আলুসেদ্ধ ভাত খাওয়ার আগে কোন নিয়ম মানতে হবে সুগারের রোগীদের? ছবি: সংগৃহীত।
ডায়াবিটিসের সমস্যায় খাওয়া-দাওয়ায় নানা রকম বিধিনিষেধ এসে যায়। শুধু ডায়াবেটিক নয়, প্রি-ডায়াবেটিকদের জন্যেও খাওয়ার পর রক্তে আচমকা শর্করা বেড়ে যাওয়া ঝুঁকির ইঙ্গিত। সাধারণত, চিনি, কার্বোহাইড্রেট (বিশেষত সিম্পল কার্বোহাইড্রেট) জাতীয় খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। যাঁদের শরীরে ইনসুলিন হরমোন সঠিক ভাবে কাজ করে, তাঁদের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, বিপদ বাড়তে পারে ডায়াবেটিকদের। ওষুধ খাওয়ার পরেও বেড়ে যেতে পারে সুগার।
তবে সুগার হলেই কার্বোহাই়ড্রেট জাতীয় খাবার একে বারে বন্ধ করে দিতে হবে এমনটা কিন্তু নয়। চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদ বলছেন, খাওয়ার কৌশলে ছোট্ট বদল এনেই এমন সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। কার্বপ্রেমীদের ভাত, আলু খাওয়ার আগে মানতে হবে তিনটি ধাপ। রান্না করা, সেই খাবারকে ঠান্ডা করা আর আবার সেই খাবার গরম করা।
ভাত খাওয়া নিয়ে অনেক ডায়াবেটিকরাই মুশকিলে পড়েন। খেতে ইচ্ছে করলেও সুগারের মাত্রা এক লাফে অনেকটা বেড়ে যাবে ভেবে তাঁরা ভাত খান না। তবে পুষ্টিবিদের মতে আপনি যদি ভাত রান্না করে তা ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে তার পর কাচের টিফিনে ভরে ফ্রিজে রেখে দেন, আর পরের দিন সেই ভাত বার করে ভাল করে গরম করে খান তা হলে কিন্তু শরীরে অর্ধেক স্টার্চ যাবে। পুষ্টিবিদের মতে, সাধারণ ভাত খাওয়ার তুলনায় ফ্রিজে রাখা বাসি ভাত গরম করে খেলে রক্তে শর্করার স্পাইক আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ কমে যাবে। পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক বলছেন, ‘‘ফ্রিজে রাখার পর সেই ভাত গরম করে খেলে এতে রেজ়িস্ট্যান্ট স্টার্চের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তার ফলে খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হয়। ওজন কমাতেও তা সহায়ক।’’
শুধু ভাতের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম খাটে না। আলু, পাস্তা, পাউরুটির মতো খাবারকেও ফ্রিজে রেখে তাদের রেজ়িস্ট্যান্ট স্টার্চের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারেন। তাই ডায়াবেটিকদের যদি খেতেই হয় তা হলে একটু নিয়ম মেনে আর পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থেকে খেতে হবে।
প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। ডায়াবেটিকরা ডায়েটে বদল আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।