পায়ে ক্ষতচিহ্নের নেপথ্যে কী কারণ? ছবি: সংগৃহীত।
হঠাৎ চোখ পড়ল পায়ে, দেখলেন, ক্ষতেচিহ্ন। কিন্তু কখন কোথায় চোট পেয়েছেন, তা মনেই পড়ছে না। পা বা হাতে নীলচে দাগ, অল্প ব্যথা— ঠিক যেমন আঘাত পেলে কালসিটে পড়ে, তেমনই। কিন্তু সম্প্রতি কোথাও ধাক্কা খেয়েছেন বলে মনে পড়ছে না। তবু দাগটি বেশ স্পষ্ট। অনেকেই এমন অভিজ্ঞতার কথা বলেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই দাগ আতঙ্ক বা ভয়ের ইঙ্গিত বহন করছে না। তবে এর নেপথ্যে কী কারণ, তা জানা জরুরি।
লস অ্যাঞ্জেলেসের পোডিয়াট্রিস্ট (পা, গোড়ালি এবং নিম্নাঙ্গের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন অবস্থার চিকিৎসক) ডানা ফিগুরা সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে জানাচ্ছেন, এই অবস্থার নেপথ্যে বিশেষ কারণ থাকতে পারে।
হাতেও এমন চিহ্ন প্রকাশ পেতে পারে। ছবি: সংগৃহীত।
চামড়ার নীচে অসংখ্য সূক্ষ্ম রক্তনালী থাকে। খুব হালকা চোট, যেমন টেবিলের কোণে ধাক্কা, বা চাপ পড়লেও এই রক্তনালীগুলি ফেটে যেতে পারে। তখন সামান্য রক্ত চামড়ার নীচে জমে নীলচে দাগ তৈরি করে। অনেক সময়ে সে সমস্ত ধাক্কার কথা মনে থাকে না। এই পরিস্থিতিকে পুরপুরা সিমপ্লেক্স বলা হয়। চিকিৎসক বলছেন, এই ঘটনা পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের বেশি হয়। নারীদের শরীরে হরমোনের প্রভাব বেশি। ত্বকও অনেকের ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভাবে নরম হয়। এর ফলে রক্তনালীর দেওয়াল একটু বেশি দুর্বল হতে পারে। তাই পুরুষদের তুলনায় নারীদের শরীরে সহজে নীলচে দাগ পড়তে দেখা যায়।
চিকিৎসক বলছেন, সব ক্ষেত্রে এই ঘটনাগুলিকে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। শরীরে আয়রন এবং ভিটামিনের মাত্রা কম থাকলে রক্তনালী দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন সামান্য চাপেও দাগ তৈরি হয়। অনেক সময় ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার সঙ্গেও এই দাগ দেখা যায়। তার উপর যদি মাড়ি, নাক থেকে রক্তপাত হয়, বা ঋতুস্রাবে প্রবল রক্তপাত হয়, তখন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা দরকার।