আবহাওয়ার হঠাৎ বদল, কোন কোন রোগ থেকে সাবধানে থাকবেন? ফাইল চিত্র।
তীব্র গরম নাজেহাল করেছেন এত দিন। তার পরেই কালবৈশাখীর তাণ্ডব, বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পরে স্বস্তি পাওয়া গিয়েছে অনেকটাই। দু’পা হাঁটলেই যেখানে ঘাম হত, সেখানে আবহাওয়া অনেকটাই আরামদায়ক। তবে ভোরবেলার তাপমাত্রা আর দুপুরবেলার তাপমাত্রার মধ্যে যথেষ্ট ফারাক থাকছে এখন। আর ঠান্ডা-গরমের এই তারতম্যই বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বারের মতো এ বারও সর্দিকাশি, জ্বর এবং পেটের রোগের মতো বিভিন্ন ধরনের অসুখে পড়ছেন মানুষজন। সেই সব রোগ সে অর্থে প্রাণঘাতী বা অতি-বিপজ্জনক না হলেও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। আবহাওয়ার হঠাৎ বদলে নানা রকম ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার উৎপাত আরও বাড়বে বলেই সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা।
গরমের পরে বৃষ্টি, কী কী রোগ থেকে সাবধানে থাকবেন?
তাপমাত্রার তারতম্যে জ্বর, পে়টখারাপ, টাইফয়েড, মূত্রনালিতে সংক্রমণের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ে। এই বিষয়ে মেডিসিনের চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদারের মত, তাপমাত্রা একদম ৪০ ডিগ্রি থেকে হঠাৎই কমেছে, এই পার্থক্য শরীরের মানিয়ে নিতে সময় লাগে। তার উপর গরম থেকে সোজা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে ঢুকে পড়া বা বাইরে থেকে ঢুকেই ঠান্ডা জল খাওয়া এ সবের ফলে গলায়, ফুসফুসে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ হয়। মূত্রনালিতে সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকে।
চিকিৎসক জানাচ্ছেন, এ সময়ে চিকেন পক্সের প্রকোপ বাড়ে। প্রতি দিনই চিকেন পক্সে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছেন বহু রোগী। এ ছাড়া, এখন দিনের বেলা এবং ভোরবেলার তাপমাত্রার বেশ পার্থক্য রয়েছে। দিনের বেলা গরম পড়লেও ভোরের দিকে একটু ঠান্ডা ভাব থাকে। এই ঠান্ডা-গরমের ফারাকের কারণে সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, জ্বর হতে পারে। টনসিলের সমস্যা থাকলে তা বাড়তে পারে।
তাপপ্রবাহের পর বৃষ্টি হলে বাতাসে ধুলিকণা ও পরাগরেণুর পরিমাণ বাড়তে শুরু করে। এটি শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির রোগীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এ ছাড়াও বৃষ্টির ফলে বাতাসে ছত্রাকের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে হাঁচি ও চোখের চুলকানি হতে পারে। কনজ়াঙ্কটিভাইটিস হওয়ার ঝুঁকিও বেশি এই সময়ে। তাই সাবধানে থাকতেই হবে।
বৃষ্টির পর যেখানে সেখানে জল জমে। আর এই জমে থাকা জলই হল ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া বা চিকুনগুনিয়ার উৎস। কাজেই মশাবাহিত রোগ থেকে সাবধানে থাকতে হবে এ সময়ে।
গরমের পরে বৃষ্টি নানা রকম ছত্রাক জন্মানোর জন্য অনুকূল। ভিজে জামাকাপড়ে দীর্ঘ সময় থাকলে বা ভিজে জুতো পরে থাকলে ছত্রাকঘটিত চর্মরোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বৃষ্টিতে ভিজলে বাড়ি ফিরেই ঈষদুষ্ণ জলে সাবান দিয়ে স্নান করুন। মাথায় বৃষ্টির জল বসে গেলে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা তো আছেই, সঙ্গে বৃষ্টির জল থেকে মাথার ত্বকেও ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটতে পারে। বৃষ্টিতে ভিজে গেলে মাথায় শ্যাম্পু করে নেওয়াই শ্রেয়। সুস্থ থাকতে প্রচুর পরিমাণে জল ও তরল খাবার খেতে হবে। টাটকা ফল ও শাকসব্জি বেশি করে খাওয়া ভাল। বাইরে বিক্রি হওয়া খাবার বা পানীয় এড়িয়ে চলতে পারলেই সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকা যাবে।