Suvendu Adhikari

টিকিট না-পাওয়া বিজেপির ১৬ জন প্রাক্তন বিধায়ককে বিধানসভায় ডেকে কথা শুভেন্দুর! আশ্বাস, দল ভাবছে

বিজেপির একটি সূত্র বলছে, শুভেন্দু ওই ১৬ জনকে জানিয়েছেন, তাঁদের কী ভাবে কাজে লাগানো হবে, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে। সেই নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের সঙ্গেও তিনি আলোচনা করছেন বলে খবর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ১৭:৫৩
Several EX BJP MLAs met CM Suvendu Adhikary in Assembly

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি টিকিট দেয়নি। তবে দল তাঁদের কথা ভাবছে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ডেকে প্রাক্তন ১৬ জন বিজেপি বিধায়ককে সেই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির একটি সূত্র বলছে, শুভেন্দু ওই ১৬ জনকে জানিয়েছেন, তাঁদের কী ভাবে কাজে লাগানো হবে, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে। সেই নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের সঙ্গেও তিনি আলোচনা করছেন বলে খবর।

Advertisement

বৃহস্পতিবার নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। প্রথম দিনের অধিবেশন শেষে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে যান বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতি, বিশ্বনাথ কারক, আশিস বিশ্বাস, মধুসূদন বাগ-সহ ১৬ জন। সূত্রের খবর, তাঁদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন শুভেন্দুই। বৈঠকে তাঁদের জানান, দল তাঁদের নিয়ে ভাবছে। তাঁদের প্রশাসন না কি সংগঠনের কাজে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। শুভেন্দু এ-ও জানান, এই বিষয়ে শমীক, সুনীলের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

মধুসূদন ছিলেন আরামবাগ সদরের বিধায়ক। বিশ্বনাথ ছিলেন গোঘাটের বিধায়ক। তাঁর দু’জনেই গত বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাননি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনটি বড় নির্বাচনে দক্ষিণবঙ্গে বিজেপির অন্যতম ‘ঘাঁটি’ হিসাবে দেখা দিয়েছিল যে আরামবাগ মহকুমা, সেখানে দু’টি জেতা আসনে প্রার্থী বদল করে বিজেপি। জেতা আসন আরামবাগ এবং গোঘাটে প্রার্থী বদলের মূল কারণ ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব’ বলে বিজেপির একটি সূত্র সে সময় দাবি করেছিল। মধুসূদন বা বিশ্বনাথের বিরুদ্ধে জনসংযোগ না-করা বা নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তেমন ছিল না। সাংগঠনিক কার্যকলাপে তাঁদের ভূমিকা ছিল না, তেমনও নয়। কিন্তু দলের অন্দরে ওই দুই বিধায়কের ‘বিরোধী’র সংখ্যাও ছিল যথেষ্ট। সেই ‘অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব’ এড়াতে এমন প্রার্থী বাছার চেষ্টা হয়, যাঁদের বিরুদ্ধে দলের অন্দরে খুব বেশি ‘বিরোধিতা’ নেই।

পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের বিধায়ক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁকেও টিকিট দেয়নি দল। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশ না মেনে রামমন্দির উদ্বোধনের দিনই অযোধ্যায় গিয়ে দর্শন করেছিলেন তিনি। রামমন্দির উদ্বোধনের দিন বিজেপি নেতা-কর্মীদের অযোধ্যায় না গিয়ে নিজেদের এলাকায় দিনটি উদ্‌যাপন করতে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরেও রবীন্দ্রনাথের পদক্ষেপে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

এ বার বাজেট অধিবেশন শুরুর দিন সেই ১৬ জন বিধায়ককে ডেকে কথা বললেন শুভেন্দু। প্রসঙ্গত, আগামী ২২ জুন নতুন সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করবেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এই বাজেট অধিবেশন ২৫ জুন পর্যন্ত চলবে। বাজেট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার অধিবেশনের পরে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর ঘরে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে গিয়ে কথাবার্তা বলেন তিনি। সূত্রের খবর, যোগ দিবসের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে শুক্রবার বিধানসভায় আসবেন না শুভেন্দু। অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার ইংরেজবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি আনুষ্ঠানিক ভাবে মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব নেন।

Advertisement
আরও পড়ুন