চুল না আঁচড়ালে কী হবে? ছবি: সংগৃহীত।
আঁচড়ালে চুল পড়ে, তাই আঁচড়ানোই বন্ধ! কেশচর্চার এমনই এক টোটকা নিয়ে কথা চলছে সমাজমাধ্যমে। যা-ই হয়ে যাক, চুল ভাল রাখতে হলে না কি চিরুনি ছোঁয়ানো যাবে না। সমাজমাধ্যমে রূপচর্চা নিয়ে নতুন নতুন প্রবণতা বা ধারার খামতি ঘটে না। কখনও চাল ধোয়া জল, কখনও পেঁয়াজের রস, কখনও আবার অদ্ভুত সব ঘরোয়া টোটকা। সম্প্রতি সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে আরও একটি নতুন ট্রেন্ড— চুলে চিরুনি না চালানো। দাবি করা হচ্ছে, চিরুনি ব্যবহার বন্ধ করলে চুল পড়া কমে, চুল ছিঁড়ে যায় না এবং আরও স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।
এই ধারণা এতই জনপ্রিয় হয়েছে যে, অনেকেই দিনের পর দিন চুল আঁচড়ানো বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ, মাথা আঁচড়ালেই চুল পড়ে গোছা গোছা। কিন্তু রূপচর্চাশিল্পীদের মতে, বিষয়টি এত সহজ নয়। বরং দীর্ঘ দিন চিরুনি ব্যবহার না করলে উল্টে সমস্যা বাড়তে পারে। চুল ঝরা বাড়বে বই কমবে না। নতুন এই ট্রেন্ডকে সমর্থন করছেন না পেশাদারেরা।
আঁচড়ালে বেশি চুল পড়ে কেন? ছবি: সংগৃহীত
চুলের বৃদ্ধির একটি নির্দিষ্ট চক্র রয়েছে। এর শেষ পর্যায়ে চুল ‘বিশ্রাম’ নেয়, যাকে টেলোজেন পর্যায় বলা হয়। এর পর শুরু হয় চুল গজানোর পর্যায়। টেলোজেন পর্যায়ে প্রতি দিন গড়ে ৫০-১০০টি চুল ঝরে যেতেই পারে। তা স্বাভাবিক। কারণ, এই সময়ে ১০ শতাংশ চুল আলগা হয়ে যায় গোড়া থেকে। সেই চুলগুলিতে রক্তসরবরাহ আগে থেকেই বন্ধ হয়ে রয়েছে। চুলগুলি গোড়া থেকে আগেই আলগা হয়ে থাকে। চিরুনি শুধু সেগুলিকে একত্রিত করে সামনে নিয়ে আসে মাত্র। চিরুনি চালানোর সময়ে সেই আলগা হয়ে যাওয়া চুলগুলি একসঙ্গে বেরিয়ে আসে। তাতে অনেকেরই মনে হয়, চিরুনি ব্যবহারের ফলেই চুল বেশি পড়ছে। আদপে সেই চুলগুলির অধিকাংশই ঝরে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল যেন।
তা ছাড়া চুল না আঁচড়ালে মাথার ত্বকে জমে থাকা প্রাকৃতিক তেল বা সেবাম সমান ভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। ফলে চুলের গোড়া বেশি তৈলাক্ত হয়ে যেতে পারে, অথচ চুলের আগা শুষ্ক থেকে যায়। নিয়মিত চিরুনি চালালে এই প্রাকৃতিক তেল চুলের দৈর্ঘ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আরও একটি সমস্যা হল, জট। অনেক দিন বা অনেক ক্ষণ চুল না আঁচড়ালে চুলে জট পাকাতে শুরু করে। বিশেষ করে যাঁদের চুল লম্বা, ঘন বা কোঁকড়ানো, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়। পরে সেই জট ছাড়াতে গিয়ে অনেক বেশি চুল ছিঁড়ে পড়তে পারে।
মাথা না আঁচড়ালে
আলগা হয়ে যাওয়া চুলগুলি গোড়াগুলির কাছে জমে থাকে। তাতে মাথার ত্বকে ভিড় জমতে
শুরু করে, নিঃশ্বাস নিতে পারে
না স্বাভাবিক ভাবে। সেগুলি জট বাঁধাতে শুরু করে। তা ছাড়া রোমকূপগুলি বন্ধ হয়ে
প্রদাহও শুরু হয়ে যেতে পারে। তাই আলগা হয়ে যাওয়া চুল মাথার ত্বক থেকে সরানো দরকার।
পাশাপাশি মাথার ত্বকে রক্তচলাচল ভাল হওয়াও প্রয়োজন।
তা বলে বার বার জোরে জোরে চুল আঁচড়ালে হিতে বিপরীত হতে পারে। রুক্ষ ভাবে চিরুনি ব্যবহার করলেও চুলের ক্ষতি হতে পারে। ভেজা চুলে জোর করে চিরুনি চালানো, খুব টানাটানি করা বা খারাপ চিরুনি ব্যবহার করা ইত্যাদি অভ্যাসের ফলে চুল গোড়া থেকে ছিঁড়ে যায়। সে ক্ষেত্রে কিন্তু চুল আঁচড়ানোকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।