Pancreatic Cancer

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার সারবে ওষুধে! কেমোথেরাপির যন্ত্রণা কমাতে নতুন ট্যাবলেট আনছেন গবেষকেরা

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার মানেই জটিল অস্ত্রোপচার বা কেমোথেরাপির কথাই মাথায় আসে। রোগটি যতটা যন্ত্রণাদায়ক, তার চিকিৎসাপদ্ধতিও ততটাই জটিল। তবে রোগীর যন্ত্রণা কমাতে চিকিৎসাপদ্ধতিতে বদল আনার চেষ্টা করছেন গবেষকেরা। ক্যানসার সারাতে তৈরি করা হয়েছে খাওয়ার ওষুধও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ১১:৩৪
Study found new pill Daraxonrasib extended survival in advanced pancreatic cancer

ট্যাবলেট খেলেই সারবে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার, কী দাবি গবেষকদের? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার ধরা পড়লেই মাথায় হাত পড়ত চিকিৎসকদের। অন্যান্য ক্যানসারের চেয়ে এ ক্যানসারের ধরন কিছু আলাদা। প্রায় উপসর্গহীন এবং অগ্ন্যাশয়ে এক বার টিউমার তৈরি হলে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে ঝড়ের গতিতে। অর্থাৎ, রোগী যত দিনে পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাবেন, তত দিনে হয়তো ক্যানসার তৃতীয় বা চতুর্থ পর্বে পৌঁছে যাবে। তাই অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসা যথেষ্টই জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ইদানীং ক্যানসারের অনেক নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি বেরিয়ে গিয়েছে। কেমোথেরাপি বা রেডিয়োথেরাপির যন্ত্রণা কমাতে ইমিউনোথেরাপিতেও ভরসা রাখছেন চিকিৎসকেরা। তবে ক্যানসার যদি জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন রোগীর যন্ত্রণা কমিয়ে তাঁকে স্থিতিশীল করতে এক বিশেষ রকম ওষুধ তৈরি করা হয়েছে। এই ওষুধটিকে অনুমোদন দেওয়ার পথে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও (এফডিএ)।

Advertisement

অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ হল ‘প্যানক্রিয়াটিক ডাক্টাল অ্যাডিনোকার্সিনোমা’। এই ক্যানসার ছড়াতে শুরু করলে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা প্রায় অসম্ভব। এই ধরনের ক্যানসার তাড়াতাড়ি ধরাও পড়ে না। তলে তলে শরীরে বাড়তে থাকে। গবেষকেরা দেখেছেন, কয়েকটি জিনের মিউটেশনের (রাসায়নিক বদল) কারণেই ক্যানসারের এত বাড়বাড়ন্ত হয়। সেই জিনগুলিকে আয়ত্তে আনতে ওষুধের থেরাপি কার্যকর হতে পারে। ওষুধের কাজ হবে সেই জিনগুলির রাসায়নিক বদলকে ঠেকিয়ে রাখা, যাতে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন বন্ধ হতে পারে। এমনই একটি ওষুধ হল ডারাশোনরাসিব। আমেরিকার বায়োটেকনোলজি কোম্পানি রেভোলিউশন মেডিসিন ওষুধটি তৈরি করেছে যার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে ক্যানসার রোগীদের উপরে। এই ট্রায়ালের ফল সন্তোষজনক বলেই দাবি করা হয়েছে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে জিনের এক রকম রাসায়নিক বদল দেখা যায়, যার নাম ‘আরএএস’। এর কারণেই ক্যানসার কোষ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। নতুন ওষুধটি জিনের এই বদল ঘটতেই দেয় না। পরীক্ষা করে দেখ দিয়েছে, যে ক্যানসার রোগীরা গতানুগতিক কেমোথেরাপি নিয়েছেন তাঁদের ক্যানসার কোষের বিভাজন বন্ধ হয়নি। কিন্ত যাঁরা নতুন ওষুধটি খেয়েছেন, তাঁদের ক্যানসার কোষের বাড়বৃদ্ধি ধীরে ধীরে বন্ধ হয়েছে। আয়ুও বেড়েছে।

কেমোথেরাপি বা রেডিয়োথেরাপি যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতি। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থেকে যায় শরীরে। কিন্তু খাওয়ার ট্যাবলেটে সে আশঙ্কা কম। তাই ওষুধটিকে যত দ্রুত সম্ভব বাজারে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

Advertisement
আরও পড়ুন