Gallbladder Stone Risks

খাওয়ার পরেই পেটে ব্যথা হয়? কেবল বদহজম নয়, এর নেপথ্যে থাকতে পারে অন্য রোগের ইঙ্গিত!

মেরিল্যান্ডের অ্যানাস্থেশিয়োলজিস্ট কুণাল সুদ জানাচ্ছেন, খাবার খাওয়ার পর পেটে ব্যথা হলে সতর্ক হতে হবে। কোন রোগের ইঙ্গিত বহন করছে এই উপসর্গ?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৬
পেটে ব্যথার নেপথ্যে কোন রোগ থাকতে পারে?

পেটে ব্যথার নেপথ্যে কোন রোগ থাকতে পারে? ছবি: সংগৃহীত।

খাওয়ার পরেই পেটে ব্যথা হয়? হজমের সমস্যা, পেটফাঁপা ইত্যাদি বলেই অবহেলা করে চলেছেন দিনের পর দিন। এর নেপথ্যে থাকতে পারে জটিল রোগও। যদি দেখা যায় এ ব্যথা দীর্ঘ দিন ধরে কষ্ট দিচ্ছে, সঙ্গে বমি ভাবও রয়েছে, তা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে দ্রুত কথা বলা দরকার। কিন্তু কোন রোগের ইঙ্গিত বহন করছে এই উপসর্গ?

Advertisement

মেরিল্যান্ডের অ্যানাস্থেশিয়োলজিস্ট কুণাল সুদ বিশেষ রোগ নিয়ে কথা বললেন তাঁর ইনস্টাগ্রামের পাতায়। তাঁর মতে, খাবার খাওয়ার পরে যদি প্রায়শই পেটে ব্যথা করে, তা হলে গলব্লাডারে বা পিত্তথলিতে পাথর জমার মতো সমস্যা থেকেও হতে পারে।

গলব্লাডারে পাথর জমে কেন?

গলব্লাডারে পাথর জমে কেন? ছবি: সংগৃহীত।

লিভারের নীচে ডান দিক ঘেঁষে অবস্থিত একটি ছোট অঙ্গ পিত্তথলি। লিভারে উৎপাদিত অতিরিক্ত পিত্ত এই গলব্লাডারে এসে জমা হয়। পিত্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বা বিলিরুবিন জমা হওয়া বা পিত্তথলি ঠিক মতো খালি না হওয়ার কারণে সমস্যা শুরু হয়। পিত্তের উপাদানগুলি কঠিন আকার ধারণ করলে পাথরের সৃষ্টি হয়। অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করলে, অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। পাথর পিত্তরস নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করলে ব্যথা হয়।

শুরু থেকেই যে সব লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে তা নয়। অনেক সময় ছোটখাটো বিষয় না বুঝে এড়িয়ে যান লোকে। এগুলি কিন্তু পাথর হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসকের কথায়, ‘‘গলব্লাডারে পাথর হওয়া বিরল রোগ নয়। কিন্তু অনেক সময়ে উপসর্গগুলিকে পাত্তা না দিয়ে জটিলতা বাড়িয়ে তোলেন কেউ কেউ। তাই পেটে ব্যথা নিয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি।’’

এই অসুখের মূল লক্ষণ পেটের ডান দিকের ব্যথা, যা কি না ছড়িয়ে পড়ে ডান কাঁধ অবধি। পেটের উপরের অংশে ডান দিকে ব্যথা হলে তার বিস্তার নজরে রাখতে হবে। বিশেষ করে ফ্যাটযুক্ত খাবার বেশি খেলে এই ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। সঙ্গে বমি ভাবও থাকতে পারে। এক বার শুরু হলে, এ ব্যথা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কষ্ট দিতে পারে। এই বিশেষ লক্ষণ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসক।

কাদের জন্য এই রোগের ঝুঁকি বেশি?

চিকিৎসক জানাচ্ছেন, মহিলাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের রোগের ঝুঁকি বেশি। ঘন ঘন উপোস করা, অসময়ে খাওয়া, ডায়াবেটিক, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে নেই, মেনোপজ়ের পর হরমোন রিপ্লেসমেন্টে অভ্যস্ত বা এক সময়ে প্রচুর গর্ভনিরোধক বড়ি খেয়েছেন, এমন মহিলাদের এই স্টোনের আশঙ্কা বেড়ে যায় অনেকটা। গর্ভাবস্থায় হরমোনের ওঠানামাও এই রোগকে উস্কে দেয়। তবে পাশাপাশি, পুরুষদের মধ্যেও যাঁদের ওজন বেশি, যাঁরা হজমের সমস্যায় ভুগছেন দীর্ঘ দিন, তাঁদেরও গলব্লাডারে পাথর জমার প্রবণতা বেশি থাকে।

Advertisement
আরও পড়ুন