আদালত থেকে বেরিয়ে অপরূপা পোদ্দার। পিছনে স্বামী শাকির আলি। —নিজস্ব চিত্র।
এনআইএ মামলায় তৃণমূল কাউন্সিলর শাকির আলির জামিন মঞ্জুর হয়েছে ২৪ ঘণ্টা আগে। শনিবার তাঁর স্ত্রী অপরূপা পোদ্দারও আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুলিশের মামলায় অন্তর্বর্তিকালীন জামিন পেলেন। আরামবাগের দু’বারের সাংসদ অপরূপাকে এর পর এমপি-এমএলএ আদালতে হাজিরা দিতে হবে। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের তরফে জানানো হয়েছে, আবার নোটিস পাঠানো হতে পারে অপরূপাকে।
গত মঙ্গলবার শাকিরের গ্রেফতারির সময়ে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী অপরূপার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। শুক্রবার এ জন্য শ্রীরামপুর থানায় হাজিরা দিতে হয় অপরূপাকে। আবার শুক্রবারই এনআইএ আদালত শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছে শাকিরের। শনিবার স্বামীকে নিয়ে শ্রীরামপুর মহকুমা আদালতে হাজিরা দেন অপরূপা। আদালত তাঁর অন্তর্বর্তিকালীন জামিন মঞ্জুর করে। তবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের প্রাক্তন সাংসদকে ময়ূখ ভবনে বিশেষ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট দিনে থানায় যাননি অপরূপা। সে জন্য তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারা যুক্ত করা হয়েছিল। অর্থাৎ, জামিন পেতে হলে অপরূপাকে যেতে হত আদালতে। শনিবার জামিন মঞ্জুরের পর এ বিষয়ে একটি শব্দও বলেননি প্রাক্তন সাংসদ। তিনি জানান, যা বলার তাঁর আইনজীবী বলবেন। অপরূপার আইনজীবী জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা ৩০ সেপ্টেম্বর সল্টলেকের ময়ূখ ভবনে এমপি-এমএলএ আদালতে হাজিরা দেব।’’ পুলিশের মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ পুলিশের কাজ করবে। আমরা আমাদের কাজ করব। আদালত আমাদের কথা মেনেছে। পুলিশ তো অনেক কিছুই বলতে পারে। ‘অ্যাটেমপ্ট টু মার্ডার’-এর কোনও ঘটনা না থাকলেও সেই মামলার কেস দেওয়া হচ্ছে। ‘অ্যাসল্ট’ (আঘাত) তো কাউকে করা হয়নি! পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছিল। আমরা আইনি ভাবে তার লড়াই করব।’’
অন্য দিকে, চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার সুনীলকুমার যাদব বলেন, ‘‘তথ্য জানতে ডাকা হয়েছিল। আবার ডাকা হতে পারে। সে দিন কারা কারা ছিলেন, সেই তথ্যগুলি জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আবার ডাকব। আবার নোটিস পাঠানো হবে।’’