রোজ সকালেই কেন বদহজম হচ্ছে? ছবি: সংগৃহীত।
হজমের সমস্যায় কম-বেশি সকলকেই ভুগতে হয়। একটু বেশি খেয়ে ফেললে কিংবা একটু বেশি তেলেভাজা জাতীয় খাবার বা মশলাদার খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে হজমের সমস্যা হতেই পারে। এ বার পেটের সমস্যা শুরু হতেই কিছু মানুষ ছোটেন ওষুধের দোকানে। সেখান থেকে অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ কিনে সমস্যার মোকাবিলা করতে চান। তবে এ ভাবে গলা-বুক জ্বালা বা হজমের সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। কারণ, এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেলে প্রথমে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হবে। না হলে কোনও ভাবেই পেটের রোগ সারবে না। তাই খাবার হজম না হলেই মুঠো মুঠো ওষুধ খাওয়া সমাধানের পথ হতে পারে না। অনেকেই আছেন যাঁরা প্রায় রোজই অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন। সকাল সকাল এমন সমস্যা হওয়ার পিছনে কী কারণ থাকতে পারে?
অনেকেই সকাল সকাল খালি পেটে তাড়াহুড়ো করে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। কেউ ভাবেন প্রাতরাশ ততটাও জরুরি নয়, কেউ আবার ভাবেন সকালে খালি পেটে থাকলে বুঝি তাড়াতাড়ি ওজন ঝরে। অনেকে এমনও আছে, যাঁরা অনলাইনে দেখে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করছেন। ফলে বেলা ১২ টা বা ১টার আগে তাঁরা মুখে কিছুই তোলেন না। কিন্তু যদি এমন কেউ হন যিনি সকালের দিকে নিয়মিত অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা বা বুকে অস্বস্তিকর জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যায় ভোগেন, তা হলে প্রাতরাশ না করাই এর কারণ হতে পারে।
পাকস্থলী অ্যাসিড তৈরির জন্য কোনও সুবিধাজনক সময়ের অপেক্ষা করে না। এটি দিনের প্রথম খাবারের প্রত্যাশায় খুব ভোরেই গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড নিঃসরণ শুরু করে দেয়, যা শরীরের প্রাকৃতিক সার্কাডিয়ান রিদম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি প্রক্রিয়া। সকালে যখন পেটে কোনও খাবার আসে না, তখন সেই অ্যাসিডের কাজ করার মতো কিছুই থাকে না। অ্যাসিড খালি পাকস্থলীতে কেবল জমা হতে থাকে, যা মিউকোসাল লাইনিংকে উত্তেজিত করে। এর ফলেই অ্যাসিডিটির সাধারণ লক্ষণগুলি যেমন বুকজ্বালা, ঢেঁকুর, বমি বমি ভাব এবং মুখে টক স্বাদ সকালের দিকেই প্রকাশ পেতে শুরু করে।
তাই সকালে খালি পেটে থাকা চলবে না। বিশেষ করে যাঁরা বদহজমের সমস্যায় ভোগেন তাঁদের খালিপেটে থাকার অভ্যাস থাকলে, এই অভ্যাসটি বদল করুন। কিছু দিনের মধ্যেই দেখবেন অ্যাসিডিটির সমস্যায় আর অ্যান্টাসিড খাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।