(বাঁ দিকে) মোজতবা খামেনেই এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
পাকিস্তান মারফত আমেরিকার কাছে নতুন করে ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। সেই ১৪ দফা প্রস্তাবে মূল দাবিই যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। লেবাননেও কোনও রকম হামলা চালানো যাবে না। হরমুজ় প্রণালী থেকে ‘অবরোধ’ তুলে নিতে হবে মার্কিন বাহিনীকে। আর ওই প্রণালীতে চালু করতে হবে নতুন শাসন ব্যবস্থা।
ইরান-আমেরিকার মধ্যে আপাতত যুদ্ধবিরতি চলছে। দুই দেশই সমাধান খুঁজতে ইসলামাবাদে প্রথম দফার শান্তিবৈঠকে বসেছিল। তবে ২১ ঘণ্টার ওই বৈঠকে কোনও সমাধানসূত্র বার হয়নি। তার পর থেকেই পাকিস্তান চাইছে, নতুন করে আবার আলোচনার জন্য আমেরিকা-ইরানকে এক টেবিলে বসাতে। কিন্তু নানা কারণে দ্বিতীয় দফার শান্তিবৈঠক এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। সেই আবহে ইরান নতুন ১৪ দফার প্রস্তাব আমেরিকাকে পাঠাল। তবে ওই প্রস্তাবে থাকা অনেক দাবিরই প্রথম প্রস্তাবের সঙ্গে মিল রয়েছে।
ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের উপর চাপানো সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। ইরানের বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি ছেড়ে দিতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে ক্ষতিপূরণও। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কিছু শর্ত চাপিয়েছে ইরান। ইরানের যে পারমাণবিক প্রকল্পে আমেরিকার আপত্তি, তা নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে তেহরান।
তবে ইরানের প্রস্তাব নিয়ে এখনও পর্যন্ত নমনীয় ভূমিকা দেখায়নি আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের প্রস্তাব কোনও ভাবে মানা সম্ভব নয়। তবে তিনি এ-ও জানিয়েছেন, ইরানের প্রস্তাব এখনও লিখিত আকারে হাতে পাননি। প্রস্তাব সংক্রান্ত একটি ‘ধারণা’ পেয়েছেন। লিখিত আকারে প্রস্তাব পেলে তার শব্দচয়ন অনুযায়ী প্রস্তাবটি বিবেচনা করা হবে। ট্রাম্পের আরও দাবি, গ্রহণযোগ্য কোনও প্রস্তাব ইরান দিতে পারে বলে তিনি কল্পনাই করতে পারেন না।
আমেরিকা তাদের প্রস্তাবে ‘সায়’ না-দেওয়ায় ক্ষোভপ্রকাশ করেছে ইরান। সে দেশের উপবিদেশমন্ত্রী কাজ়েম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, আমেরিকাকে বেছে নিতে হবে, তারা কী চায়। তিনি এ-ও জানান, এখন বল আমেরিকার কোর্টে। কাজ়েম এ-ও জানান, আমেরিকার সামনে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় আলোচনা চালিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সংঘাতের অবসান ঘটানোর সুযোগ রয়েছে। যদি তারা এটা না চায়, তবে যুদ্ধ চালিয়েছে যেতে পারে। তেহরান যে কোনও পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত।