Aishwarya Sakhuja Type 1 diabetic

টাইপ-১ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ঐশ্বর্যা! রোজের ৫ বদভ্যাসই নীরবে রক্তে সুগার বাড়ায় তাঁর, কী সেগুলি

মুম্বইয়ের টেলিভিশন অভিনেত্রী ঐশ্বর্যা সাখুজা টাইপ-১ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত। তিনি বুঝতে পারেন, কিছু নিয়ম মেনে চললে এই রোগ মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে এত বছর পর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি কয়েকটি বদভ্যাসকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ১৬:৪৮
ডায়াবেটিক নায়িকা কোন কোন অভ্যাস নিয়ে সতর্ক করছেন?

ডায়াবেটিক নায়িকা কোন কোন অভ্যাস নিয়ে সতর্ক করছেন? ছবি: সংগৃহীত।

২০১৮ সালে শনাক্ত হয় টাইপ-১ ডায়াবিটিস। ভেবেছিলেন, কাজ, রোজের যাপন, সবেতেই প্রভাব পড়বে, তিনি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। কিন্তু ধীরে ধীরে মুম্বইয়ের টেলিভিশন অভিনেত্রী ঐশ্বর্যা সাখুজা বুঝতে পারেন, কিছু নিয়ম মেনে চললে এই রোগ মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে এত বছর পর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি কয়েকটি বদভ্যাসকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন। আর অনুরাগীদেরও সে সব বিষয়ে সতর্ক করে দিতে চেয়েছেন।

Advertisement

ঐশ্বর্যা সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো করে জানাচ্ছেন, ৫টি দৈনন্দিন অভ্যাস রয়েছে, যেগুলি অজান্তেই রক্তে শর্করার ওঠানামার প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে। এগুলি তিনি বদলানোর চেষ্টা করছেন।

মুম্বইয়ের টেলিভিশন অভিনেত্রী ঐশ্বর্যা সাখুজা।

মুম্বইয়ের টেলিভিশন অভিনেত্রী ঐশ্বর্যা সাখুজা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

কী কী বদভ্যাসে কী ভাবে রক্তে সুগারের মাত্রার হেরফের?

১. প্রাতরাশ বাদ দেওয়া

সকালে কিছু না খেয়ে কাজে বেরিয়ে যাওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকের। বা প্রাতরাশ বাদ দিয়ে একেবারে দুপুরে পেট ভরে খাবার খাওয়ার প্রবণতাও রয়েছে। এই অভ্যাসগুলি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। এতে দু’ভাবে প্রভাব পড়তে পারে। অনেক ক্ষণ কিছু না খেলে হঠাৎ সুগারের মাত্রা অনেকটা নেমে যেতে পারে, যা আদপে খুবই বিপজ্জনক। তা ছাড়া দুপুরে খিদের চোটে অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে সুগার চট করে বেড়ে যেতে পারে। দুই পরিস্থিতিই ডায়াবিটিসের জন্য বেশ ক্ষতিকর। অনেক ক্ষণ খালি পেটে থাকলে স্ট্রেস হরমোনগুলি বৃদ্ধি পেয়ে যায়। ফলে লিভার থেকে গ্লুকোজ় ক্ষরণ বেড়ে যায়। তাই খাওয়াদাওয়ার সুস্থ রুটিন মেনে চলা উচিত রোগীদের।

২. সারা ক্ষণ মানসিক চাপ

কাজের চাপ, পারিবারিক উদ্বেগ বা ব্যক্তিগত সমস্যার প্রভাব শুধু মনেই পড়ে না, শরীরেও পড়ে। মানসিক চাপের সময়ে শরীরে কিছু হরমোনের (কর্টি়সল এবং অ্যাড্রিনালিন) নিঃসরণ বাড়ে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে। তাই প্রতি দিন কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখুন। ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা যোগাসন করুন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।

ইনসুলিন নেওয়ার ছবি পোস্ট করেছেন ঐশ্বর্যা।

ইনসুলিন নেওয়ার ছবি পোস্ট করেছেন ঐশ্বর্যা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

৩. ক্যালোরি পান করা

অনেকে রোগীই মনে করেন, তাঁরা খুব বুঝেশুনে খাওয়াদাওয়া করেন। কিন্তু আদপে বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবার, সস, পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে প্রচুর ক্যালোরি লুকিয়ে থাকতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নানা ধরনের পানীয়। কারণ, খাবারের ক্ষেত্রে তাও ক্যালোরি মাথায় থাকে। কিন্তু সফ্‌ট ড্রিঙ্ক, কেতাদুরস্ত কফি, স্মুদি, ঠান্ডা পানীয়, ফলের রস, কার্বোনেটেড পানীয় ইত্যাদির মধ্যে প্রচুর চিনি লুকিয়ে থাকে। তা চট করে বোঝাও যায় না। ফলে সহজ কথায় বললে, না বুঝেই অতিরিক্ত ক্যালোরি পান করে ফেলার প্রবণতা থাকে অনেকের। সে দিকে বিশেষ ভাবে নজর দিতে হবে। নয়তো সুগার বেড়ে যেতে পারে দ্রুত।

৪. মা়ড়ির স্বাস্থ্য উপেক্ষা করা

মাড়িতে প্রদাহ বা দাঁতে সংক্রমণ হলে রক্তে সুগার বাড়তে পারে। চিকিৎসকদের বক্তব্য, মাড়িতে কোনও রোগ হলে প্রদাহ বাড়ে গোটা শরীরে। এর ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আবার উল্টোটাও সত্যি। ব্লাড সুগার বেশি হলে মাড়ির সমস্যা বাড়ে। তাই মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যবিধির দিকে নজর দিতে হবে।

৫. পণ্যের লেবেলকে বিশ্বাস করা

দোকান থেকে জিনিস কেনার সময়ে পণ্যের উপর ‘সুগার-ফ্রি’ বা চিনিমুক্ত লেখা দেখেই নিশ্চিন্ত হয়ে যান? কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাতে ভর্তি কার্বোহাইড্রেট থাকতে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে স্টার্চ এবং মিষ্টির অন্য কোনও উৎস। সেগুলি থেকে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তাই ভিতরে কী কী উপাদান রয়েছে, সে বিষয়ে ভাল করে পড়ে নেওয়া দরকার।

Advertisement
আরও পড়ুন