Digital nose to catch Food Poisoning

মানুষের নাককে টক্কর দিতে আসছে ‘ডিজিটাল নাক’! কোন খাবারটি ভাল, কোনটি মন্দ, গন্ধ শুঁকেই বলে দেবে

বাইরে থেকে দেখতে তাজা, অথচ ভিতরে ভিতরে সেটি পচছে কি না, অথবা সে খাবারে রাসায়নিক মিশে আছে কি না, তা দেখে বা গন্ধ শুঁকে চিনে ফেলা মানুষের কর্ম নয়। সে কাজেই সাহায্য করবে ‘ডিজিটাল নাক’।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৫
How Berkeley’s Tiny \\\\\\\\\\\\\\\'Electric Nose\\\\\\\\\\\\\\\' Could Save Millions from Food Poisoning

কোন খাবারটি খেলে বিষক্রিয়া হবে, কোনটিতে অ্যালার্জি, ধরবে ‘ডিজিটাল নাক’। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

বর্ষাকাল এলে জীবাণু ঘটিত রোগ বেড়ে যায়। খাবার বা জল থেকে ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটে। দেখা যায়, বর্ষার সময়ে পেটের গোলমাল, ডায়েরিয়ার প্রকোপ অনেকটাই বাড়ে। কোন খাবার থেকে বিষক্রিয়া হতে পারে, তা বোঝা সহজ নয়। বাইরে থেকে দেখে টাটকা বা তাজা মনে হচ্ছে, অথচ সেই খাবারটি খেয়েই হয়তো মারাত্মক পেটের রোগ হল। বাড়িতে ফ্রিজে রেখে দেওয়া বাসি খাবার বা রাস্তায় বিক্রি হওয়া খাবার থেকে বিষক্রিয়া হতে পারে যখন তখন। খাবারটি বাইরে টাটকা দেখালেও ভিতরে ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটেছে কি না, তা দেখে বা গন্ধ শুঁকে বোঝা মানুষের কর্ম নয়। কিন্তু যন্ত্র তা চিনবে। সেটি এমন এক ডিভাইস, যা খাবারের গন্ধ শুঁকেই বলে দেবে সেটি খেলে বিষক্রিয়া হতে পারে কি না। অথবা সেই খাবারটি থেকে অ্যালার্জির সমস্যা মাথাচাড়া দিতে পারে কি না।

Advertisement

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা তৈরি করে ফেলেছেন ‘ডিজিটাল নাক’। এমন এক যন্ত্র, যাতে অসংখ্য সেন্সর বসানো আছে। কোনও খাবারের উপর দিয়ে যন্ত্রটি ঘোরালে, সেই সেন্সর গন্ধ শুঁকে বলতে পারবে খাবারটি একেবারে টাটকা কি না অথবা সেই খাবারটি খাওয়া নিরাপদ হবে কি না। খাবারের ভিতরে কী ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটছে বা কোন কোন জীবাণু জন্মাচ্ছে, তা মানুষের নাক বুঝতে পারবে না। যান্ত্রিক নাকই তা পারবে। তাই এমন যন্ত্র বানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

খাবারের ভাল-মন্দ চিনবে কী ভাবে?

যন্ত্রটিতে ক্ষুদ্র চিপ বসানো আছে। তার সঙ্গে জোড়া আছে অসংখ্য সেন্সর। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, যন্ত্রটি এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যা ভবিষ্যতে ফ্রিজ বা স্মার্টফোনের মতো রোজের ব্যবহারের জিনিসের সঙ্গেও জোড়া যাবে, যা খাবার নষ্ট হওয়ার আগেই সতর্ক করবে। এমনকি, রেস্তরাঁয় গিয়ে খাবারের উপর এই যন্ত্রটি ঘুরিয়ে নিলেই বোঝা যাবে, খাবারটি নিরাপদ কি না। যদি খাবারে প্রিজ়ারভেটিভ মিশিয়ে টাটকা দেখানোর চেষ্টা হয়, তা হলে সেটিও ধরা পড়বে যন্ত্রটিতে।

গন্ধ শুঁকেই খাবারের ভাল-মন্দ বুঝবে যান্ত্রিক নাক।

গন্ধ শুঁকেই খাবারের ভাল-মন্দ বুঝবে যান্ত্রিক নাক।

খাবার যখন নষ্ট হতে শুরু করে বা পচে যায়, তখন সেখান থেকে বিশেষ কিছু গ্যাস বা জৈব যৌগ তৈরি হয়, যা মানুষের নাকে ধরা পড়ে না। কিন্তু এই যন্ত্রের সেন্সর তা চিনতে পারে। তা ছাড়া যন্ত্রটিতে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা খাবারের ভিতরে ঘটে চলা রাসায়নিক বদলগুলিকেও বুঝতে পারে। সেই খাবারটি হজমে সহায়ক কি না বা তাতে এমন কিছু মিশে আছে কি না, যা খেলেই অ্যালার্জি হতে পারে, সে সঙ্কেতও দিতে পারে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, ফ্রিজে অনেক দিন ধরে রেখে দেওয়া কাঁচা মাছ বা মাংসে জীবাণু সংক্রমণ ঘটেছে কি না, তা বুঝতেও যন্ত্রটির প্রয়োগ করা যেতে পারে। অথবা সারাদিন ধরে ফ্রিজের বাইরে রাখা রয়েছে যে খাবারটি, সেটি খেলে পেটের সমস্যা হবে কি না, তা যন্ত্র ঘুরিয়েই বোঝা যাবে।

গবেষকদের আশা, যন্ত্রটি পরবর্তী সময়ে চিকিৎসার কাজেও লাগানো যাবে। রোগীর গায়ের গন্ধ চিনে রোগ ধরার মতো প্রযুক্তিও এই যন্ত্রটির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যাবে বলেই মনে করছেন গবেষকেরা।

Advertisement
আরও পড়ুন