চোখের পাতা কাঁপা কিসের লক্ষণ? ছবি: সংগৃহীত।
প্রয়োজন হয় খুব সামান্যই। তবে ঘাটতি হলে তার প্রভাব পড়ে স্নায়ুতন্ত্রে। আয়রন, পটাশিয়াম, জ়িঙ্কের অভাব নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, ততটা আলোচনা নেই ম্যাগনেশিয়াম নিয়ে। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, খনিজটির অভাবে নানা শারীরিক সমস্যা হতেই পারে।
ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। মস্তিষ্কের সংকেত বা বার্তা আদান-প্রদানের কাজে এই খনিজের ভূমিকা থাকে।ঘুম, গ্লুকোজ পরিপাক-সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হতে পারে ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে। পেশির সঞ্চালনা ঠিক রাখতে, হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে ভূমিকা রয়েছে এই খনিজের। আবার হৃৎস্পন্দন ঠিক রাখতে, রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে, শরীরে কাজ করার শক্তি এবং প্রোটিন উৎপাদনেও সাহায্য করে ম্যাগনেশিয়াম।
তবে খনিজের অভাব জানান দেয় শরীর। সেই ইঙ্গিত বোঝা জরুরি। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, আপাত সাধারণ উপসর্গই হতে পারে ইঙ্গিতবহ।
চোখ কাঁপা: বাঁ চোখ বা ডান চোখ কাঁপা নিয়ে অনেক কুসংস্কার রয়েছে। তবে চোখ কাঁপার নেপথ্যে থাকতে পারে স্নায়ুর যোগ। লম্বা সময় ধরে মোবাইল দেখা, অত্যধিক ক্যাফিন জাতীয় পানীয়ে স্নায়বিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে, স্নায়ু ক্লান্তও হয়ে পড়ে।
ম্যাগনেশিয়ামের কাজ হল স্নায়ুকে আরাম দেওয়া, শিথিল করা। খনিজটির অভাব হলে স্নায়ু শিথিল হতে সমস্যা হয়, চোখের চারপাশে স্নায়ুর উপরেও এর প্রভাব পড়ে। তার ফলে বার বার চোখের পাতা কাঁপতে পারে।
চোখের নীচে কালি: অনেকে ভাবেন রাতে ক্রিম মেখে চোখের নীচের কালি তুলে ফেলা যায়। ঘুমের অভাব, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম-সহ একাধিক খনিজের ঘাটতি হলে এমনটা হতে পারে। এর জন্য খাওয়াদাওয়া ঠিক করা দরকার। প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম।
চোয়াল আটকে যাওয়া: অনেক সময়েই চোয়াল আটকে যায়, মুখের পেশিতেও টান লাগে। এই ধরনের উপসর্গের নেপথ্যেও ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে হতে পারে। কারণ, খনিজটি পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে। যদিও শুধু ম্যাগনেশিয়ামের অভাব নয়, মানসিক চাপ, উদ্বেগ হলে এই ধরনের উপসর্গ দেখা যায়।