদ কপূরও নিজের মতামত প্রকাশ করেন।
আলোচনার সময় শাহিদ বলেন, তিনি ব্যক্তিগত ভাবে কোনও কথা বা অভিযোগ সহজে বিশ্বাস করেন না, যদি না তিনি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকেন বা নিজের চোখে তা দেখে থাকেন। তাঁর মতে, অন্যের কথা অন্ধের মতো বিশ্বাস করলে মানুষ সহজেই প্রভাবিত বা বিভ্রান্ত হতে পারে।
শাহিদ বলেন, “আমি কোনও শোনা কথাই বিশ্বাস করি না। যদি না আমি সেই ঘরে বা সেই পরিস্থিতিতে উপস্থিত থাকি। নিজের চোখে যত ক্ষণ না কিছু দেখি, তার আগে সবকিছুই আমি খানিক সন্দেহ করি। এতে আমার উপকারই হয়েছে, কারণ মানুষ যখন বুঝতে পারেন যে, আপনি তাঁদের সব কথা বিশ্বাস করছেন, তখন তাঁরা আপনার ভাবনাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারেন।”
তিনি আরও জানান, বিনোদনজগতে সাফল্য ও ব্যর্থতার চাপ এতটাই বেশি যে অনেক সময় শিল্পীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারেন। অভিনেতার মতে, বর্তমান সময়ে দর্শককে বিভ্রান্ত করা আগের তুলনায় অনেক কঠিন। তিনি বলেন, “শিল্পীদের নিজেদের আসল রূপই দর্শকের সামনে তুলে ধরা উচিত। মানুষ এখন খুব সহজেই বুঝতে পারে যে, কেউ নিজের সম্পর্কে কৃত্রিম ভাবমূর্তি তৈরি করার চেষ্টা করছেন কি না।”
কান চলচ্চিত্র উৎসবে আলিয়া ভট্ট। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
শাহিদের কথায়, “আপনি নিখুঁত না হলেও বা আপনার মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা থাকলেও সেটি লুকিয়ে রাখার দরকার নেই। মানুষকে আপনার প্রকৃত রূপ দেখতে দিন। যখন দর্শক বুঝতে পারেন যে, আপনি তাঁদের সামনে একটি নির্দিষ্ট ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাইছেন, তখন তাঁরা বিরক্ত হন।”
একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, খ্যাতি ও সাফল্যের সঙ্গে নেতিবাচক সমালোচনাও অবিচ্ছেদ্য ভাবে জড়িত। তাঁর মতে, জনপ্রিয়তার সঙ্গে যেমন ভালবাসা আসে, তেমনই সমালোচনা ও নেতিবাচকতাও জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। প্রসঙ্গত, শাহিদ ও আলিয়া এর আগে ‘শানদার’ এবং ‘উড়তা পঞ্জাব’ ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন।