বালিশে মাথা দিলেই কমবে নাক ডাকা, এমন বালিশের দাম কত? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
নাক ডাকার সমস্যা চিরন্তন, বোধ করি চিরকালের। সুখের ঘুমের শুরুতেই যদি ঠিক আপনার পাশটি থেকে ভয়ঙ্কর নাসিকা গর্জনের শব্দ ভেসে আসে, তা হলে ঘুমের দফারফা তো হবেই। ঠেলে, ধাক্কা দিয়ে আবার কখনও কিল, ঘুঁষিতে নাসিকা গর্জনের বিকট বেগ একটু থামানো গেলেও, মিনিট খানেক বাদে যে কে সেই! ফলস্বরূপ সকাল-বিকেল সংসারে অশান্তি। নাক ডাকা নিয়ে কাছের মানুষজনকে নিয়মিত দোষারোপ করার থেকে ঢের ভাল মুক্তির উপায় খোঁজা। নাক ডাকা কিসে কমবে, সে নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন কমবেশি সকলেই। বাজারে আজকাল নানা রকম যন্ত্রপাতি এসে গিয়েছে, যেগুলি নাক ডাকা কমাতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে কোনওটা নাকে ক্লিপের মতো লাগিয়ে রাখতে হয়, আবার কোনওটা তার দিয়ে জোড়া থাকে কোনও ডিভাইসের সঙ্গে। এ সবের ঝক্কি বেশি। ঘুমোনোর সময়ে শরীরের সঙ্গে কিছু জুড়ে থাকুক, এমনটা চান না অনেকেই। তাই যন্ত্রপাতির বদলে বরং মাথার বালিশকেই বানিয়ে নিন ‘স্মার্ট ডিভাইস’। মাথায় দিয়ে শুলেই থেমে যাবে নাক ডাকা। তেমন বালিশ এসে গিয়েছে বাজারে।
নাক ডাকা কমানোর বালিশ। ছবি: সংগৃহীত।
নাক ডাকা কমানোর বালিশ
‘অ্যান্টি-স্নোরিং পিলো’ এখন অনলাইনে সহজলভ্য। চাইলেই চলে আসবে বাড়িতে। এটি মাথায় দিয়ে শোয়ার নরম বালিশ, যার ভিতরে থাকে উচ্চ প্রযুক্তির সেন্সর এবং মাইক্রোফোন। আর থাকবে রেকর্ডার, ব্লুটুথ এবং এয়ারব্যাগ। ঘুমোনোর ঠিক কত ক্ষণ পরে নাক ডাকা শুরু হল, নাক ডাকার তীব্রতা কতটা, কী ভাবে নাক ডাকছেন, নাক ডাকার সময়ে শ্বাসের সমস্যা হচ্ছে কি না, তার সবটাই ধরা পড়বে এর সেন্সরে। মাইক্রোফোনের সাহায্যে নাক ডাকার শব্দ রেকর্ড করে তা বিশ্লেষণ করবে বালিশের সেন্সর। তার পরে এর সমাধানের উপায় ভাববে।
সমাধান কোন পথে হবে?
দু’ভাবে হতে পারে। প্রথমত, নাক ডাকার শব্দ ও তীব্রতা দেখে বালিশ বুঝবে যে, শোয়ার ভঙ্গির কারণে তা হচ্ছে কি না। অনেক সময়ে বালিশে যে ভাবে মাথা রেখে শোয়া হয় বা শোয়ার সময়ে শরীরের ভঙ্গিমা যে ভাবে বদলে যায়, তাতে নাক ডাকার সমস্যা হতে পারে। কারণ শ্বাসনালি দিয়ে বাতাস ঢোকা ও বেরোনোর পথটা সঙ্কীর্ণ হয়ে যেতে পারে। শিথিল হতে পারে গলার পেশি। ওই সময়ে বালিশ তার এয়ারব্যাগের সাহায্যে মাথার ভঙ্গি বদলে দেবে যাতে বাতাস ঢোকা ও বেরনোর পথটা ঠিক থাকে। এ ক্ষেত্রে শুধু শোয়ার ভঙ্গি বদলে নাক ডাকা কমানোর চেষ্টা করা হবে।
অ্যান্টি-স্নোরিং পিলো অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত।
দ্বিতীয়ত, বালিশের সেন্সর ও ব্লুটুথ এ-ও দেখবে যে, নাক ডাকার সময়ে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কি না। তা থেকে বোঝা যাবে, স্লিপ অ্যাপনিয়া বা অন্য কোনও বড় রোগ বাসা বেঁধেছে কি না। যেমন, মুখের ভিতরে গলার কাছের নরম মাংসপিণ্ড বা উভুলা যদি বাতাস চলাচলের রাস্তাটা সরু করে দেয়, তা হলে নাকে আর হাওয়াবাতাস খেলতে পারে না। তখনই শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। আবার নাক থেকে ভোকাল কর্ড বা স্বরযন্ত্র পর্যন্ত রাস্তা যদি সরু হয় বা কোনও কারণে মেদবৃদ্ধির জন্য চর্বির স্তর জমে যায়, তা হলেও বাতাস চলাচল ঠিক মতো হয় না। কারণ আরও আছে। নাকের মধ্যে পলিপ বা টিউমার থাকলেও এই বিপত্তি দেখা দেয়। ‘স্লিপিং ডিজর্ডার’ রয়েছে যাঁদের, তাঁদের নাক ডাকার তীব্রতাও বেশি। এ সবই ধরা পড়বে বালিশের সেন্সরে এবং তা ব্লুটুথের মাধ্যমে রেকর্ড হয়ে যাবে ফোনের অ্যাপে। বালিশই জানিয়ে দেবে কেবল শোয়ার ভঙ্গি বদলানো দরকার নাকি চিকিৎসকের কাছে যাওয়া।
অনলাইনে যে সব ই-কমার্স সাইট রয়েছে, সেখানে স্মার্ট বালিশ পাওয়া যাবে। এর দাম ৯০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। তবে ব্র্যান্ডের উপর নির্ভর করতে দাম। প্রযুক্তি যত বেশি হবে, দাম ততই বাড়বে। উচ্চ প্রযুক্তির বালিশগুলির দাম ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকাও হতে পারে।