মোবাইল দেখার বিপদ, অটিজ়মে আক্রান্ত হতে পারে শিশু। ছবি: শাটারস্টক।
অটিজ়ম হল মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা। আর এই বিকাশ থমকে যেতে পারে অতিরিক্ত মাত্রায় মোবাইল দেখলে। অনেক অভিভাবকই ছোট থেকে শিশুকে মোবাইল দিয়ে ভুলিয়ে রাখেন। মোবাইলে ভিডিয়ো বা কার্টুন দেখিয়ে খাওয়ান। এতে শিশুর বুদ্ধির বিকাশ থমকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। সম্প্রতি দিল্লি এমসের চিকিৎসকেরা তাঁদের এক সমীক্ষায় ভয় ধরানো রিপোর্ট দিয়েছেন। জানিয়েছেন, তিন বছরের শিশু যদি বেশি ক্ষণ মোবাইল দেখে, তা হলে তার অটিজ়মে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে।
অটিজ়ম নিয়ে এক সময়ে স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। কিন্তু এখন সচেতনতা অনেক বাড়ছে। তাই রোগটির কারণ ও চিকিৎসা নিয়ে আলোচনাও হচ্ছে। ‘অটিজ়ম স্পেকট্রাম ডিজ়অর্ডার’ সে অর্থে কোনও অসুখ নয়, বিভিন্ন আচরণগত সমস্যাকে একসঙ্গে ওই নাম দেওয়া হয়েছে। অটিজ়ম এমন এক অবস্থা যেখানে শিশুর সামাজিক বিকাশ ঠিকমতো হয় না। এ ধরনের শিশুরা অন্যদের সঙ্গে ঠিকমতো মিশতে পারে না। এরা একা থাকতে ভালবাসে। অনেক ক্ষেত্রে এদের কথা বলা শুরু হতে বেশ দেরি হয়। সাধারণত হাসি-কান্নার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশের যে ভঙ্গি শিশুদের মধ্যে দেখা যায় অটিজ়ম-এ আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে তা ঠিকমতো দেখা যায় না। অটিজ়ম-এর নানা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে যেমন জিনঘটিত কারণ আছে, তেমনই অনেক অসুখ থেকেও অটিজ়ম হতে পারে। আরও একটি কারণ হল স্ক্রিন টাইম যা এখনকার শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে।
এমসের চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, স্মার্টফোন থেকে নির্গত রেডিয়েশন মস্তিষ্ক, কান-সহ নানা অঙ্গের ক্ষতি করে। একটি শিশুর স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠার সময়ে তা আরও ক্ষতিকর। মস্তিষ্ক ও কানে ‘নন-ম্যালিগন্যান্ট টিউমার’ হওয়ার ভয়ও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সাধারণত শিশুর মস্তিষ্কের ত্বক, কোষ এবং হাড় তুলনায় অনেক নরম ও পাতলা হওয়ার দরুন তা প্রাপ্তবয়স্কের চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি রেডিয়েশন গ্রহণ করে। অর্থাৎ ফোনের ব্যবহার যেমন মস্তিষ্কের বিকাশ থমকে দিতে পারে, তেমনই ক্যানসারের আশঙ্কাও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, স্পিচ থেরাপিস্টের কাছে ইদানীং দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের ভিড়ই বেশি। শিশু কথা বলতে পারছে না। কারণ, বাড়িতে কেউ তার সঙ্গে সে ভাবে কথা বলে না। তার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় মোবাইল কিংবা ট্যাব। ব্যস্ত বাবা-মাকে সন্তানের হাজারো বায়না সামলাতে হচ্ছে না। এমনকি, তাকে খাওয়ানোর ঝক্কি উধাও। হাতে ট্যাব বা মোবাইল ধরালে নিমেষে শেষ হচ্ছে মুখের গ্রাস। দীর্ঘ সময়ে শান্তও থাকছে শিশু। এই অভ্যাস যে কতটা বিপদের কারণ হয়ে উঠছে, সে নিয়েই সতর্ক করছেন এমসের চিকিৎসকেরা।
স্ক্রিনের উজ্জ্বল আলো এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ছবি শিশুর মস্তিষ্কে 'ডোপামিন' নামক রাসায়নিক নিঃসরণ করে, যা এক ধরনের আসক্তি তৈরি করে। এর ফলে শিশু বাস্তব জগতের থেকে বিচ্যুত হতে থাকে। কোনও একটি বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারে না। মোবাইলের নীল আলো নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্য নষ্ট করে। নিউরোট্রান্সমিটার স্নায়ুকোষ থেকে নির্গত এক বিশেষ রাসায়নিক বার্তাবাহক যা সঙ্কেত আদানপ্রদানে সাহায্য করে। ছোট থেকেই এর ভারসাম্য নষ্ট হলে তখন স্বাভাবিক ভাবেই মস্তিষ্কের বিকাশ থমকে যাবে। অটিজ়ম শুধু নয় আরও নানা স্নায়বিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে।