Lionel Messi’s Houses

৩টি দেশে ছড়িয়েছিটিয়ে বসতবাড়ি, গাড়ির আলাদা লিফ্‌ট থেকে গোটা ফুটবল মাঠ, কী নেই মেসির!

মাঠে তাঁর জাদুকরি বাঁ পায়ের ছোঁয়ায় মুগ্ধ হয়েছেন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী। কিন্তু মাঠের বাইরে মেসির আরও একটি শখ রয়েছে, আর তা হল বাড়ি কেনা। বাড়ির সংখ্যা দেখেই তা মালুম হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ১৮:৪২
তিনটি দেশে ছ’টি বাড়ির মালিক মেসি।

তিনটি দেশে ছ’টি বাড়ির মালিক মেসি। ছবি: সংগৃহীত।

স্পেন, আর্জেন্টিনা, আমেরিকা জুড়ে রয়েছে তাঁর আস্তানা। তিনি একাধিক বিলাসবহুল বাড়ির মালিক। তিনি লিয়োনেল মেসি।

Advertisement

তারকা ফুটবলারের প্রতিটি বাড়িই জনগণের চোখের আড়ালে বানানো হয়েছে। মেসির ৪টি বাড়িই গেটবন্দি এলাকায় আবদ্ধ। মূলত জলাশয়ের পাশে কেনা, যাতে সহজে বাইরের ব্যক্তির প্রবেশ না ঘটে। কোনওটিতে হেলিপ্যাড রয়েছে, কোনওটিতে নিজস্ব ফুটবল মাঠ। তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও এবং কায়রোর খেলাধুলোর জন্য আলাদা প্রাঙ্গণ। জিম, সুইমিং পুল, সিনেমা দেখার থিয়েটার— কী নেই সেই বাড়িগুলিতে!

ছবি: সংগৃহীত।

মাঠে তাঁর জাদুকরি বাঁ পায়ের ছোঁয়ায় মুগ্ধ হয়েছেন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী। কিন্তু মাঠের বাইরে মেসির আরও একটি শখ রয়েছে, আর তা হল বাড়ি কেনা। তা তো বাড়ির সংখ্যা দেখেই বোঝা হয়।

ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

২০০৯ সালে বার্সেলোনার অভিজাত উপকূলীয় এলাকা কাস্তেলদেফেলসে প্রায় ১৯ কোটি টাকার একটি বাড়ি কেনেন। বার্সেলোনার স্টেডিয়ামের কাছেই এই বিশাল প্রাসাদে রয়েছে জিম, স্পা, সিনেমা থিয়েটার, সুইমিং পুল, বার্বিকিউ করার ছাদ এবং তাঁর সন্তানদের সঙ্গে খেলার জন্য একটি ছোট ফুটবল মাঠ। এমনকি প্রতিবেশীদের আওয়াজ বরদাস্ত করতে না পেরে মেসি পাশের জমিটাও কিনে নিয়েছিলেন। তাঁর বাড়ির উপর দিয়ে কোনও বিমান ওড়ে না বলে সম্পূর্ণ নিরিবিলিতে থাকতে পারেন সেখানে। আধুনিক ধাঁচে সাজানো এই বাড়ির বড় বড় জানলা দিয়ে ভূমধ্যসাগর ও পাহাড়ের চমৎকার দৃশ্য দেখা যায়। স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ়্জ়ো, তিন সন্তান ও পোষ্যকে নিয়ে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন। তবে বার্সেলোনা ক্লাব ছাড়ার পর সেই বাড়ি আর আছে কি না তা জানা যায় না।

ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

২০১৯ সালে আমেরিকার মায়ামির ফ্লরিডায় প্রায় ৪৭ কোটির একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কেনেন। ৬০ তলার পোরশে ডিজ়াইনের বহুতলে ৩,৫৫৫ বর্গফুটের ৩টি বেডরুমের ফ্ল্যাট সেটি। এই টাওয়ারে শুধু গাড়ি উপরে তোলার জন্য একটি আলাদা কাচের লিফ্‌ট রয়েছে। এখানে যে তারকারা থাকেন, তাঁরা গাড়ি থেকে না নেমেই সরাসরি নিজেদের ফ্ল্যাটে পৌঁছোতে পারেন। মেসির এই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে সমুদ্রের চমৎকার দৃশ্য দেখা যায় এবং বারান্দায় একটি সুইমিং পুলও রয়েছে। এ ছাড়া একটি পুরোদস্তুর স্পা, রেস্তরাঁ, বার ইত্যাদির সুযোগসুবিধা পাওয়া যায়।

ছবি: সংগৃহীত।

২০২১ সালে ফ্লরিডার বাড়ির কাছেই ‘রেগালিয়া’ বিল্ডিংয়ের পুরো নবম তলাটি প্রায় ৭০ কোটি টাকায় কিনে নেন মেসি। ৪টি বেডরুম ও ৬টি শৌচালয়ের এই বাড়ি ২,১০০ বর্গফুটের। বিশাল বারান্দা, মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত কাচের জানলা, ১,০০০ বোতলের ওয়াইন রুম এবং প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি পাথরের বাথরুম রয়েছে। পাশাপাশি, এখানে ছ’টি সুইমিং পুল ও স্পা-সহ বিলাসবহুল সব বন্দোবস্ত রয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত।

২০২১ সালেই ‘রেগালিয়া’র কাছে ‘ট্রাম্প রয়্যাল’ বিল্ডিংয়ে প্রায় ১৭ কোটি টাকায় কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন, যদিও সেখানে থাকার কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। সম্পত্তির বিস্তারের কথা ভেবেই হয়তো কিনে রেখেছেন সে বাড়ি।

ছবি: সংগৃহীত।

২০২২ সালে নিজের জন্মভূমি আর্জেন্টিনার রোজ়ারিওতে ‘দ্য ফোর্ট্রেস’ নামে তিনটি প্লট জুড়ে একটি বিশাল প্রাসাদ তৈরি করেছেন মেসি। যা তাঁর অবসরের পর স্থায়ী ঠিকানা হতে পারে। তাঁর বিলাসবহুল গাড়ি সংগ্রহ রাখার মতো গাড়িবারান্দাও তৈরি করা হয়েছে। এই প্রাসাদে ১৫টি গাড়ি রাখার মতো গ্যারেজ করা হয়েছে মাটির তলায়। তা ছাড়া বিশাল সিনেমা থিয়েটার ও জিম তো রয়েইছে।

ছবি: সংগৃহীত।

একই বছরে স্পেনের ইবিজ়া দ্বীপে প্রায় ১২০ কোটি টাকার একটি অট্টালিকা কিনেছেন। মূলত ছুটি কাটানোর জন্য নিরিবিলি নীড়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সেই দ্বীপে মেসির একটি নিজস্ব বিলাসবহুল হোটেলও রয়েছে, যেখানে তিনি প্রায়ই সপরিবার গরমের ছুটি কাটাতে যান।

ছবি: সংগৃহীত।

ইন্টার মায়ামি ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কয়েক মাস পর, ২০২৩ সালে মেসি ফ্লোরিডায় প্রায় ১০০ কোটি দিয়ে তাঁর চতুর্থ বাড়িটি কেনেন। আগের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টগুলির মতো অত সাজানো গোছানো নয় বটে, কিন্তু নিজস্ব ওয়াটারফ্রন্ট সুইমিং পুল, ৭০ ফুটের জলাশয়, জিম এবং স্পা রুম রয়েছে। এ ছাড়া বাড়িটি ইন্টার মায়ামির মাঠ থেকেও খুব দূরে নয়।

Advertisement
আরও পড়ুন