Hawker Eviction

হকার উচ্ছেদে রাশ টানল রাজ্য! দুর্গাপুজো পর্যন্ত আর পদক্ষেপ নয়, জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিলেন সংগঠনগুলিকে

যদিও রেলের জমিতে হকার উচ্ছেদে রাজ্য সরকারের কোনও হাত নেই, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তিনি কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৮:২০
Chief Minister Suvendu Adhikari assures that hawkers will not be evicted until Durga Puja

হকার উচ্ছেদ আপাতত বন্ধ রাখার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দুর্গাপুজো পর্যন্ত রাজ্যে কোথাও কোনও হকার উচ্ছেদ হবে না। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে গিয়ে এমনই আশ্বাস পেল হকার সংগঠনগুলি। তাদের দাবি, আগামী অক্টোবর পর্যন্ত উচ্ছেদ প্রক্রিয়া রাশ টানা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি’র রাজ্য সভাপতির দাবি, তাঁদের আবেদনে সাড়া দিয়েছেন শুভেন্দু। যদিও রেলের জমিতে হকার উচ্ছেদে রাজ্য সরকারের কোনও হাত নেই, তা-ও বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তিনি কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

Advertisement

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে হকার উচ্ছেদ নিয়ে শোরগোল শুরু হয়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। হকারদের অভিযোগ ছিল, আগাম কোনও বার্তা না-দিয়েই উচ্ছেদ করা হচ্ছে। বিকল্প ব্যবস্থারও দাবি ওঠে। জনতার দরবারে সেই অভিযোগ নিয়ে হাজির হন ‘হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি’র রাজ্য সভাপতি অসিত সাহা। শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর আপাতত স্থগিতের আশ্বাস মিলেছে বলে দাবি করেন তিনি। অসিত জানান, বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে। তাঁদের কথা শুনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্য জুড়ে হকারদের উচ্ছেদ নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কেটেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানবিকতার খাতিরে উৎসবের মরসুম শেষ না-হওয়া পর্যন্ত কোনও হকারকে সরানো হবে না।’’ অর্থাৎ, রাজ্য জুড়ে যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছিল, তাতে সাময়িক ভাবে ইতি পড়ছে।

হকার সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

হকার সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —নিজস্ব চিত্র।

পালাবদলের পর উচ্ছেদের প্রথম ছবি দেখা যায় বিভিন্ন রেল স্টেশনে। অভিযোগ ওঠে, বিভিন্ন এলাকায় রেল হকার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপর চাপ বৃদ্ধি হচ্ছে। অন্যায় ভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও দাবি। এই অভিযোগকে সামনে রেখে পথে নামেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবাদে সরব হয় বামেরাও। তবে দিকে দিকে হকার উচ্ছেদের নানা ছবি দেখা যায়। অভিযোগ, কখনও দিনের আলোয়, আবার কখনও রাতের অন্ধকারে বুলডোজ়ার নামিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সার সার নির্মাণ।

সমাধান সূত্র খুঁজতে আগেই সরকারের দ্বারস্থ হয়েছিল হকার সংগঠনগুলি। কী ভাবে হকারেরা তাঁদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন, তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা পূর্ত দফতরের সঙ্গে। সংগঠনগুলি আশাবাদী, বৈঠকে সমাধানের রূপরেখা বেরিয়ে আসবে। সেই আবহে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে গিয়ে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ করার আবেদন জানানো হয়।

Advertisement
আরও পড়ুন