লুপাস কাদের বেশি হয়? ছবি: সংগৃহীত।
রোগটির সম্পূর্ণ নাম সিস্টেমিক লুপাস এরিথেমাটোসাস (এসএলই)। সংক্ষিপ্ত নাম লুপাস। এই রোগে আক্রান্ত হলে দেখতে হয়ে যেতে পারে নেকড়ে বাঘের মতো। ল্যাটিন ভাষায় লুপাস কথাটির অর্থ উল্ফ বা নেকড়ে। উল্ফের নাকের চারপাশে এক রকম লালচে আভা থাকে। সেখান থেকে রোগটির এমন নামকরণ করা হয়েছে। এটি একটি ক্রনিক অটো-ইমিউন রোগ। এক বার রোগটি শরীরে বাসা বাঁধলে সারা জীবন ওষুধ খেয়ে যেতে হবে।
সিস্টেমিক লুপাস এরিথেমাটোসাস কথাটির আক্ষরিক অর্থ বুঝতে হবে। সিস্টেমিক অর্থাৎ শরীরের একটি অঙ্গে নয়, একাধিক অঙ্গে এই রোগের প্রভাব দেখা যেতে পারে। লুপাস কথাটির অর্থ প্রদাহ। আর এরিথেমাটোসাস কথাটির অর্থ লাল হয়ে ফুলে যাওয়া। এটি অটো-ইমিউন রোগ অর্থাৎ যখন কোনও ব্যক্তির অঙ্গের কোষের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে এবং তারা শরীরের ইমিউন বা রোগপ্রতিরোধকারী কোষগুলিকে আক্রমণ করে। এই অসুখ সাধারণত অল্পবয়সি তরুণীদের বেশি হতে দেখা যায়। লুপাস এক দিনে হয় না। ধীরে ধীরে এর উপসর্গগুলি প্রকট হয়।
কী কী উপসর্গ দেখে সতর্ক হবেন?
১) লুপাস হলে সবচেয়ে আগে শরীরের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ লাল হয়ে ফুলে উঠতে থাকে। কপাল, নাকের চারপাশ এবং গালে লালচে রঙের র্যাশ বেরোয়। দেখতে খানিকটা প্রজাপতির মতো লাগে। রোদে বেরোলে র্যাশের পরিমাণ বেড়ে যায়। চুল উঠে যেতে পারে, চুলের গোড়া শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। নখের গোড়া পচে যেতে পারে। শরীরের জায়গায় জায়গায় ফোস্কা পড়ে যায়। লুপাস সাধারণত ছোঁয়াচে রোগ নয়।
২) এই রোগে আক্রান্ত হলে লোহিত রক্তকণিকা ভাঙতে শুরু করে। এই ধরনের রোগীদের রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা যায়। রক্ততঞ্চন হওয়ার ফলে শুধু মুখে নয়, চামড়ার কোথাও কোথাও লাল ছোপ দেখা যেতে পারে।
৩) এই রোগের আর একটি উপসর্গ হল, দেহের ছোট-বড় যে কোনও গাঁটে ব্যথা হওয়া। যন্ত্রণার তীব্রতা এতটাই বাড়ে যে, রোগীর হাঁটাচলা করতে কিংবা হাত দিয়ে কোনও কাজ করতে সমস্যা হয়।
৪) হার্ট, ফুসফুস, কিডনি এবং সর্বোপরি মস্তিষ্কেও লুপাসের প্রভাব পড়তে পারে। হার্ট আক্রান্ত হলে হার্ট ফেলিয়োরের সম্ভাবনা বাড়ে। ফুসফুসে হলে নিউমোনিয়া হতে পারে। বাকি উপসর্গগুলির সঙ্গে খিঁচুনির উপসর্গ থাকলে বুঝতে হবে মস্তিষ্ক এসএলইতে আক্রান্ত হয়েছে।
এই রোগটি খুব বেশি পরিচিত না হলেও ভারতবর্ষে এক লক্ষ লোকের মধ্যে ৩ জন এই রোগে আক্রান্ত হন।
চিকিৎসা:
লুপাস রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসায় মূলত স্টেরয়েড প্রয়োগ করা হয়। তবে কাকে কতটা পরিমাণ দেওয়া হবে তা নির্ভর করছে রোগের মাত্রার উপরে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি ইঞ্জেকশনও প্রয়োগ করা হয়। লুপাস কখনওই সারে না। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে এই রোগ যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।