Osteoarthritis Treatment

এক ইঞ্জেকশনে হাড়ের ক্ষত সারবে, বাত নির্মূল হবে ৪ সপ্তাহে! নতুন আবিষ্কারের দাবি বিজ্ঞানীদের

বাতের ব্যথাও নির্মূল হবে? ইঞ্জেকশনের মাত্র একটি ডোজেই তা সম্ভব বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় আর অস্ত্রোপচার নয়, কেবল ইঞ্জেকশনের ডোজেই বাত সারিয়ে ফেলার নয়া পদ্ধতি আবিষ্কার করে ফেলেছেন গবেষকেরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ১২:৫৭
Single Shot Reverses Osteoarthritis, Scientists Cure Arthritis in 4 Weeks

চার সপ্তাহে বাত নির্মূল হবে, নতুন কী চিকিৎসা আসছে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

হাঁটু ব্যথা কি বয়স্কদেরই হয়? বর্তমানে তরুণ প্রজন্মও এই হাঁটু ব্যথায় কাবু। হাঁটুর ব্যথার কারণ অনেক। জন্মগত কারণে হাড়ের গঠনে কোনও সমস্যা থাকলে, কোনও সংক্রমণ হলে, চোট লাগলে, আর্থ্রাইটিস হলে বা কার্টিলেজে আঘাত লাগলেও হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। আবার কিছু কিছু টিউমারের কারণেও হাঁটুতে ব্যথা হয়। হাঁটুর বাত বা অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের নিরাময় সহজ নয়। এর জন্য জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। তবে অস্ত্রোপচার ছাড়াও আরও এক রকম চিকিৎসা পদ্ধতিতে মাত্র চার সপ্তাহে বাত নির্মূল হবে বলে দাবি করেছেন গবেষকেরা। ইঞ্জেকশনের এক ডোজেই তা সম্ভব করে দেখিয়েছেন তাঁরা।

Advertisement

আমেরিকার কলোরাডো ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এমন ওষুধ তৈরির দাবি করেছেন যা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে হাঁটুতে দিলে বাত নির্মূল হতে পারে। প্রথমে ইঁদুরের উপর পরীক্ষা সফল হয়, পরে মানুষের শরীরেও তার প্রয়োগ হচ্ছে বলে দাবি। ইঞ্জেকশনের ডোজ় দিয়ে গবেষকেরা দেখেছেন, অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের মতো নাছোড়বান্দা বাতের ব্যথাও চার সপ্তাহের মধ্যে সেরে যাচ্ছে। হাড়ের ক্ষত মেরামত হচ্ছে নিজে থেকেই, কোষের পুনর্গঠনও হচ্ছে। তাই এই ইঞ্জেকশনটি দিলে আলাদা করে অস্ত্রোপচার করা বা হাঁটু প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন নেই বলেই মনে করছেন তাঁরা।

হাঁটুর জয়েন্ট তিনটি হাড় দিয়ে তৈরি। ঠিক তেমনই তিনটি কম্পার্টমেন্ট থাকে, যেমন - মেডিয়াল কম্পার্টমেন্ট, ল্যাটেরাল কম্পার্টমেন্ট ও প্যাটেলফিমোরাল কম্পার্টমেন্ট। যখন অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের ব্যথা শুরু হয় তখন প্যাটেলফিমোরাল কম্পার্টমেন্ট থেকে ব্যথা শুরু হয়। ব্যথার কারণে অনেক সময়েই হাঁটু বেঁকে যায়, চলতে ফিরতে কষ্ট হয়। উঠতে বা বসতে গেলে পা অসাড় হয়ে যায়।

আর্থ্রাইটিস যদি প্রাথমিক পর্যায়ে হয়ে থাকে তাহলে আর্থোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে কার্টিলেজ বদল করা সম্ভব। কিন্তু তার পরে গিয়ে হাড়ের ক্ষয় এত দ্রুত হতে থাকে যে, হাঁটু প্রতিস্থাপন ছাড়া গতি থাকে না। তবে নতুন পদ্ধতিতে সেই জটিলতা কমবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

কাদের জন্য পদ্ধতিটি কার্যকর হতে পারে?

মাঝারি স্তরের বা জটিল অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসে যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের জন্য পদ্ধতিটি কার্যকর হতে পারে। দুর্ঘটনায় পায়ে বা হাঁটুতে আঘাত, লিগামেন্টে আঘাত পেলে এই পদ্ধতির প্রয়োগ করা যেতে পারে। অল্প বয়সে হাঁটুর সমস্যায় ভুগছেন, অস্ত্রোপচার করাতে চাইছেন না যাঁরা, তাঁদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ফলপ্রসূ হতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন