গোলপার্কের অশান্তির ঘটনায় নাম জড়ানো সেই সোনা পাপ্পু। — ফাইল চিত্র।
গোলপার্কে অশান্তির ঘটনায় ‘মূল অভিযুক্ত’ হিসাবে তাঁর নাম উঠে এসেছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েক জনকে গ্রেফতার করলে তিনি এখনও গ্রেফতার হননি। তবে তার আগে সেই বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু আলিপুর আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন। যদিও সোমবার আদালত তাঁর সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি। খারিজ হয় পাপ্পুর আগাম জামিনের আবেদন।
আদালতে পাপ্পুর আইনজীবী দাবি করেন, ওই অশান্তির ঘটনার সঙ্গে কোনও ভাবেই জড়িত নন তাঁর মক্কেল। সেই দিন ঘটনাস্থলেই ছিলেন না তিনি। এই মামলায় অন্য যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, কয়েক দিন হেফাজতে থাকার পর জামিন পেয়েছেন। তাঁর মক্কেলকে এই মামলায় ‘বলির পাঁঠা’ করা হচ্ছে। যে কোনও শর্তে তাঁর মক্কেলের আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হোক। যদিও সরকার পক্ষের আইনজীবী সেই আবেদনের বিরোধিতা করেন। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাবের পর পাপ্পুর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক। উল্লেখ্য, ১৩টি মামলায় পাপ্পুর নাম জড়িয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে কলকাতায় রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকার গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোডে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ওই গোলমালের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়ায় বার বার উঠে এসেছে পাপ্পুর দলবলের নাম। সোনা পাপ্পুর দলবলই এলাকায় এসে গন্ডগোল পাকিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের। সেই অশান্তির ঘটনায় রবীন্দ্র সরোবর থানায় বেশ কয়েকটি এফআইআর দায়ের হয়। এর মধ্যে পুলিশের গাড়িতে হামলার জন্য একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, ব্যবসায়ী বাপি হালদারের গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলমাল বেধেছিল সোনা পাপ্পুর দলবলের। ওই দিন রাতে ১০০-১৫০ জন দুষ্কৃতী মুখে রুমাল বেঁধে এলাকায় চড়াও হয়। গুলি চালানো এবং বোমাবাজির অভিযোগও ওঠে। হামলা করা হয় ধারালো অস্ত্র নিয়েও। গোলমালের ঘটনায় প্রথম থেকেই উঠে এসেছিল পাপ্পুর নাম। যদিও তিনি নিজে দাবি করেন, ওই দিনের ঘটনার সঙ্গে কোনও ভাবেই জড়িত নন। ফেসবুক লাইভ করে সাফাইও দেন। পুলিশ ওই ঘটনায় বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতারও করেছিল।