Cholesterol and Heart Risk

কোলেস্টেরল বাড়লে হৃদ্‌রোগের ভয়, ষাট পেরোলে ঝুঁকি বেশি, হাত ও পায়ের কী কী লক্ষণ দেখে সতর্ক হতে হবে?

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে তা হৃদ্‌রোগের আশঙ্কা বৃদ্ধি করে। তাই শরীরে কোলেস্টেরলের বাড়বৃদ্ধি হচ্ছে কি না, তা একটা বয়সের পরে যেমন নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার, তেমন নিয়ন্ত্রণেও রাখা দরকার।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৪২
Signs of potential heart issues appearing in the legs

হাত ও পায়ের কিছু লক্ষণ জানান দেয় কোলেস্টেরল বাড়ছে। ছবি: ফ্রিপিক।

কোলেস্টেরল বাড়লে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে। কিন্তু কোলেস্টেরল বাড়ছে কি না, তা বোঝা সহজ নয়। এর জন্য রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। পরিবারে উচ্চ কোলেস্টেরল এবং হৃদ্‌রোগের ইতিহাস থাকলে অনেকেই ভয় পান। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল আদৌ বাড়ছে কি না, ত জানা যায় বেশ কিছু লক্ষণে। খেয়াল রাখতে হবে হাত ও পায়ে কী কী বদল আসছে।

Advertisement

ট্রু কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড, এইচডিএল (হাই ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন), এলডিএল (লো ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন) এই চারটি মিলেই তৈরি হয় কোলেস্টেরল পরিবার। কোলেস্টেরল যে সবসময়েই খারাপ তা কিন্তু হয়। ভাল কোলেস্টেরল বেশ কিছু হরমোনের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে। সমস্যা তৈরি করে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল। এটির বাড়বৃদ্ধি হলেই রক্তবাহী ধমনীতে তা ‘প্লাক’ হিসেবে জমতে থাকে। ফলে রক্ত চলাচল বাধা পেয়ে হৃদ্‌রোগের কারণ হয়ে ওঠে।

অনেকের ধারণা চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খেলেই কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। এ ধারণা কিছুটা ভুল। একই খাবার পরিবারের তিন জন খেলেও একজনের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকতে পারে, অন্যদের স্বাভাবিক হতে পারে। এটি নির্ভর করে শরীরের বিপাকক্রিয়ার হার ও হজমশক্তি কেমন তার উপর। কারও যদি ডায়াবিটিস থাকে, তারও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধির ভয় থাকে।

হাত ও পায়ের কী কী লক্ষণ জানান দেয় কোলেস্টেরল বাড়ছে?

হাত-পায়ের অসাড়তা

ধমনীতে চর্বি জমার ফলে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত ঠিকমতো হাত-পায়ের কোষে কোষে পৌঁছতে পারে না। ফলে হাত ও পা অবশ হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। পেশির অসাড়তা বাড়ে। অনেক সময়ে হাত ও পায়ের পেশিতে সূচ ফোটার মতো অনুভূতি হয়।

পায়ের পাতায় ব্যথা

হাঁটার সময় বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় পায়ের কাফ মাসল বা ঊরুতে তীব্র টান বা ব্যথার অনুভূতি হতে পারে। এটি উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে রক্তনালি সরু হয়ে যাওয়ার ফলে হয়। পায়ের পাতায় ব্যথা যদি তীব্র হয় এবং হাঁটাচলার সময়ে যন্ত্রণা বাড়ে, তা হলে সতর্ক হতে হবে।

নখের রঙে বদল

নখের রঙে বদল আসতে পারে। নখ পাতলা হয়ে ভেঙে যেতে পারে, রং ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে। নখ ভঙ্গুর হয়ে যাবে, নখের কোণায় সংক্রমণও হতে পারে।

পায়ের পেশিতে টান

পায়ের পেশিতে টান ধরতে পারে যখন তখন। পায়ের পাতার নীচে জ্বালা ভাব হতে পারে। রক্তে কোলেস্টেরল বাড়লে পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন পায়ে টান ধরা, পায়ের আঙুল ফুলে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে থাকে।

হাত ও পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া

রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে রাতের দিকে পা ক্রমাগত ঠান্ডা হতে থাকে। হাতের তালুও ঠান্ডা হয়ে যায়। শীত হোক বা গরম বা বর্ষা, সব ঋতুতেই রাতের দিকে পা ও হাতের তালু ঠান্ডা হয়ে এলে সাবধান হওয়া দরকার।

রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে। পাশাপাশি রোজের জীবনযাপনেও কিছু বদল আনা দরকার। যেমন, মদ্যপান এড়িয়ে চলুন। সম্ভব হলে ধূমপান ছেড়ে দিন। শরীরচর্চা করতে হবে নিয়মিত। বাইরের খাওয়া, বেশি তেলমশলা দেওয়া খাবার খেলে চলবে না। সবুজ শাকসব্জি, ফল বেশি করে খেতে হবে। মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়াও কমাতে হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন