Bengali Actresses Skincare

কেউ বরফের ভরসায়, কেউ দু’বার মুখ ধুয়ে, রোমকূপ সঙ্কোচনের আর কী কৌশল অঙ্গনা-বিবৃতি-সুস্মিতার

মুখের ত্বক টানটান ও কোমল করে তুলতে রোমছিদ্র ছোট করার উপায় খুঁজতে গিয়ে নানা প্রসাধনী, ঘরোয়া টোটকা এবং সমাজমাধ্যমের পরামর্শের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। এখানেই আপনার পথপ্রদর্শক হতে পারেন টলিউডের তিন নায়িকা— সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়, বিবৃতি চট্টোপাধ্যায় এবং অঙ্গনা রায়। তাঁরা কী ভাবে নিজেদের ত্বকের রোমকূপ সঙ্কুচিত করেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ১৮:২৩
অঙ্গনা, বিবৃতি এবং সুস্মিতার ত্বকচর্চার কৌশল।

অঙ্গনা, বিবৃতি এবং সুস্মিতার ত্বকচর্চার কৌশল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রোমকূপ তো সকলেরই থাকে। কারও স্পষ্ট, কারও অস্পষ্ট। কারও প্রসারিত, কারও সঙ্কুচিত। রোমকূপ যাতে বন্ধ না হয়ে যায়, তার জন্য ত্বকের যত্ন যেমন নিতে হয়, তেমনই অত্যাধিক প্রসারিত হয়ে যাওয়ার প্রবণতাও রোধ করা দরকার। কিন্তু দায়ী আপনার পরিচর্যা নয়, অন্য একাধিক কারণে কারও কারও মুখের রোমকূপ বড় হয়। তার ফলে গাল ছিদ্রময় দেখায়, মেকআপ ঠিক মতো বসে না, মুখ সতেজ লাগে না।

Advertisement

মুখের ত্বক টানটান ও কোমল করে তুলতে রোমছিদ্র ছোট করার উপায় খুঁজতে নানা প্রসাধনী, ঘরোয়া টোটকা এবং সমাজমাধ্যমের পরামর্শের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। কিন্তু রোমকূপ স্থায়ী ভাবে ছোট করা সম্ভব নয়। কারণ, রোমছিদ্রের আকার অনেকটাই নির্ভর করে জিনগত বৈশিষ্ট্য, ত্বকের ধরন এবং বয়সের উপর। তবে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এগুলিকে কম স্পষ্ট এবং সাময়িক ভাবে সঙ্কুচিত করা যায়। আর এখানেই আপনার পথপ্রদর্শক হতে পারেন টলিউডের তিন নায়িকা— সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়, বিবৃতি চট্টোপাধ্যায় এবং অঙ্গনা রায়। তাঁরা কী ভাবে নিজেদের ত্বকের রোমকূপ সঙ্কুচিত করেন?

অভিনেত্রী অঙ্গনা রায়।

অভিনেত্রী অঙ্গনা রায়। ছবি: সংগৃহীত

রোমছিদ্র বড় দেখানোর অন্যতম কারণ হল অতিরিক্ত তেল উৎপাদন। তাই ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করার ধাপকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন অঙ্গনা। নায়িকার কথায়, ‘‘ত্বকের পরিচর্যায় খুবই কম সময় দিই। কিন্তু ত্বক এবং রোমকূপের যত্নে অবশ্যই ডাব্‌ল ক্লিনজ়িং করি। মেকআপ করা থাকলে প্রথমে মেকআপ রিমুভিং বাম মেখে মুখ পরি‌ষ্কার করি। তার পর মেকআপ তোলার তেল ব্যবহার করি রোজ। মুখটা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে গেলে একটা সিরাম মেখে নিই। এর পর ময়েশ্চারাইজ়ার মেখে নিই।’’ রাতে একটা নাইটক্রিম মেখে ঘুমিয়ে পড়েন অঙ্গনা। তার পর সকালে উঠে এক বার মুখ ধুয়ে নেন ফেসওয়াশ দিয়ে। তার পর সিরাম, ময়েশ্চারাইজ়ার, সানস্ক্রিন মাখেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘ত্বককে শুষ্ক হতে দিই না আমি। সারা ক্ষণ ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার করি। আর দু’রকম ব্র্যান্ডের সামগ্রী ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মাখি। তাতেই রোমকূপ টানটান থাকে দেখেছি।’’

অভিনেত্রী বিবৃতি চট্টোপাধ্যায়।

অভিনেত্রী বিবৃতি চট্টোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

সানস্ক্রিন ব্যবহার করাও অত্যন্ত জরুরি। সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কোলাজেন কমে গেলে ত্বক শিথিল হয়ে যায় এবং রোমছিদ্র আরও বড় দেখাতে শুরু করে। তাই প্রতি দিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা প্রয়োজন, এমনকি মেঘলা দিনেও। মেকআপ করা থাকলেও তার উপর দিয়ে সানস্ক্রিন স্প্রে করেন অঙ্গনা। কোনও ভাবেই এই রক্ষাকবচের কথা ভোলেন না তিনি।

অভিনেত্রী সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়।

অভিনেত্রী সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

ঘরোয়া উপায়ের মধ্যে অনেকেই বরফ ব্যবহার করেন। হিমশীতল স্পর্শে সাময়িক ভাবে ত্বক টানটান লাগে এবং রোমছিদ্র কিছুটা সঙ্কুচিত হয়। সুস্মিতা তাই বরফজলে মুখ ডোবানোর টোটকা মেনে চলেন। তবে বিবৃতি বরফ ছা়ড়াই শীতলতার ছোঁয়া এনে দেন ত্বকে। এমন এক ফেসমাস্ক ব্যবহার করেন, যা একই রকমের অনুভূতি এনে দেবে। তবে রোমকূপের সমস্যা যাতে না হয়, তার জন্য নিয়াসিনামাইডে ভরসা রয়েছে বিবৃতির। নায়িকার কথায়, ‘‘রোমকূপের জন্য আলাদা করে কিছু করি না, ঘরোয়া একটি ফেসপ্যাক মাখি, তাতে খানিক কাজ হয় বলে আমার মত। কফিগুঁড়ো, টক দই, বেসন, গ্লিসারিন আর অল্প একটু দুধ মিশিয়ে মুখে মাখি। ১৫ মিনিট মেখে রেখে স্ক্রাব করে ধুয়ে ফেলি।’’ তবে মেকআপের সময়ে যাতে রোমকূপ কোনও ব্যাঘাত না ঘটায়, তার জন্য ম্যাটিফায়িং প্রাইমার ব্যবহারেন অভিনেত্রী। ফলে মেকআপ সহজে বসতে পারে মুখে।

সুস্মিতার বাবা ও মায়ের দু’জনেরই ত্বক খুব ভাল। তাই ত্বকের জন্য ৭-১০ ধাপ রুটিন মেনে চলার প্রয়োজন পড়ে না তাঁর। তবে মেকআপ, ভারী আলো, ধুলোময়লার কারণে একটুআধটু পরিচর্যার প্রয়োজন হয় বইকি। তাঁর প্রসাধনের মধ্যে মুখ্য ভূমিকায় থাকে সানস্ক্রিন। তা ছাড়া ত্বককে আর্দ্র রাখার চেষ্টা করেন সব সময়ে। ক্লিনজ়ার, টোনার এবং ময়েশ্চারাইজ়ার, লিপবাম ছাড়া আর খুব একটা কিছু মাখেন না সুস্মিতা। ডাব্‌ল ক্লিনজ়ারে ভরসা তাঁরও। মেকআপ না তুলে কোনও দিন ভুলেও ঘুমোতে যান না তিনি। পাশাপাশি, বরফের সাহায্য নিতে পছন্দ করেন সুস্মিতা। এর ফলে রক্তনালি সঙ্কুচিত হয় এবং মুখের রোমছিদ্রগুলিও ছোট দেখায়। মুখ টানটান হয়ে যায়।

রোমছিদ্র থাকা স্বাভাবিক। এগুলিই ত্বককে শ্বাস নিতে এবং প্রাকৃতিক তেল নিঃসরণে সাহায্য করে। রোমছিদ্র পুরোপুরি অদৃশ্য হয় না, কিন্তু মুখে গুঁড়ি গুঁড়ি রোমকূপ দেখা দিলে তাতে সাজ নষ্ট হয়। তাই টানটান দেখানোর জন্য ত্বককে সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন রাখার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কলকাতার তিন নায়িকাও সেই পথেই হাঁটছেন। অনুসরণ করতে পারেন আপনিও।

Advertisement
আরও পড়ুন