মালয়ালম সুপারস্টার মাম্মুট্টি। ছবি: সংগৃহীত।
খাবারের প্রতি ভালবাসা, না কি স্বাস্থ্যের প্রতি— কোনটি বেশি মূল্যবান? একটি প্রেম যেন উন্মাদনার, অন্যটি শান্ত। এর সঠিক উত্তর হয়তো সকলেই জানেন। কিন্তু মন মানতে চায় না সহজে। তবে যাঁরা এই যুদ্ধে জয়ী হন, তাঁরা নাকি সুস্থ থাকার চাবিকাঠি পেয়ে গিয়েছেন। ঠিক যেমন, মালয়ালম চলচ্চিত্র জগতের সুপারস্টার মাম্মুট্টি। বয়স বাড়লেও তাঁর চেহারা, ত্বক আর এনার্জি দেখে চমকে যান অনুরাগীরা। বার বার প্রশ্ন ওঠে, কী ভাবে নিজেকে এত ফিট রাখেন তিনি? সম্প্রতি তাঁর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, তিনি নিয়ম মেনে খুব সচেতন ভাবে খাওয়াদাওয়া করেন। এ দিকে পাঁঠার মাংসের বিরিয়ানি আর মাংস ভাজা তাঁর সবচেয়ে পছন্দের খাবার।
তার পরেও কী ভাবে নিজেকে সুস্থ রাখেন তিনি?
দুপুরে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস- রোজ সাদা চালের উপর ভরসা করেন না মাম্মুট্টি। দৈনন্দিন খাবারে পাতে ভাতের বদলে ওট্সকে জায়গা দিয়েছেন। চাল দিয়ে নয়, ওট্স দিয়ে বানানো পুট্টু খান তিনি দুপুরে। সঙ্গে থাকে নারকেল দেওয়া মাছের ঝোল। সব ধরনের মাছ তিনি খান না। ছোট মাছ বেশি পছন্দ তাঁর। অ্যানচোভি, মুলেট, পার্ল স্পট থাকে তাঁর পাতে। ভাজাভুজি প্রায় পুরোপুরিই বাদ দিয়ে ফেলেছেন রোজের খাবার থেকে। দরকারে হালকা তেলে সাঁতলানো খাবার খান তিনি। কিন্তু তার বাইরে ভীষণই কড়া ডায়েটে থাকেন মাম্মুট্টি।
খাওয়ার নিয়মই আসল- ফিট থাকার রহস্য কেবল খাদ্যাভ্যাসে লুকিয়ে থাকে না। কী খাচ্ছেন, কী ভাবে খাচ্ছেন— এর পরও প্রয়োজন ধারাবাহিকতা। অর্থাৎ দিনের পর দিন একই নিয়ম মেনে চলছেন কি না, সেটিই জরুরি। না কি দু’দিন পরই ডায়েট করার শখ মিটে যাচ্ছে? বছরের পর বছর ধরে একই শৃঙ্খলা মেনে চলেছেন মাম্মুট্টি। আজ তারই সুফল পাচ্ছেন বৃদ্ধ সুপারস্টার। তিনি রোজ একই ধরনের ডায়েট মেনে চলেন। অকারণে খাবার খান না তিনি। শরীরের প্রয়োজন পড়লে তবেই খান। ফলে শুটিংয়ে সারা দিন ভরপুর এনার্জি থাকে তাঁর।
নৈশভোজের বিশেষ নিয়ম- রাতের খাবার মানেই হালকা। মাম্মুট্টি প্রায় রোজ রাতেই গম বা ওট্স দিয়ে বানানো দোসা খান। কখনওই তিনটির বেশি খান না। সঙ্গে আচার ও হালকা মশলায় তৈরি মাংসের ঝোল থাকে পাতে। রাতের খাবারের শেষে গরম গরম মাশরুম স্যুপে চুমুক দেন সুপারস্টার। সন্ধ্যায় কোনও খাবারই খান না তিনি। শুটের সময়ে কয়েক কাপ কালো চা পান করেন। এমনকি উৎসব, পার্বণের সময়েও কেরলের অভিনেতার খাওয়ার রুটিনে নড়চড় হয় না।