হেঁশেলের অন্দরসজ্জায় ভুল। ছবি: সংগৃহীত।
আজ তরল সাবান দিয়ে ধুলেন, কাল আবার গুঁড়ো সাবান। কখনও আবার ঘরোয়া উপকরণ হিসেবে লেবু, বেকিং সোডা ইত্যাদিও ব্যবহার করলেন। তার পরেও ঝকঝকে তকতকে, নতুনের মতো দেখায় না। নিজের খাটনিকেই দোষ দিতে লাগলেন। কিন্তু আপনার কসরতে খামতি ছিল না। সম্ভবত সমস্যা রয়ে গিয়েছে অন্যত্র। তা হল হেঁশেলের অন্দরসজ্জা।
বিলাসবহুল অথবা কেতাদুরস্ত ভেবে নানা উপকরণ ব্যবহার করা হয় অন্দরসজ্জায়। কিন্তু কিছু বিশেষ ধরনের নকশার কারণে রান্নাঘর নোংরা দেখায় সারাক্ষণ। সেগুলি থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। তাই নকশা সংক্রান্ত বদল সম্ভব হলে তা করিয়ে নিতে পারেন। এতে কেবল দৃশ্যত পরিষ্কার হয় না, স্বাস্থ্যবিধিও বজায় রাখা যায়। তবে নান্দনিকতার চেয়ে স্বাস্থ্যবিধির কথাই মাথায় বেশি রাখা উচিত। না হলে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে।
রান্নাঘরের সজ্জায় যে ভুলগুলি সাধারণত হয়ে থাকে:
খুব বেশি খাঁজযুক্ত টাইলস
অনেকেই খাঁজযুক্ত টাইলস বা বিভিন্ন অংশে ছোট ছোট টাইলস ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। দেখতে সুন্দর লাগলেও সমস্যা অন্য জায়গায়। প্রতিটি টাইলসের মাঝে ধুলো, তেল-মশলার দাগ এবং আর্দ্রতা জমতে থাকে। কিছু দিন পর সেগুলি কালচে হয়ে যায় এবং পরিষ্কার করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এখন অনেকেই বড় আকারের প্যানেল বা কম খাঁজযুক্ত নকশা বেছে নিচ্ছেন। এতে রান্নাঘর পরিচ্ছন্ন দেখায়, পরিষ্কার করতেও কম সময় লাগে।
কাউন্টারটপ ভর্তি জিনিসপত্র
মিক্সার, মশলার বোতল, শোপিস, ছোট ছোট পাত্র, নানা রকম সাজসজ্জার সামগ্রী— সব কিছু যদি কাউন্টারটপের উপর সাজানো থাকে, তা হলে রান্নাঘর আর পরিষ্কার থাকবে কী ভাবে? দ্রুত অগোছালো হয়ে যায় জায়গাটি। এ ছাড়া প্রতিটি জিনিসের চারপাশে ধুলো এবং তেলের আস্তরণ জমে। ফলে পরিষ্কার করতে সময়ও অনেক বেশি লাগে। বন্ধ আলমারি এবং স্মার্ট স্টোরেজ ব্যবস্থা ব্যবহার করলে রান্নাঘর অনেক বেশি গোছানো দেখায়।
এমন স্ল্যাব বেছে নেওয়া যা দাগ শুষে নেয়
রান্নাঘরে তেল, হলুদ, ঝোল, চা বা কফির দাগ লাগা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু স্ল্যাবের উপকরণ যদি ছিদ্রযুক্ত হয়, তা হলে এই দাগ সহজেই শুষে নেয়। এক বার দাগ ঢুকে গেলে তা তোলা কঠিন হয়ে যায়। শুধু তা-ই নয়, তাতে আর্দ্রতা এবং জীবাণুও জমতে পারে। তাই রান্নাঘরের জন্য এমন উপকরণ বেছে নেওয়া ভাল, যা সহজে দাগ শোষণ করে না এবং পরিষ্কার করাও সহজ। তাই ইঞ্জিনিয়ার্ড কোয়ার্ৎজ়ের মতো ছিদ্রহীন উপকরণ দিয়ে স্ল্যাব বা কাউন্টারটপ বানালে তা তেল, হলুদ ইত্যাদি শুষে নেবে না। তাই উপর দিয়ে ১-২ বার ঘষে নিলেই পরিষ্কার হয়ে যায়।
রং বাছাই
শুধু সাদা রঙের রান্নাঘর দেখতে খুব সুন্দর লাগলেও সেখানে সামান্য দাগ বা ধুলোও স্পষ্ট চোখে পড়ে। আবার অত্যন্ত গাঢ় রঙের ক্ষেত্রে উল্টো সমস্যা দেখা দেয়। ময়লা জমলেও সহজে বোঝা যায় না। তাই হালকা ও গাঢ় রঙের মাঝামাঝি কিছু নেওয়া ভাল। হালকা ধূসর, ক্রিম, ফিকে সবুজ বা নরম মাটির রঙের মতো শেড রান্নাঘরকে পরিচ্ছন্ন দেখায়, আবার ছোটখাটো দাগও খুব বেশি চোখে পড়ে না।
এমন কোণ বা খাঁজ তৈরি করা, যেখানে হাতই পৌঁছোয় না
ফ্রিজের পিছনে সরু ফাঁক, আলমারির ভিতরে লম্বা তাক বা রান্নাঘরের এমন কিছু জায়গা থাকে যেখানে নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রায় অসম্ভব— এই জায়গাগুলিতেই ধুলো, তেল এবং ময়লা সবচেয়ে বেশি জমে। বাইরে থেকে দেখা না গেলেও ধীরে ধীরে পুরো রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা নষ্ট করতে পারে তা। তাই রান্নাঘর পরিকল্পনার সময় এমন নকশা বেছে নেওয়া উচিত, যেখানে প্রতিটি অংশ সহজে পরিষ্কার করা যায়।