‘সুপারফুড’ ডায়েটে জুড়লেই কি চুলের সব সমস্যার সমাধান হবে? ছবি: সংগৃহীত।
বর্ষার মরসুম আসতেই চুল রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে? চুল ঝরার সমস্যাও দ্বিগুণ হচ্ছে? বৃষ্টি হলেও এই সময় ভ্যাপসা গরম থাকে। তার ফলে ঘামও হয়। মাথার ত্বক ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে চুল ঝরা স্বাভাবিক। কেশের পরিচর্যা জরুরি, তবে চুলের সার্বিক বৃদ্ধির জন্য দরকার সঠিক পুষ্টি। সেই পুষ্টিরই জোগান দিতে পারে ‘সুপারফুড’।
চুলের জন্য ৩ ‘সুপারফুড’
যে সব খাবারে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ থাকে, সেগুলিকে সাধারণত ‘সুপারফুড’-এর তালিকায় ফেলা হয়। তবে এর কোনও নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের জন্য দরকার প্রোটিন, বায়োটিন, জ়িঙ্ক, ভিটামিন বি-এর মতো খনিজ। সেই সব পুষ্টির শর্ত পূরণ করে, এমন খাবারকে রাখা যেতে পারে চুলের ‘সুপারফুড’-এর তালিকায়।
আমলকি: চুলের জন্য জরুরি হল কোলাজ়েন, কেরাটিন প্রোটিন। আমলকিতে থাকা ভিটামিন সি, কোলাজেনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এই ছোট্ট ফলে, ভিটামিন সি ছাড়াও রয়েছে ভিটামিন ই, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। খনিজে ভরপুর আমলকিতে রয়েছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস। তা মাথায় রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। ফলে চুল বাড়েও তাড়াতাড়ি। এ ছাড়াও খুশকি এবং ছোটখাটো সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে ফলটি।
সজনেপাতা: ভিটামিন এ, সি-সমৃদ্ধ এই ভেষজে আয়রন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, জ়িঙ্কের মতো খনিজও রয়েছে ভরপুর মাত্রায়। এ ছাড়া প্রদাহনাশক এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদানও রয়েছে। ভিটামিন-এ মাথার ত্বকের যত্ন নিতে সাহায্য করে। জ়িঙ্ক এবং আয়রন চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং বৃদ্ধিতে সহায়ক। সেই কারণে নিয়মিত ডায়েটে সজনেপাতা থাকলে শরীরে চুলের বৃদ্ধির উপযোগী পুষ্টির জোগানে সমস্যা হবে না।
কারিপাতা: কারিপাতায় রয়েছে অ্যামিনো অ্যাসিড, আয়রন, বিটা-ক্যারোটিন। অ্যামিনো অ্যাসিড মেলানিন ধরে রাখতে সাহায্য করে। চুল কালো করে। আয়রন এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট অকালপক্বতা রোধ করে এবং চুলের গোড়া মজবুত রাখে।
সুপারফুড ডায়েটে জুড়লেই কি কাজ হবে?
ত্বকের রোগের চিকিৎসেকরা বলছেন, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পেতে হলে পুষ্টিতে খামতি থাকা চলবে না। বরং চুলের বৃদ্ধির উপযোগী ভিটামিন এবং খনিজ ডায়েটে রাখা দরকার। নিয়ম করে আমলকি খেলে, দৈনন্দিন খাবারে কারিপাতা জুড়লে, সজনেপাতা শাক হিসাবে খেলে অবশ্যই শরীর সুস্থ থাকবে। প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজের জোগান ঠিক থাকলে, সামগ্রিক ভাবে শরীর ভাল থাকবে। চুলও হবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। শুধু এই তিন খাবারই নয়, পর্যাপ্ত জল, রকমারি ফল, বাদাম, বীজ, মাছও রোজের ডায়েটে সঠিক মাত্রায় যোগ করা জরুরি।
সুপারফুড আচমকা কোনও জাদু করতে পারে না ঠিকই, কিন্তু প্রতি দিন পরিমিত পরিমাণে খেলে, কিছু দিন পরে চুলের স্বাস্থ্য ভাল হবে। তবে তার সঙ্গে প্রয়োজন সঠিক পন্থায় কেশচর্চা।