Brain Health and Sedentary life

দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকার অভ্যাস? মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে বড়সড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, বদল আসছে গঠনেও!

অকালেই বয়স বেড়ে যাচ্ছে মস্তিষ্কের। আর সবচেয়ে চিন্তার বিষয়, আপনি হয়তো নিজে তা টেরও পাচ্ছেন না। শরীর সক্রিয় থাকা-না থাকার সঙ্গে মস্তিষ্কের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই সংযোগ সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৫৭
মস্তিষ্কের বয়স বেড়ে যাচ্ছে আপনার অজান্তেই?

মস্তিষ্কের বয়স বেড়ে যাচ্ছে আপনার অজান্তেই? ছবি: সংগৃহীত।

সারা দিন ডেস্কে বসে থাকা, মোবাইল ঘাঁটা, ল্যাপটপে কাজ করা, রাতে আবার সিনেমা-সিরিজ় শেষ করার নেশা অথবা ভিডিয়ো গেমে বুঁদ হয়ে থাকা— নতুন ধরনের যাপনের চেহারা তো এমনই। আর এতেই আপনার মস্তিষ্ক দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। অকালেই বয়স বেড়ে যাচ্ছে। আর সবচেয়ে চিন্তার বিষয়, আপনি হয়তো নিজে তা টেরও পাচ্ছেন না। শরীর সক্রিয় থাকা-না থাকার সঙ্গে মস্তিষ্কের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই সংযোগ সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন।

Advertisement
বসে বসে কাজ করার অভ্যাসে মস্তিষ্কের ক্ষতি।

বসে বসে কাজ করার অভ্যাসে মস্তিষ্কের ক্ষতি। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে এক জায়গায় বসে থাকলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের পাশাপাশি মস্তিষ্কও তার কার্যকারিতা হারাতে থাকে। নিয়মিত নড়াচড়া না করলে মস্তিষ্কে ডোপামিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিকের উৎপাদন কমে যায়, যা চিন্তা, মনোযোগ এবং সক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মুম্বই নিবাসী স্নায়ুরোগ চিকিৎসক আকাশ ছেডা জানাচ্ছেন, ৩০ এবং ৪০-এর কোঠায় বাইরে থেকে এই বুড়িয়ে যাওয়ার আঁচ পাওয়া যায় বহু বহু রোগীর মধ্যে। কিন্তু মস্তিষ্কের ভিতরে নীরবেই বার্ধক্য গ্রাস করে। শরীর সক্রিয় না থাকলে মস্তিষ্কের স্নায়ুপথগুলিও ধীর হয়ে যেতে শুরু করে। এর প্রভাব দেখা যায় দৈনন্দিন জীবনে। কাজে মন না বসা, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাওয়া বা প্রতিক্রিয়া দিতে দেরি হওয়া ইত্যাদিতে। শরীর সচল থাকলে তবেই স্নায়ুপথগুলি উদ্দীপিত হতে পারে।

কোন কোন উপসর্গ থেকে বোঝা যেতে পারে?

বড় সমস্যা হল, এর লক্ষণগুলি খুব সূক্ষ্ম। অনেকেই এগুলিকে সাধারণ চাপ ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এগুলির দিকে নজর দেওয়া দরকার। কারণ, এ সবই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে আসার ইঙ্গিত হতে পারে।

· মাথা কাজ না করা বা ‘ব্রেন ফগ’

· মনোযোগ কমে যাওয়া

· শরীরে জড়তা আসা

· প্রতিক্রিয়ার গতি কমে যাওয়া

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকলে মানুষের মস্তিষ্কের গঠনেও পরিবর্তন আসতে পারে। যেমন, হিপ্পোক্যাম্পাসের আয়তন কমে যাওয়া, যা স্মৃতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এর ফলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও দেখা দিতে পারে পরবর্তী কালে। তা ছাড়া পার্কিনসন্স ডিজ়িজ়, শরীরে কম্পন, ব্রেন ফগের মতো সমস্যা চিরকালের জন্য সঙ্গী হয়ে যেতে পারে। দিনে আট ঘণ্টা বা তার বেশি বসে থাকলে কগনিটিভ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। যদি ধরা যায়, আপনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তা-ও কাজের জন্য দীর্ঘ ক্ষণ বসে থাকতে হয়, তাতেও এই ঝুঁকি পুরোপুরি কমে না। তাই বসে থাকার অভ্যাসের মধ্যে কিছু কিছু বদল আনা দরকার।

নিয়মিত নড়াচড়া শুরু করলে এই ক্ষতি অনেকটাই সামলানো যায়। ছোট ছোট পরিবর্তনই বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই অভ্যাসগুলি স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ উন্নত করতে পারে।

· প্রতি আধঘণ্টা বা এক ঘণ্টা অন্তর উঠে হাঁটাহাঁটি করা

· যোগাসন, ব্যায়াম বা হালকা স্ট্রেচিং করা

· কায়িক শ্রমযুক্ত ছোট ছোট কাজের অভ্যাস তৈরি করা

· কায়িক শ্রমসাপেক্ষ ব্যায়ামের অনুশীলন শুরু করা

মানুষের মস্তিষ্ক শরীরের মোট ওজনের খুব অল্প অংশ নিয়ে তৈরি হলেও প্রচুর অক্সিজেন ও পুষ্টি ব্যবহার করে। দীর্ঘ সময় বসে থাকলে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়, ফলে মস্তিষ্ক প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঠিক মতো পায় না। তাই সারা দিন বসে থাকার মাঝেই অল্প সময়ের জন্য হলেও হেঁটে আসা দরকার। এর ফলেই ব্রেন-ডিরাইভ্ড নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (বিডিএনএফ) নামে এক ধরনের প্রোটিনের মাত্রা বাড়তে পারে মস্তিষ্কে। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে পুষ্ট করতে সাহায্য করে। এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে মস্তিষ্ক সুস্থ থাকে।

Advertisement
আরও পড়ুন