Hypothyroid Diet

থাইরয়েড থাকলে সকালে যা খুশি খাওয়া যাবে না, কখন ওষুধ খাবেন? তার পর কী কী খাবেন?

হাইপোথাইরয়েড থাকলে খাওয়াদাওয়ায় নজর দিতে হবে বেশি। বিশেষ করে সকালের জলখাবারে এমন কিছু খেতে হবে যাতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। কী কী খাবেন ও কী নয়, তা জেনে রাখা জরুরি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ১৫:৫৫
The Ultimate Breakfast Guide for Hypothyroidism

থাইরয়েড থাকলে সকালের জলখাবারে কী কী খাবেন? ছবি: ফ্রিপিক।

ওজন বাড়ছে। সর্ব ক্ষণ ক্লান্তি। গোছা গোছা চুল উঠে যাচ্ছে, শুকনো খসখসে ত্বক। সেই সঙ্গে বুক ধড়ফড়, অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাচ্ছে হৃৎস্পন্দন। ছোটখাটো শারীরিক সমস্যাগুলি প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয়। অথচ প্রতিটি লক্ষণের পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে থাইরয়েডজনিত সমস্যা। হাইপোথাইরয়েড নাছোড়বান্দা রোগ। এটি হলে ওষুধ খেয়ে যাওয়া ছাড়া গতি থাকে না। পছন্দের অনেক খাবারই তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। কোন খাবারটি খাবেন, কোনটি খাবেন না, তা নিয়ে চিন্তা থাকেই। কারণ থাইরয়েড হলে ওজন বাড়তে থাকে। তাই এমন খাবার খেতে হবে যাতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

Advertisement

‘হাইপোথাইরয়েডিজ়ম’-এর ক্ষেত্রে ডায়েট খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাওয়াদাওয়ায় বিশেষ নজর দিতে হবে। সুষম খাবার খেতে হবে। সবুজ সব্জি, শাকপাতা, দানাশস্য, ডালিয়া, ওট্‌স খেতে পারেন। রোজের খাবারের সঙ্গে পরিমিত মাত্রায় সূর্যমুখীর বীজ বা তিল রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। এগুলি সিলেনিয়ামের ভাল উৎস। সিলেনিয়াম টি-৩ ও টি-৪ হরমোনের ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে।

থাইরয়েড থাকলে সকালের জলখাবারে কী কী খাবেন?

সকালে খালি পেটে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী থাইরয়েডের ওষুধ খেতে হবে। ওষুধ খাওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে চা বা কফি খাওয়া যাবে না। ক্যালসিয়াম বা আয়রন ক্যাপসুল খেলে তা থাইরয়েডের ওষুধের অন্তত ৪ ঘণ্টা পর খাওয়া উচিত।

হাইপোথাইরয়েডের রোগীদের সকালের জলখাবারে খেতে হবে প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। সঙ্গে রাখতে হবে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এতে বিপাকক্রিয়া ঠিকমতো হবে ও দিনভর শক্তি পাওয়া যাবে। জলখাবারে আয়োডিন, সেলেনিয়াম এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার থাকাও জরুরি। সে জন্য খেতে পারেন সেদ্ধ ডিম বা ডিমের পোচ। ডিমের কুসুমে সেলেনিয়াম ও আয়োডিন থাকে। সাদা অংশে থাকে প্রোটিন।

ওট্‌সের চিলা বা ডালিয়ার খিচুড়ি খেতে পারেন। ওট্‌সে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। ওট্‌স শুকনো খোলায় হালকা ভেজে নিয়ে তার সঙ্গে ডিম এবং সামান্য জল দিয়ে একটি ব্যাটার বানিয়ে নিন। এতে পেঁয়াজকুচি ও গোলমরিচ মেশান। প্যানে সামান্য মাখন বা অলিভ অয়েল ব্রাশ করে অমলেটের মতো এপিঠ-ওপিঠ লালচে করে ভেজে নিন।

নানা ধরনের বাদাম খাওয়া এ সময়ে ভাল। কাঠবাদাম ও ওট্‌স মিল্কের স্মুদি খেতে পারেন। এক কাপ কাঠবাদামের দুধ, আধ কাপ রোল্‌ড ওট্‌স, আধ কাপ কাঠবাদাম, এক চামচ চিয়া বা তিসি অথবা কুমড়োর বীজ নিন। এর সঙ্গে এক স্কুপ প্রোটিন পাউডার বা একটি পাকা কলা মেশাতে পারেন। সমস্ত উপকরণ ভাল করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। সকালে এই স্মুদি খেলে প্রোটিন, ভিটামিন ও ফাইবারের চাহিদা পূরণ হবে।

রোজের পাতে টক দই রাখতেই হবে। দই প্রোবায়োটিকের ভাল উৎস।

কী কী খাবেন না?

সয়াবিন, সয়া মিল্ক বা টোফু থাইরেয়ড থাকলে খাওয়া যাবে না।

বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি, ওলকপি বেশি না খাওয়াই ভাল।

সকালের কফি বা চা না খাওয়াই ভাল। খাবার খাওয়ার পরে গ্রিন টি খেতে পারেন।

সাদা পাউরুটি, পেস্ট্রি বা চিনিযুক্ত খাবার, প্যাকেটজাত ফলের রস, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া ব্রেকফাস্ট-সিরিয়াল কম খাওয়াই ভাল।

Advertisement
আরও পড়ুন