Cancer Screening

১০ রকম ক্যানসার ধরা পড়বে মাত্র একটি রক্তপরীক্ষায়, দেশের কোথায় কোথায় হবে?

ক্যানসার শনাক্তকরণের নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি আসছে দেশে। একটি মাত্র রক্তপরীক্ষায় প্রায় ১০ রকম ক্যানসার ধরা পড়বে বলে দাবি। দেশে এই পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আসছে অহমদাবাদের ওষুধ ও প্রতিষেধক নির্মাতা সংস্থা জাইডাস লাইফসায়েন্সেস।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ১৪:৩৫
Single Blood Test to Screen for Ten Common Cancers Set for India Rollout

আলাদা আলাদা নয়, একটি পরীক্ষা করলেই ১০ রকম ক্যানসার ধরা পড়বে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ক্যানসার গোড়ায় ধরা পড়লে, তা সারানো যায় অনেক ক্ষেত্রেই। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতিতে ক্যানসার গোড়ায় শনাক্ত করার নানা পদ্ধতি আবিষ্কারের দাবি করা হয়েছে বহু বার। টিউমার কোষ গজাতে না গজাতেই তার ঠিকুজি বার করে ফেলার নানা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে বিশ্ব জুড়েই। নতুন এক রকম পরীক্ষা পদ্ধতি এসেছে যা দিয়ে প্রায় ১০ রকম ক্যানসার চেনা যাবে বলে দাবি করা হয়েছে। অহমদবাদের ওষুধ ও প্রতিষেধক নির্মাতা সংস্থা জাইডাস লাইফসায়েন্সেস দেশে এই পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আসছে। এটি মূলত ক্যানসার স্ক্রিনিং টেস্ট, যা রক্তের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হবে। কী ধরনের ক্যানসার শরীরে বাসা বেঁধেছে, তা ধরা পড়বে সহজেই। খুব তাড়াতাড়ি দেশের নানা জায়গায় এই পরীক্ষা পদ্ধতিটি শুরু করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

ক্যানসারের এই পরীক্ষা পদ্ধতির নাম ‘শিল্ড মাল্টি-ক্যানসার ডিটেকশন’ (এমসিডি)। জাইডাসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশের বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতালেও রক্তের এই পরীক্ষাটি চালু করা হবে। আমেরিকার এক গবেষণা সংস্থা ‘গারড্যান্ট হেল্‌থ’ এই বিশেষ পরীক্ষা পদ্ধতিটি তৈরি করেছে বলে জানা গিয়েছে। আমেরিকান সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে এ দেশের মানুষের শারীরিক অবস্থার উপযোগী করে পরীক্ষা পদ্ধতিটি নিয়ে আসা হচ্ছে। হায়দরাবদ, অহমদাবাদ, চেন্নাই ও দিল্লিতে খুব তাড়াতাড়ি এই পরীক্ষাটি শুরু হবে। পরে দেশের অন্যান্য জায়গাগুলিতেও তা শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে জাইডাস। পরীক্ষাটি করাতে কত খরচ পড়বে, সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানায়নি তারা।

একটি রক্তপরীক্ষায় ১০ রকম ক্যানসার চেনা যাবে কী ভাবে?

স্তন ক্যানসার হোক, লিভার ক্যানসার বা প্রস্টেট ক্যানসার— প্রতি ক্ষেত্রেই রোগ চেনার জন্য আলাদা আলাদা পরীক্ষা পদ্ধতি আছে। কিন্ত ক্যানসার আদৌ হয়েছে কি না বা শরীরের কোথায় বাসা বেঁধেছে ও কতটা ছড়িয়েছে, তা জানার জন্য নানা পরীক্ষা করাতে হয়। এতে রোগীর হয়রানিও হয়। জাইডাস জানিয়েছে, একটি মাত্র রক্তপরীক্ষা করালেই যদি তা ধরা পড়ে, তা হলে যেমন রোগ চেনা যাবে খুব তাড়াতাড়ি, তেমনই কী ধরনের ক্যানসার শরীরে ছড়াচ্ছে, তা বুঝে চিকিৎসাও শুরু হবে দ্রুত।

ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলি যখন বৃদ্ধি পায় বা তাদের বিভাজন শুরু হয়, তখন রক্তপ্রবাহে সেই কোষগুলির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ডিএনএ ভেসে বেড়ায়। এই ডিএনএ-র টুকরোগুলিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ‘সার্কুলেটেড সেল-ফ্রি ডিএনএ’ (সিসিএফডিএনএ)। রক্তের পরীক্ষাটি করালে ধরা পড়ে রক্তে কী পরিমাণে ক্যানসারের ডিএনএ রয়েছে। সেগুলিতে কোনও রাসায়নিক বদল হচ্ছে কি না বা ক্যানসার কোষ সংখ্যায় বাড়ছে কি না, তা-ও ধরা পড়ে।

কী কী ক্যানসার চিহ্নিত করা যাবে?

স্তন ক্যানসার, মূত্রথলি বা ব্লাডার ক্যানসার, কোলন ক্যানসার, লিভার ক্যানসার ধরা পড়বে রক্তের এই পরীক্ষায়। পাশাপাশি, ফুসফুসের ক্যানসার, খাদ্যনালির ক্যানসার, পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার, ডিম্বাশয়ের ক্যানসার এবং প্রস্টেট ক্যানসার চিহ্নিত করা যাবে পরীক্ষাটিতে।

৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের পরীক্ষাই আগে হবে। ক্যানসারের ঝুঁকিতে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের জন্যই করা হবে পরীক্ষাটি। গবেষকেরা জানিয়েছেন, ম্যামোগ্রাম বা কোলনোস্কোপির মতো যন্ত্রণাদায়ক পরীক্ষার বদলে রক্তের পরীক্ষাতেই যদি ক্যানসার ধরা পড়ে, তা হলে বহু মানুষ উপকৃত হবেন। সঠিক সময়ে এই পরীক্ষা করা গেলে চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বহু গুণ বেড়ে যাবে।

Advertisement
আরও পড়ুন